
বিশেষ প্রতিবেদকঃ টেকনাফে মানব পাচার ও ইয়াবার কেরামতিতে মাত্র ৩ বৎসর আগের ফিশিং বোটের মাঝি আজ কোটি টাকার সম্পদের মালিক। মাত্র ৮ বৎসর পূর্বে বার্মা থেকে বাংলাদেশ এসে লেবার ও দিন মজুরের কাজ করত। বর্তমানে উখিয়ার থায়ংখালীতে এক চকে ৪০ কানি জমি, চট্টগ্রামের হালি শহর এলাকায় বিলাস বহুল নিজস্ব বাড়ী, টেকনাফের চকবাজার ও কানখার ডেইল এলাকায় কয়েকটি ভিটে বাড়ী জমিদারের আদলে চলাচলের শানই যেন আলীশান। রোহিঙ্গা নাকরিক হলেও বহন করেন বাংলাদেশী আইডি কার্ড। জমি-জামা, ঘর বাড়ী ও অভাব কয়েকশত মাইল দূরে চলে গেছে শুধু ইয়াবা এবং মানব পাচারের অবৈধ টাকার বিনিময়ে। এমনই একজন হচ্ছে হেফজুর রহমান মাঝি প্রকাশ হেফজ মাঝি, পিতা মৃত মোহাম্মদ কালু। ৮ বৎসর আগে থাকতেন মিয়ানমারের হাসসুরাতা পুরান বাজার এলাকায়।
কয়েক বৎসর আগে বাংলাদেশী জাতীয় পরিচয় পত্রে নিজের নাম ঠিক থাকলেও পিতার নাম লিখা হয় দলিল আহমদ। শাহপরীরদ্বীপ মিস্ত্রি পাড়ার দলিল আহমদের জমির কাগজ দেখিয়ে নিজেকে তার পুত্র সাজিয়ে পরিচয় পত্রে পিতার নাম দলিল আহমদ করেছে।
ভাগ্যের বদল হয় যেভাবে- ফিশিং বোটের মাঝির কাজের সুযোগে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা ও সাগর পথে অবৈধ মানব পাচারে জড়িয়ে পড়ে হেফজ মাঝি। সুযোগের সৎ ব্যবহার করে বহনের কাজ বাদ দিয়ে নয় নিজেই শুরু করে ব্যবসা। চট্টগ্রামের গহীরা থেকে সাগর পথে মালয়েশিয়া মানব পাচারে গড়ে তোলে বড় নেটওর্য়াক। টেকনাফ ককসবাজার থেকে প্রসারিত হয়ে তার নেটওর্য়াক ঢাকাসহ উত্তর বঙ্গ পযর্ন্ত গড়ায়। থাইল্যান্ডি জাহাজ নিজেই ভাড়া করে পাচার কাজ চালিয়ে পাচার জগতে প্রভাব বিস্তার করে। বাংলাদেশ থেকে সাগর পথে অবৈধ মালয়িশা গেলে তার মাধ্যমেই যেতে হবে এমন রাম রাজত্ব চলে আসে তার আয়ত্বে। ব্যবসা পরিচালনার সুবিধার্তে তার আপন ছোট ভাই মুহিববুল্লাহকেও একই পেশায় নিয়ে আসে। হেফজ মাঝির ভাই মুহিববুল্লাহ সেন্টমার্টিন থেকে প্রায় ২শ যাত্রী নিয়ে জাহাজে করে থাইল্যান্ড চলে যায়। সেখানে তিনি পুলিশের হাতে আটক হয়ে ৩ মাস পূর্বে বাংলাদেশে আসে। বর্তমানে টেকনাফ শিল বনিয়া পাড়ায় রয়েছে। হেফজ মাঝির আরেক সহযোগী মোহাম্মদ মাঝি। তিনিও একই কায়দায় অবৈধ মানব পাচার কাজের সাথে জড়িত।
কয়েকমাস পূর্বে বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী সেন্টমার্টিনের অদূরে বঙ্গোপ সাগর থেকে অবৈধ পথে মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রস্তুতিকালে সাগরে বাসমান জাহাজ থেকে ৬শ জন ভিকটিম উদ্ধার করে চট্টগ্রাম নিয়ে যায়। সে ৬শ জনের মধ্যে হেফজ মাঝি গং এর যাত্রী ছিল ৮ মহিলাসহ ৩শ ২০ জন। হেফজ মাঝিকে ১বৎসর পূর্বে আদম পাচারের ডন হিসাবে পুলিশ আটক করে টেকনাফ মডেল থানায় নিয়ে আসে। সেখান থেকে তিনি পরিচয় গোপন করে এক প্রভাবশালীর সহযোগীতায় ছাড়া পায়। হেফজ মাঝি প্রায় সময় চট্টগ্রামের গহিরা ও হালি শহর এলাকায় থাকে। টেকনাফ আসলেও প্রশাসনের চোখ ফাঁিক দিয়ে গ্রেফতার এড়াতে খুবই সতর্কভাবে চলাফেরা করে। টেকনাফের পরিচিত জনদের তাবলীগ জামাতে গিয়েছিল বলে অপরাধ ঢাকার চেষ্ঠা করে। এমনই হঠাৎ আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ, হঠাৎ চৌধূরী ও রাতারাতি জিরো থেকে হিরু বনেছে অনেক হেফজ মাঝি রয়েছে। তাদের ব্যাপারে প্রশাসনের নজরদারী ও অবৈধ সম্পদের হিসাব দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন টেকনাফের সচেতন মহল।
আগামী পর্বে আসছে আরেক হিরুর অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য। বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন…
পাঠকের মতামত