সাগরপথে ট্রলারের গতি বাড়াতে ব্যবহার হচ্ছে বাসের ইঞ্জিন
বলরাম দাশ অনুপম, কক্সবাজার থেকে ॥
টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা পাচার অব্যাহত রয়েছে। সড়ক ও নৌ-পথে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারির মাঝেও নিত্য নতুন কৌশল অবলম্বন করে ইয়াবা পাচার অব্যাহত রেখেছে সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্র। সমুদ্র পথে টেকনাফ সীমান্তের একাধিক পয়েন্ট দিয়ে চট্টগ্রামে নিয়ে গিয়ে সেখান থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে ইয়াবা। এদিকে গত ৩ দিনে টেকনাফ ও চট্টগ্রামে প্রায় ১’শ কোটি টাকা মূল্যের ২১ লক্ষ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে বিজিবি, নৌ-বাহিনী ও র্যাব। তবে ইয়াবা পাচারের সাথে জড়িত গডফাদারদের আটক করতে পারেনি আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। জানা যায়-কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমার থেকে ইয়াবাগুলো বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিত্য নতুন কৌশল ও শত চেষ্টার মাঝেও এর লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। সীমান্ত-বাণিজ্য ব্যবহার করে মাদক চোরাচালানিরা কার্গো, গবাদিপশুর ট্রলার, ট্রানজিট ট্রলার, নাফ নদী ও সাগরে মাছ শিকারে যাওয়া নৌকার মাধ্যমে ইয়াবা দেশে আনছে। পরে তা বিধবা, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বেকার যুবক, রিকশাচালক, ভিক্ষুক ও রোহিঙ্গা নারীদের দিয়ে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানায়, টেকনাফ সীমান্তের কমপক্ষে ৪১টি স্থান দিয়ে মিয়ানমার থেকে প্রতিদিন ইয়াবা দেশে আসছে। মূল্য বাবদ প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা চলে যাচ্ছে মিয়ানমারের ইয়াবা ব্যবসায়ীদের হাতে। টেকনাফ স্থলবন্দরের পণ্যবাহী যানবাহন, সিএনজি চালিত অটো রিকশা, দূরপল্লার যাত্রীবাহী বাস-মিনিবাস, প্রাইভেট কার ও সমুদ্রগামী মাছ ধরার ট্রলার ইয়াবা পাচারেরর মূল মাধ্যম। পাচারকারীরা কৌশল হিসেবে অবলম্বন করে অভিনব সব পন্থা। তরকারির ব্যাগ, স্কুলব্যাগ, টিফিন ক্যারিয়ার, মাথার খোঁপা, ল্যাপটপ, মুঠোফোন, সিগারেট-আচার-পটেটো প্যাকেট, গর্ভবতী নারীর বেশ, জুতা ও শিশুদের খেলনাভর্তি ব্যাগ এই পন্থাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। ইয়াবার বড় চালান মিয়ানমার থেকে টেকনাফ সীমান্ত হয়ে সড়ক ও নৌ-পথে চলে যাচ্ছে কক্সবাজার, মহেশখালী, বাঁশখালী, আনোয়ারা, চট্টগ্রাম, খুলনা, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়। এদিকে গত মঙ্গলবার সেন্টমার্টিন দ্বীপ এলাকা থেকে ৩ লক্ষ পিস ইয়াবাসহ আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে ইয়াবা পাচারের চাঞ্চল্যকর তথ্য নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছেঠ-আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারির মাঝে পাচারকারীরা বদলিয়ে ফেলে তাদের কৌশল। আর নিত্য নতুন কৌশলের মাধ্যমেই অব্যাহত রেখেছে পাচার কাজ। সড়ক পথে পুলিশ, বিজিবি ও র্যাবের নজরদারি বাড়িয়ে দেয়ার কারণে বর্তমানে সুযোগ বুঝে সমুদ্র পথে ফিশিং ট্রলারে করে ইয়াবা পাচার চলছে। পাচারকালে ট্রলারের গতি বাড়াতে ট্রলারের সাধারণ ইঞ্জিন পরিবর্তন করে সেখানে বসানো হচ্ছে বাসের ইঞ্জিন। আর এ পদ্ধতিতে আইন শৃংখলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ইয়াবার বেশ কয়েকটি চালান মিয়ানমার থেকে টেকনাফ সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করায় সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্র। আর এমনি ভাবে টেকনাফ থেকে চট্টগ্রামে নেয়ার পথে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙর এলাকায় ১ নম্বর বয়ার কাছ থেকে ৮৩ কোটি টাকা মূল্যেও ১৫ লাখ পিস ইয়াবা জব্দ করেছে নৌ-বাহিনী। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি। নৌ-বাহিনী অ্যান্টি স্মাগলিং সেলের সদস্যরা একটি ট্রলার থেকে ইয়াবাগুলো জব্দ করে বলে নিশ্চিত করেছেন নৌ-বাহিনীর মিডিয়া উইং। এছাড়া বৃহস্পতিবার ভোরে টেকনাফের হ্নীলার লেদা এলাকা থেকে ২ কোটি ১০ লক্ষ টাকা মূল্যের ৭০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে বিজিবি। ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোঃ আবু জার আল জাহিদ সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে সেন্টমার্টিন দ্বীপের গভীর সাগর থেকে ৩ লাখ পিস ইয়াবাসহ ৪ পাচারকারীকে আটক করে র্যাব-৭। এ বিষয়ে এক প্রেস বিফ্রিং-এ র্যাব-৭ এর কক্সবাজার কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র এএসপি মোঃ দেলোয়ার হোসেন জানান-ইয়াবার একটি বড় চালান গভীর সমুদ্র পথে চট্টগ্রাম যাচ্ছে সোর্সের মাধ্যমে এ খবর নিশ্চিত হয়ে ৩ দিন ধরে সেন্টমার্টিনের দক্ষিনে ছেড়াদ্বীপে অবস্থান নেয় র্যাব এর একটি দল। মঙ্গলবার বিকালে ৩টি স্পীড বোটে করে গভীর সাগর থেকে ইয়াবাসহ এফবি ফাহমিদা নামে একটি ফিশিং বোট আটক করে র্যাব। পরবর্তীতে বোটের ইঞ্জিন রুম থেকে বিশেষ কৌশলে লোকানো অবস্থায় ৩ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। আটককৃতদের মধ্যে ৩ জন ইয়াবা পাচারকারীর বাড়ী টেকনাফে। বোটের চালক রফিকের বাড়ী ভোলা জেলায় চরফ্যাশনের বলে জানা গেছে।
পাঠকের মতামত