
অনলাইন ডেস্ক:
মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলামের ফাঁসির রায় ঘোষণা করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে এ মামলায় ১৮ সেপ্টেম্বর উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। ওই দিন থেকে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষা করছে। অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে আজহারের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছে প্রসিকিউশন। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি দাবি করে তার খালাস চেয়েছে আসামি পক্ষ।
আজহারের বিরুদ্ধে রংপুর অঞ্চলে গণহত্যা চালিয়ে এক হাজার ২২৫ ব্যক্তিকে হত্যা, ১৭ জনকে অপহরণ, একজনকে ধর্ষণ, ১৩ জনকে আটক ও নির্যাতন এবং শতাধিক বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠনের অভিযোগ রয়েছে। ছয় অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে আজহারের বিচার হয়।
অভিযোগসমূহ :
প্রথম অভিযোগ, ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চ থেকে ২৭ মার্চের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, ন্যাপ (ভাসানী) নেতা ও রংপুর শহরের বিশিষ্ট আয়কর আইনজীবী এ ওয়াই মাহফুজ আলীসহ ১১ জনকে অপহরণ, আটক ও শারীরিক নির্যাতন। এরপর ৩ এপ্রিল রংপুর শহরের দখিগঞ্জ শ্মশানে নিয়ে ব্রাশফায়ার করে তাদের হত্যা করা হয়।
দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, আজহার ১৬ এপ্রিল নিজ এলাকা রংপুরের বদরগঞ্জ থানার ধাপপাড়ায় ১৫ জন নিরীহ, নিরস্ত্র বাঙালিকে গুলি করে হত্যা, গণহত্যা, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ করেন।
তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়, আজহার ১৭ এপ্রিল নিজ এলাকা রংপুরের বদরগঞ্জের ঝাড়ুয়ারবিল এলাকায় এক হাজার ২০০-এর বেশি নিরীহ মানুষ ধরে নিয়ে হত্যা, গণহত্যা, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ করেন।
চতুর্থ অভিযোগে বলা হয়, ১৭ এপ্রিল কারমাইকেল কলেজের চারজন অধ্যাপক ও একজন অধ্যাপকের স্ত্রীকে কলেজ ক্যাম্পাস থেকে অপহরণ করে দমদম ব্রিজের কাছে নিয়ে গুলি করে হত্যা করেন।
পঞ্চম অভিযোগে বলা হয়, ২৫ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে রংপুর শহর ও বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নারীদের ধরে এনে টাউন হলে আটকে রেখে ধর্ষণসহ শারীরিক নির্যাতন চালান। একই সঙ্গে মহিলাসহ নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালিদের অপহরণ, আটক, নির্যাতন, গুরুতর জখম, হত্যা ও গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন আসামি।
ষষ্ঠ অভিযোগে বলা হয়, নভেম্বরের মাঝামাঝি রংপুর শহরের গুপ্তপাড়ায় একজনকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। ১ ডিসেম্বর রংপুর শহরের বেতপট্টি থেকে একজনকে অপহরণ করে রংপুর কলেজের মুসলিম ছাত্রাবাসে নিয়ে আটক রেখে অমানুষিক নির্যাতন ও গুরুতর জখম করেন।
মামলার ধারাবাহিক কার্যক্রম: এ মামলার যুক্তিতর্ক শুরু হয় গত ২৭ আগস্ট থেকে। গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে গত ৬ জুলাই শেষ হয়। আজহারের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা এম ইদ্রিস আলীসহ প্রসিকিউশনের ১৯ জন সাক্ষী। তবে এদের মধ্যে সপ্তম সাক্ষী আমিনুল ইসলামকে বৈরী ঘোষণা করেছে প্রসিকিউশন। আসামি পক্ষে একমাত্র সাফাই সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন আনোয়ারুল হক। ১২ নভেম্বর ছয়টি অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আজহারের বিচার শুরু হয়। গত বছরের ২৫ জুলাই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। এর আগে ১৮ জুলাই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। তদন্ত শুরু হয় ২০১২ সালের ১৫ এপ্রিল। ট্রাইব্যুনালের আদেশে ২০১২ সালের ২২ আগস্ট আজহারকে গ্রেফতার করা হয়।
পাঠকের মতামত