প্রকাশিত: ০২/০১/২০১৫ ২:৫০ অপরাহ্ণ , আপডেট: ০২/০১/২০১৫ ৩:৪৩ অপরাহ্ণ

Ukhiya-Pic-12.9.141
নিউজ ডেস্ক::
সাগর পথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় মানব পাচারে মুল নিয়ন্ত্রক আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারি চক্রের এক নারী সহ ১১ জন। যারা মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারের বসেই নিয়ন্ত্রণ করছে এ পাচার কাজ। আর এদের অর্থের নেপথ্যে রয়েছে বাংলাদেশের ২৬ জন হুন্ডি ব্যবসায়ী। আর এ হুন্ডি ব্যবসায়ীরা আবার ইয়াবা পাচারের সাথেও সংশ্লিষ্ট। এ ২৬ জনের মধ্যে বেশ কয়েকজন উখিয়া টেকনাফের এক প্রভাবশালী নেতার নিকট আত্মীয়। পুলিশ হেডকোয়ার্টাসের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনে এমন তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
১৮ পৃষ্ঠার ওই তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০০ সালের শুরুতে মিয়ানমারের নাগরিক তজর মুল্লুক নামের এক জেলে সাগর পথে মালয়েশিয়া মানব পাচারের রুট সনাক্ত করে। তার সনাক্ত করা রুট ধওে ক্রমাগত ভয়াবহ রূপ নেয় এ মানবপাচার। আর এ আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারি চক্রের ১১ জনের পরিচয়ও দেয়া হয় প্রতিবেদনে। এরা হল, থাইল্যান্ড এর ফুডাবা জেলার রোনাং থানার থাংগুর পুত্র মং, চে’র পুত্র থেন, মিয়ানমারের চট্ট জেলার চট্টবার পাড়ার মৃত আবদুল মাবুদের পুত্র আবদুল গফুর, টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপের মিস্ত্রী পাড়ার জলিলুর রহমানের পুত্র বর্তমানে মালয়েশিয়ায় বসবাসকারি আবদুল আমিন, একই এলাকার মৃত ফজল হকের পুত্র মালয়েশিয়ায় বসবাসকারি আকতার হোসেন মাঝি, মৃত সুলতান আহাম্মদের পুত্র মিয়ানমারে বসবাসকারি দিল মোহাম্মদ, টেকনাফের দক্ষিণ নয়াপাড়ার আবদুল হাশিমের পুত্র স্বপরিবারের মালয়েশিয়ায় বসবাসকারি আনার আলী, টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালীর দুধু মিয়ার পুত্র স্বপরিবারের মালয়েশিয়ায় বসবাসকারি সলিম উল্লাহ, উখিয়া উপজেলার থাইংখালীর মৃত মৌলানা আবদুল করিমের পুত্র স্বপরিবারের মালয়েশিয়ায় বসবাসকারি মো. সুমন। এদের সাথে থাইল্যান্ডের মানাকিং নামের এক নারী জড়িত হয়ে মানবপাচারের ঘটনাটি শক্তিশালী করে।
এ আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারি চক্রের অর্থায়নে রয়েছে ২৬ জন। যারা বাংলাদেশের ভিন্ন ভিন্ন স্থানে বসে মানবপাচারের মতো ভয়াবহ এ বিষয়ের অর্থ লেনদেনে সহায়তা করছে। আবার এ ২৬ জন ইয়াবা ব্যবসার লেনদেনের সহায়তাকারি হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়। ২৬ জনের মধ্যে রয়েছে উখিয়া-টেকনাফের এক প্রভাবশালী নেতার নিকটজনও।
এরা হল, টেকনাফের চৌধুরীপাড়ার অং শ্যাং থা’র পুত্র উখিয়া-টেকনাফের এক প্রভাবশালী নেতার আত্মীয় বর্তমানে জেল হাজতে থাকা মং মং সেন, টেকনাফের ডেইল পাড়ার কালো মো. আলীর ৩ পুত্র নুরুল আমিন, মোহাম্মদ আমিন, আবদুল আমিন, লামারবাজার এলাকার হুন্ডি আবদুল জলিল, তার পুত্র মো. ইসমাইল, বাজারপাড়ার হাজি আলী হোসেনের পুত্র বাট্টা আয়ুব ও মো, ইউনুচ, টেকনাফের জালিয়াপাড়ায় জাফর আলম ওরফে টিপি জাফর, একই এলাকার শাহজাহানের পুত্র জাফর সাদেক, শাহপরীর দ্বীপের মৃত আবু শামা প্রকাশ বাড়– হাজির পুত্র হেলাল উদ্দিন, ইমাম শরীফের পুত্র ফাইসাল, রহিম উল্লাহর পুত্র আবদুল্লাহ, মৃত নবী হোসেনের পুত্র মো. জামাল, সাবরাংয়ের আছারবনিয়ার মৃত হাকিম আলীর পুত্র মো. হারুল, সাবরাংয়ের সিকদারপাড়ার মুচা আলীর পুত্র আবদুস শুক্কুর, টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরী পাড়ার মো. ইসমাইলের পুত্র মো. ইসলাম, টেকনাফ বাস স্টেশনের মুদির দোকানদার হামিদ হোসেন, সাবরাংয়ের আচারবনিয়া এলাকার বো আলীর পুত্র মুফিজুর রহমান, টেকনাফের আল জামিয়া মাদ্রাসার সামনের ফার্মেসীর আবু বক্কর, নাইট্যংপাড়ার ফজল আহমদের পুত্র আবু বক্কর, টেকনাফের কুলাল পাড়ার শমসুল হুদার পুত্র নুরুল আবসার, ঢাকার গুলশান নিকেতনে বসবাসকারি ল্যাড়া জহিরের পুত্র জুবাইর হোসেন, চট্টগ্রামের খুলশীতে বসবাসকারি পিচ্চি আনোয়ার ও ইসলাম, কক্সবাজারের মৃত নুরুল ইসলামের পুত্র আবদুল্লাহ।
আন্তর্জাতিক চক্রের ৩৭ জনকে ঘিরে দেশের ৩০০ দালাল ৬০ টি চিহ্নিত পয়েন্ট দিয়ে মানব পাচার অব্যাহত রেখেছে।
চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত এ তদন্ত কমিটি মানব পাচার নিয়ন্ত্রণে আনতে আট দফা সুপারিশও করেছে।
কমিটির প্রধান চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) বনজ কুমার মজুমদার জানিয়েছেন, কারা মানব পাচারের গডফাদার, কারা এতে অর্থায়ন করছে, কীভাবে পাচার কার্যক্রম সংগঠিত হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়গুলো উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। কক্সবাজার রিপোর্ট

পাঠকের মতামত

সফরে বিনোদনের পাশাপাশি জীব-বৈচিত্র্য সম্পর্কে জানার সুযোগ পেয়েছে উখিয়া কলেজ শিক্ষার্থীরা

সফরে বিনোদনের পাশাপাশি জীব-বৈচিত্র্য সম্পর্কে জানার সুযোগ পেয়েছে উখিয়া কলেজ শিক্ষার্থীরা

পলাশ বড়ুয়া:: উখিয়া কলেজের বার্ষিক শিক্ষা সফর-২০২৫ সম্পন্ন হয়েছে আজ। নানা কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে প্রায় ...