
সেলিম উদ্দীন, ঈদগাঁও, কক্সবাজার::
কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাঁও ভূমি অফিসের তহসিলদার, সহকারী তহসিলদার ও পিয়নের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ফরিয়াদিদের অভিযোগে জানা গেছে টাকা না দিলে নামজারী খতিয়ান দাখিলা কিছুই হয়না। ফরিয়াদিদের হয়রানী,অতিরিক্ত টাকা আদায়সহ নানা অনিয়মে সাধারণ লোকজন দিন দিন বিষিয়ে উঠেছেন। স্থানীয়রা এ ভূমি অফিস ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছেন অভিযোগের পাহাড়।
সূত্র জানায়, এ অফিসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় সংবাদ পত্রে একাধিকবার নানা অনিয়ম ও কর্মকান্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে কিছু কিছু সংবাদ কর্মীদের ম্যানেজ করে ধামাচাপা দেয়। ইউনিয়নের গজালিয়ার ফরিয়াদী মোহাম্মদ হোসেন জানান ভূমি অফিসের তহসিলদার নামজারী করতে ১০ হাজার টাকা, খতিয়ান বন্দোবস্তী ও দাখিলা কাটাতে আলাদা আলাদা টাকা দাবী করছেন। চৌফলদন্ডী খামার পাড়ার আমির হোসেন জানান, সহকারী ভূমিকর্মকর্তারা ১৫ হাজার টাকা নিয়ে এখনো খতিয়ানটি দেয়নি। পোকখালী আমান উল্লাহ জানান ভূমিকর্মকর্তাবাবুদের দাম্বিকতা সহ্য করা যাচ্ছেনা। তাদের কাছে ধনী গরীব কেউ রেহায় পাচ্ছেনা।
একাধিক ভুক্তভোগী ও ফরিয়াদীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এসব কর্মকর্তারা মোটা অংকের টাকা খরচ করে ঈদগাঁও ভুমি অফিসে বদলী হয়ে এসেছেন। তাদের সাফ কথা দান-খয়রাত করতে আসেননি। তাদের মর্জি মাপিক নির্দিষ্ট অংকের টাকা না দিলে দাখিলা, খতিয়ান, নামজারী কিছুই হয়না। এভাবে প্রতিনিয়ত ফরিয়াদীদের কাছ থেকে কলা কৌশলে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। অন্যদিকে জমি সংক্রান্ত অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ এ অফিসকে ঘিরে ইতিমধ্যে গড়ে তুলেছে স্থানীয় একাধিক দালাল ও ভূমিদস্যু। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তারা ভূমি অফিসের কর্মচারী কর্মকর্তারা সরকারী নীতিমালা তোয়াক্কা না করে গড়ে তুলেছেন দূর্নীতির আঁখড়া।
খোঁজ নিয়ে আরো জানা গেছে, ভূমি অফিসের জনৈক পিয়ন ফরিয়াদীদের কাছ থেকে খসড়া খতিয়ান, নামজারী সহ বিভিন্ন কাগজপত্র তুলে দেয়ার নামে হুমকি ধমকি ও অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে উল্টো গালমন্দ ও বকাঝকা করেন এ কর্তাবাবু। ফরিয়াদীরা টাকা না দিলে কাগজপত্র না দিয়ে উল্টো উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সামনে বড় গলায় চেচামেচি করেন। ফরিয়াদীদের দাবী ভূমি অফিসের তহসিলদারের সহযোগিতা পেয়ে পিয়নরাও যা ইচ্ছা তা করে যাচ্ছেন। খেলছেন বৃহত্তর ঈদগাঁওর ৬ ইউনিয়নের বিশাল এ জনগোষ্টির জায়গা জমি সংক্রান্ত দলিল দস্তাবেজ নিয়ে ছিনিমিনি। ভূমি অফিসের পূর্ণেন্দ বাবু অভিযোগ সত্য নয় দাবী করে একটি মহল তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে বলে জানান।
পাঠকের মতামত