
সেলিম উদ্দিন, ঈদগাঁও, কক্সবাজার:
কক্সবাজার সদর উপজেলার পোকখালীর ফুলছড়ি মোহনায় জলদস্যুদের উপদ্রুব বৃদ্ধি পেয়েছে। বঙ্গোপসাগরের মহেশখালী চ্যানেলে ফুলছড়ি মোহনা কার্গো ট্রলার শ্রমিক, চিংড়ি ঘের ও জেলেদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গত ১ মাস ধরে এ পয়েন্টে জলদস্যুদের অত্যাচার বেড়ে চলছে। পুলিশ প্রশাসন ও কোস্ট গার্ডের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিনই ঘটছে ডাকাতির ঘটনা। সদরের উপকূলীয় ইউনিয়ন পোকখালীর গোমাতলী ঘুরে এ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে সঙ্গবদ্ধ জলদস্যুরা।
জানা গেছে, এ মোহনায় ৩/৪ টি বাহিনী ছোট ছোট ইঞ্জিন বোট দিলে রাত হলে চালায় লুটতরাজ। এরপরও ইসলামপুর লবণ মিলগামী কার্গো বোট, স্থানীয় জেলেরা জীবনের তাগিদে ঝুঁকি নিয়ে চলছে। সূত্র জানিয়েছে এ মোহনায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও কোস্ট গার্ডের কোন তৎপরতা না থাকায় জলদস্যুরা এসব অপকর্ম চালাচ্ছে।
বর্ণিত ইউনিয়নের ঘোনা পাড়ার বাসিন্দা আলম জানান, পশ্চিম পোকখালী স্লুইচ গেইট থেকে নৌকা যোগে রাতে মহেশখালী পার হতে গিয়ে সাধারণ মানুষ জলদস্যুদের কবলে পড়েন। এছাড় ভারুয়াখালী, চৌফলদন্ডী, মহেশখালী থেকে ছেড়ে যাওয়া কার্গো বোটকে আটকে তাদের সব কিছু কেড়ে নেয়। একই ইউনিয়নের পশ্চিম গোমাতলী চর পাড়ার বাসিন্দা আমিন জানান, প্রতিদিন ৬ নং স্লুইচ গেইট এলাকায় খেয়া বোটের যাত্রীরা জলদস্যুদের কবলে পড়ে সর্বস্ব হারাচ্ছে।
কার্গো বোট চালকরা জানান, মহেশখালী চ্যানেলের চৌফলদন্ডী, পশ্চিম পোকখালী, ফুলছড়ি মোহনা, কাউয়ারদ্বীয়া, ছিরাদ্বীয়া এলাকায় প্রায় নৌ ডাকাতির পাশাপাশি চিংড়ি ঘের ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। এসব পথে রাত দিন শত শত ইঞ্জিন বোট, মাছ ধরার নৌকা চলাচল করে।
বোট শ্রমিক কাশেম জানায়, বেশিরভাগ ডাকাতির ঘটনা ঘটে রাতে। সম্প্রতি তাদের টার্গেট ছোট ছোট লবণ বোঝাই কার্গো বোট ও মোহনার আশপাশের চিংড়ি ঘের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চৌফলদন্ডী থেকে ফুলছড়ি ইসলামপুর লবণ ঘাট পর্যন্ত কমপক্ষে ৩/৪ টি বাহিনী রয়েছে। যারা রাতে বোট, মাছধরার নৌকা, চিংড়ি ঘের ডাকাতির সাথে জড়িত। সবচেয়ে বেশি টার্গেট থাকে কার্গো বোট। তারা সংশ্লিষ্ট নদীর মোহনায় কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় ট্রলার চালক, মাছ ধরার নৌকা ও জেলে চরম নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে তারা কক্সবাজার পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। উল্লেখ্য এ মোহনায় গত ১ মাস ধরে বেশ কটি চিংড়ি ঘের ডাকাতি ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায়ও ফাঁকা গুলিবর্ষণ করার খবর পাওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের আইসি (উপ পরিদর্শক) মিনহাজ মাহমুদ ভুইয়া দস্যুদের আস্তানার খবর পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আশ্বস্থ করেন।
পাঠকের মতামত