
সাদ্দাম হোসাইন, হ্নীলা ॥
টেকনাফে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমারেখা নাফনদীর বুকে জেগে উঠা চর এবং জাদিমোরা এলাকার রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ৫টি বাণিজ্যিক ঘাটকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানাযায়, ইয়াবাসহ যাবতীয় মাদক ব্যবসা করে লাখপতি-কোটিপতি হওয়াদের বেপরোয়া কর্মকান্ড,অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের নিয়ে বিশেষ মহলের বাণিজ্য এবং সাগরপথে মালয়েশিয়ায় মানব পাচারের ঘটনায় অপহরণ এবং অপমৃত্যু টেকনাফ উপজেলাকে করেছে দেশব্যাপী আলোচিত-সমালোচিত। এসব অপরাধ কর্মকান্ড দমনের কঠোর নির্দেশনার পর আইন-শৃংখলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুক যুদ্ধ, ক্রসফায়ার, মাদকের বড় বড় চালান ও অস্ত্র উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত থাকায় এসব অপরাধী চক্র এখন কৌশল এবং গতিপথ পরিবর্তন করেছে। কিন্তু মানবতা বিধ্বংসী এসব কর্মকান্ড অব্যাহত থাকায় সীমান্তরক্ষী ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এদের দমনে হিমশিম খাচ্ছে বলে একাধিক সুত্রে জানা গেছে। টেকনাফের নাইট্যং পাড়া হতে পালংখালী সীমান্ত পর্যন্ত এলাকার চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ীরা এখন নাফনদীর বুকে জেগে উঠা জইল্যাদ্বীপ, লালদ্বীপ, চেয়ারম্যান দ্বীপ, মাঝের দ্বীপ, মাছ শিকারী জেলেদের কৌশলে ব্যবহার করে বড় বড় ইয়াবার চালান খালাস করছে। যা গত ২ সপ্তাহের মধ্যে দমদমিয়া বিওপি জওয়ানেরা পৃথকভাবে দেড় লাখ পিস ও ৮০ হাজার পিস এবং লেদা বিওপি জওয়ানেরা ৭০হাজার পিস ইয়াবার চালান জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে। উপজেলার অন্যান্য এলাকা দিয়ে এসব চালানের অনুপ্রবেশ হলেও দ্বীপে অবস্থানকারী লোকজনের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে এসব চালান ধরা না পড়ার নিশ্চয়তায় নাফনদীর দ্বীপ সমুহকে ব্যবহার করছে এই চক্রটি। তাছাড়া এসব দ্বীপে জলদস্যুদের আনা-গোনা দীর্ঘদিনের হলেও ইয়াবার চালান রক্ষার ব্যাপারে জলদস্যুরা তাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করে। জাদিমোরা এলাকার আদম ঘাট দিয়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের সময় আগেও কয়েকজনকে ইয়াবাসহ হাতে-নাতে আটকের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে দমদমিয়ায় অঘোষিত একটি আদম ঘাট ও জাদিমোরা এলাকায় নয়াপাড়া টু রাইম্যাঘোনা, নয়াপাড়া টু গউজিবিল, জাদিমোরা টু মাংগালা, দক্ষিণ জাদিমোরা টু পেরাংপুর এবং দক্ষিণ জাদিমোরা স্কুলপাড়া ঘাট টু দারোগাপাড়া ঘাটসহ মোট ৫টি বাণিজ্যিক আদম ঘাট রয়েছে। কারা কিভাবে এসব ঘাট পরিচালনা করছে তা সকলের অজানা নই। তবে এসব ঘাট সমুহ দিয়ে রোহিঙ্গারা চিকিৎসার সেবা, মালয়েশিয়া ও সৌদিয়া গমণের জন্য প্রবেশ করলেও মুলত ইয়াবার চালান বহন করছে বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এসব ঘাট সমুহ দিয়ে তথ্য পাচার, ডলার ও স্বর্ণ চালান আদান-প্রদান ও হয় বলে একাধিক সুত্র দাবী করছে। দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে এসব মাফিয়া চক্রের লোকজন সর্বনাশা মাদক ইয়াবার চালান দেশে ঢুকিয়ে দিয়ে পুরো জাতিকে ধ্বংস করার নীল নকশা তৈরী করছে বলে আশংকা করা হচ্ছে। টেকনাফে উপকূল, সীমান্ত ও আইন-শৃংখলা রক্ষায় নিয়োজিতদের নাফনদীর এসব চরাঞ্চল ও বানিজ্যিক আদম ঘাট সমুহের ব্যাপারে সজাগ থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন।
পাঠকের মতামত