
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিয়ে নিয়ে বর-কনে দুইপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মোহাম্মদ বেলাল (৪০) নামে বরের চাচা নিহত হয়েছে। সে ক্যাম্প-৯ এর ব্লক-সি/১৯ এর আবু বক্করের ছেলে। এ সময় উভয় পক্ষের ৮ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে কনের চাচাতো ভাইসহ দু’জনকে আটক করেছে এপিবিএন।
আটকৃততরা হলো একই ক্যাম্পের মো: আরিফের ছেলে মো: আনোয়ার সাদেক ও তার সহযোগী আবদুর রহমানের ছেলে হারেসুর রহমান।
শনিবার রাত ৮টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটেছে। আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ৮ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: কামরান হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, শনিবার আনুমানিক রাত ৮টার দিকে বালুখালী পানবাজার পুলিশ ক্যাম্প-০৯ এর ব্লক সি/১৯ এ অবস্থিত শেডের সামনে মো: ইউনুসের ছেলে মো: ইদ্রিস (২৪) এর সাথে কনে খালেদা বিবির (১৬) পরিবারের সদস্যদের সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক আহত বরের চাচা মোহাম্মদ বেলালকে (৪০) এপিবিএন পুলিশ উদ্ধার করে তার্কিশ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আহতদের মধ্যে বরের পিতা মো. ইউনুস (৪৫), বরের চাচা মো. আইয়ুব (৩৫), প্রতিবেশী শিশু মো. উমর (৯), বরের মামা মো. আইয়ুব (২৭) ও সিরাজুল ইসলাম (৩৫), কনের বাবা আব্দুর রহমান (৫২), মামা হারেসুর রহমান(২০) এবং আনোয়ার সাদেক(২১)।
আহতদের মধ্যে মো. ইউনুছ, মো. উমর, মো. আইয়ুব ও মোঃ আব্দুর রহমানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ বছর ধরে বর মো. ইদ্রিসের সাথে কনে খালেদা বিবির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ঘটনার ৪ দিন আগে খালেদা ইদ্রিসের বাসায় চলে গেলে বরের পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে হয়। তবে এই বিয়ে মেনে নেয়নি কনে পক্ষ।
শনিবার বরের বাড়িতে অনুষ্ঠানের আয়োজন করলে কনে পক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে বর পক্ষের উপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়।
নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য উখিয়া থানার মাধ্যমে কক্সবাজারের সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। আটক দুইজনকে উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়। উখিয়া থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। ক্যাম্পে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে এপিবিএন সূত্র জানিয়েছে।
পাঠকের মতামত