অনলাইন ডেস্ক::
বোরখা ব্যবসার আড়ালে তরুণ-তরুণী সংগ্রহ করতো জামায়াতুল মুজাহেদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্য শাকিল আহমেদ। খাগড়াগড় বিস্ফোরণ মামলায় আটক আসামের সাইখুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের পর এসব তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় গোয়েন্দারা। এদিকে আজ শনিবার এই বিস্ফোরণ মামলায় অভিযুক্ত শাহনুর আলমসহ তিনজনকে গোয়াহাটি থেকে এনে কলকাতার আদালতে পেশ করা হবে বলে জানা গেছে। শুক্রবার ট্রেনযোগে তাদের তিনজনকে নিয়ে ইতোমধ্যে রওনাও হয়ে গেছে এনআইএ। শাহনুর ছাড়া বাকি দুইজন হল- সাইখুল ইসলাম ও রফিকুল ইসলাম। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিজেদের হেফাজতে নিতে আজ আবেদন জানাবে এনআইএ।
ঘটনার গোড়া থেকেই এনআইএ দাবি করছে, শাহনুর বাংলাদেশ থেকে জঙ্গিদের জন্য অর্থ সংগ্রহ করে বর্ধমান ও মুর্শিদাবাদের আস্তানায় পৌঁছে দিত। এরই মাঝে তার সবক’টি ব্যাংক একাউন্টের তথ্য সংগ্রহ করেছে গোয়েন্দারা। এখন পর্যন্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী গোয়েন্দারা জানতে পেরেছে, বর্ধমান বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত জঙ্গি শাকিল আহমেদ ছিল সাইখুলের ঘণিষ্ঠ। বোরখা ব্যবসায় জড়িত ছিল সে। এই ব্যবসার আড়ালেই তরুণ-তরুণীদের দলে টানতো শাকিল। এদিকে গোয়েন্দারা জানিয়েছে, বাংলাদেশেরই কোনো গোপন আস্তানায় উলফার পরেশ বড়ুয়ার দলের সাথে জামায়াতুল মুজাহেদীনের বিশেষ বৈঠক হয়েছিল। ওই বৈঠকেই অস্ত্র আদান-প্রদানসহ নাশকতার ঘটনায় বিভিন্ন চুক্তি হয় দুই সংগঠনের মাঝে।
প্রসঙ্গত, গত ২ অক্টোবর বর্ধমানের খাগড়াগড়ের একটি বাড়িতে ওই বিস্ফোরণের ঘটনায় ২ জন নিহত ও একজন আহত হয়। ভারতীয় পুলিশ ধারণা করছে, ইম্প্রভিসড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) তৈরির সময় ওই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। কারণ পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রচুর পরিমাণ এমোনিয়াম নাইট্রেট, ডিজিটাল হাতঘড়ি, বিস্ফোরক ও বিস্ফোরক পদার্থ, তার ও ব্যাটারি এবং একটি আইইডি তৈরিতে যা লাগে সে সমস্ত বস্তু উদ্ধার করেছে। এদিকে সারদা কেলেঙ্কারি ও বর্ধমান বিস্ফোরণ ঘটনার তল খুঁজতে আরো একটি কেন্দ্রীয় সংস্থা- এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তদন্তে নামছে।
ইডি সূত্রে জানা গেছে, এই বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে লাখ লাখ টাকা। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এই টাকা বাংলাদেশ ও দুবাই থেকে কলকাতায় ঢুকেছে হুন্ডির মাধ্যমে। এ বিষয়টিও খতিয়ে দেখবেন ইডির তদন্তকারীরা। এছাড়া জঙ্গিদের মাধ্যমে কলকাতায় জাল টাকা ঢুকেছে বলেও প্রাথমিকভাবে মনে করছে ইডি। তদন্তকারীদের সন্দেহ, বর্ধমান বিস্ফোরণে বাংলাদেশ ও নেপাল হয়ে আসা জাল টাকারও একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। বর্ধমান ঘটনার পরে মৃত জঙ্গি শাকিলের স্ত্রী রাজিয়ার কাছ থেকে পাওয়া গেছে নগদ ৪৪ হাজার টাকা। তবে এ টাকা জাল নয়।
পাঠকের মতামত