
কালের কন্ঠ::
বাবার হাত ধরে ১৯৭৮ সালে মিয়ানমারের মংদু থানার নাগপুরা ইউনিয়নের কুয়ারবিলা গ্রাম থেকে সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশের কক্সবাজারে এসেছিলেন সালাউল ইসলাম। তাঁর বাবা হাফেজ জিয়াউল হক রোহিঙ্গা। এ দেশে আসার পর কেটে গেছে ৩৬ বছর। এই দীর্ঘ সময় সালাউল ইসলাম বা হাফেজ সালাউল কক্সবাজার ও বান্দরবানকে কেন্দ্র করে জঙ্গি তৎপরতার জাল বুনেছেন। ধীর পরিকল্পনায় রোহিঙ্গাদের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (আরএসও) প্রধান সামরিক কমান্ডার হয়ে উঠেছিলেন। এখনো সংগঠনটির কার্যকর নেতৃত্ব তাঁ র হাতেই। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্য ও আফগানিস্তানের উগ্রপন্থী ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে সুদৃঢ় মতাদর্শিক যোগাযোগ রয়েছে তাঁর। তাঁদের কাছ থেকে আর্থিক ও আদর্শিক সমর্থন পান তিনি।
অনুসন্ধানকালে জানা গেছে, কক্সবাজার ও বান্দরবানে সরকারি জমি দখল করে একের পর এক মাদ্রাসা নির্মাণ করেছেন সালাউল। এসব মাদ্রাসায় রোহিঙ্গা জঙ্গি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন ইসলামী জঙ্গিবাদী সংগঠনের সদস্যদের জন্য প্রশিক্ষণ ক্যাম্প গড়ে তোলেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে থ্রি মার্ডারের একটি মামলাসহ কয়েকটি মামলায় পুলিশ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে। কিন্তু তিনি প্রকাশ্যেই চলাচল করেন; অব্যাহত রেখেছেন তাঁর জঙ্গি কার্যক্রম। বিপুল তাঁর শক্তি-সামর্থ্য। জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি, আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী একজন সংসদ সদস্য এবং বিএনপি ও ইসলামী ঐক্যজোট নেতারা পাশে থাকায় তাঁর টিকিটিও ছুঁতে পারে না স্থানীয় পুলিশ।
হাফেজ সালাউলের কর্মকাণ্ডে উদ্বিগ্ন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। অনেকবার তাঁর ব্যাপারে উচ্চপর্যায়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে, কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, সালাউল যেকোনো সময় ৫০ হাজার রোহিঙ্গাকে মাঠে নামিয়ে বিশৃঙ্খলা ঘটাতে সক্ষম। বান্দরবান ও কক্সবাজারকে সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার নীলনকশা নিয়ে আরএসওসহ একাধিক জঙ্গি সংগঠন সক্রিয়। তাদের কার্যক্রম কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না।
গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তির দাবিতে জামায়াত-শিবির কক্সবাজারে তাণ্ডব চালায়। ওই তিনজনকে হত্যা করা হয়। এর সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগসহ গত ১৩ নভেম্বর পুলিশ সালাউলের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আরো চারটি মামলা বিচারাধীন।
আরএসওর সাবেক প্রধান কমান্ডার হাফেজ সালাউল বাংলাদেশের কক্সবাজার ও বান্দরবান এবং মিয়ানমারের একটি অংশ নিয়ে ‘স্বাধীন আরাকান ইসলাম’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশে বসে জঙ্গিবাদী নেটওয়ার্ক গড়েছেন।
হাফেজ সালাউল বৃত্তান্ত
মিয়ানমারের মংদু থানার নাগপুরা ইউনিয়নের কুয়ারবিলা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন সালাউল ইসলাম। ১৯৭৮ সালে তিনি বাবার সঙ্গে বাংলাদেশে আসেন। মৃত হাফেজ জিয়াউল হক ও মৃত ছাবেদা খাতুনের ছেলে সালাউল। সৌদি আরবের রিয়াদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা নেন তিনি। একসময় আরএসওর প্রধান সামরিক কমান্ডারের দায়িত্ব পান তিনি। মধ্যপ্রাচ্য ও আফগানিস্তানের আল-কায়েদাসহ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ রয়েছে তাঁর।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, কক্সবাজারের লিংক রোডে দক্ষিণ মহুরিপাড়ায় সরকারের বন বিভাগের সাত একর ও স্থানীয় মানুষের তিন একরসহ মোট ১০ একর জায়গা দখল করে সেখানে গড়ে তোলেন ইমাম মুসলিম (রা.) ইসলামিক সেন্টার। কার্যত ওখান থেকেই আরএসওর সব কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পর সালাউলের উত্থান শুরু হয়।
২০১২ সালের জুন মাসের শুরুতে মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে সংঘটিত সহিংসতায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও)। ওই বছরের ৮ জুন হাফেজ সালাউলের জন্মস্থান মংদুর কোয়ারবিল মাদ্রাসায় জুমার নামাজের খুতবায় স্বাধীন ইসলামী আরাকান রাষ্ট্রের ঘোষণা দেন হাফেজ সালাউল ইসলামের ভাই কোয়ারবিল মাদ্রাসার মোহতামিম হাফেজ হুজ্জাতুল ইসলাম। কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলাকে স্বাধীন আরাকান রাজ্যের ভূখণ্ড হিসেবে পেতে চায় আরএসও। আরএসওর ওই ঘোষণার সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে মিয়ানমারের আরো চারটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (আরএনও), আরাকান রোহিঙ্গা ডেমোক্রেটিক অর্গানাইজেশন (এআরডিও), আরাকান মুভমেন্ট ও আরাকান পিপলস ফ্রিডম পার্টি। মিয়ানমারের বাইরে ভারত ও বাংলাদেশের হরকাতুল জিহাদসহ কয়েকটি জঙ্গি সংগঠন আরএসওকে সামরিক সহায়তা দেয় বলে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ধারণা। সূত্র জানায়, কক্সবাজার ও বান্দরবানকে ঘিরে আরএসও ভয়ংকর এক পরিকল্পনা করেছে। মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী এ সংগঠন স্বাধীন ইসলামী আরাকান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি ছক নিয়ে এগোচ্ছে। আরএসওর স্বাধীনতার ঘোষণার প্রতি যেসব সংগঠন সমর্থন জানিয়েছে সেগুলোর মধ্যে ‘অ্যাসেম্বলি অব রোহিঙ্গা অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ’ও রয়েছে। প্রসঙ্গত, ‘অ্যাসেম্বলি অব রোহিঙ্গা অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ’ নামের সংগঠনের আরবি ভাষায় লেখা এক চিঠিতে হাফেজ সালাউলকে সংগঠনটির সভাপতি উল্লেখ করা হয়েছে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কক্সবাজারের নাইক্ষ্যংছড়ির গর্জনিয়া এলাকার কচ্ছপিয়া গ্রাম, টেকনাফের বাহারছাড়া ও শাপলাপুর, উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প, রামুর পোকখালী, লেঙ্গুরছড়ি, কাউয়ারখোপ ও জোয়ারিয়ানালা এবং মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী নাইক্ষ্যংছড়ি, লামা, আলীকদমে হাফেজ সালাউলের অনুসারীদের শক্ত ঘাঁটি রয়েছে।
জানা গেছে, আরএসও জঙ্গিরা তাদের নেটওয়ার্কের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছে কক্সবাজারের দুটি শরণার্থী ক্যাম্পকে। রোহিঙ্গা জঙ্গি আলী জোহার, হাজি ফজল, রফিক আহমদ, হাফেজ নয়ন, লালু ডাক্তার, শামসু মাঝি, হাফেজ জালাল, মৌলানা শফিউল্লাহ, নুরুল হক মাঝি, নূর মোহাম্মদ, আবদুল রশিদ, মোহাম্মদ সায়েদ, আবু কাদের, আবু ইয়াহিয়া, হামিদ, রুহুল আমিন, আবদুল্লাহ মোহাম্মদসহ অনেক জঙ্গি অবৈধভাবে ক্যাম্পে অবস্থান করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা জঙ্গিদের শতাধিক সদস্য কক্সবাজার ও বান্দরবানের বিভিন্ন স্থানে মসজিদে ইমাম-মুয়াজ্জিন হিসেবে কাজ করছে। তাদের মধ্যে বেশ কিছু আফগানিস্তান ফেরত জঙ্গিও রয়েছে।
জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২১ মার্চ টেকনাফের হ্নীলার একটি মাদ্রাসায় গোপনে বৈঠক করার সময় হাফেজ সালাউলকে পুলিশ আটক করে। গত বছর জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির রায়ের পর তাঁর মুক্তির দাবিতে জামায়াত-শিবির কক্সবাজারে তাণ্ডব চালায়। এতে তিনজন নিহত এবং কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও ১৯ জন পুলিশসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। ওই ঘটনায় দায়ের করা তিন মামলায় হাফেজ সালাউলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে তিনি জামিন পান।
গত বৃহস্পতিবার ওইসব মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পুলিশ। হাফেজ সালাউল এখন রোহিঙ্গাদের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ‘জামায়াতুল আরাকান’ ও ‘অ্যাসেম্বলি অব রোহিঙ্গা বাংলাদেশ’-এর প্রধান।
সালাউলের আছে তিনটি বাংলাদেশি পাসপোর্ট। এসব পাসপোর্ট দিয়ে তিনি বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তান, ভারত, সৌদি আরব, দুবাই, ইয়েমেন, কাতার, ইরান, ইরাক, লিবিয়া, ওমান, মিসর, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশ সফর করেছেন। পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও কয়েকটি আরব দেশে তাঁর অনুসারীরা জঙ্গি প্রশিক্ষণ নিয়েছে।
নেপথ্যে সর্বদলীয় নেতারা
অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাফেজ সালাউলের কর্মকাণ্ড নিয়ে কক্সবাজার-বান্দরবানে সক্রিয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো একাধিক প্রতিবেদন পাঠিয়েছে ঢাকায়। তবে গোয়েন্দাদের উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা খুব বেশি আমলে নেয়নি সরকার। এর কারণ সালাউলের সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের গভীর সখ্য।
সম্প্রতি কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দুর্নীতির মামলায় ১৮ দিন হাজত খেটে কক্সবাজারে যান। কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে ৪০০ গাড়ি নিয়ে আবদুর রহমান বদিকে বিশাল সংবর্ধনা দিয়ে বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়। এই শোডাউনের মূল দায়িত্বে ছিলেন হাফেজ সালাউল। সালাউলের সঙ্গে আবদুর রহমান বদির সখ্য গভীর।
হাফেজ সালাউলের ইমাম মুসলিম (রা.) ইসলামিক সেন্টার নামের যে মাদ্রাসাটি আরএসওর ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়, সেটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট এ কে আহম্মাদ হোসেন। সালাউলের সঙ্গে তাঁর সখ্যের সাক্ষী হাস্যোজ্জ্বল অনেক ছবি কালের কণ্ঠের কাছে আছে। সালাউলের আশ্রয়দাতা হিসেবে আহাম্মদ হোসেন ছাড়াও রয়েছেন জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. জহিরুল্লাহ, ওলামা দলের জেলা সভাপতি মাওলানা আলী আহসান, জেলা ইসলামী ঐক্যজোট নেতা ও হেফাজতে ইসলাম নেতা মুফতি এনামুল হক, জেলা ইসলামী ঐক্যজোট সভাপতি হাফেজ সালামত উল্লাহ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মো. ইসমাইল। সালাউলের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করছেন জেলা ছাত্রলীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম সাহেল।
এ ব্যাপারে আহম্মাদ হোসেন বলেন, ‘হাফেজ সালাহুল (সালাউল) মাদ্রাসার মূল কমিটির আমি সদস্য ও এতিমখানার সভাপতি। সাত বছর বয়সে সালাহুল এ দেশে আসেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে পড়াশোনা করে সৌদি আরবের রিয়াদে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন। বাংলাদেশের ১০ জন শীর্ষ আলেমের একজন তিনি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, গোয়েন্দারা জামায়াতের পয়সা খেয়ে তাঁকে জঙ্গি বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমরা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করি। তা না হলে জামায়াতে ইসলামী তাঁকে অর্থের বিনিময়ে দলে ভিড়িয়ে নেবে এবং শক্তিশালী হয়ে উঠবে। তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ যে অভিযোগে চার্জশিট দিয়েছে, তা আদৌ সত্য নয়। সালাহুলকে ঢাকায় নিয়ে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার কর্তারা পাঁচ দিন ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন, পরে দোয়াপ্রার্থী হয়ে তাঁকে ছেড়ে দিয়েছেন। সরকারি দলের জেলা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে থেকে এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে চাই না।’
হাফেজ সালাউলের আরেক ঘনিণ্ঠ সহচর জেলা ইসলামী ঐক্যজোট ও হেফাজতে ইসলাম নেতা মুফতি এনামুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি স্বাস্থ্যগত কারণে এবং তাদের কর্মকাণ্ড পছন্দ না হওয়ায় দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছি।’
জেলা ইসলামী ঐক্যজোটের সভাপতি হাফেজ সালামত উল্লাহ বলেন, ‘আমরা সালাহুলের একটি মাত্র কমিটিতে শুরা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। তাঁর আরো অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেগুলোর ব্যাপারে তেমন কিছু জানা নেই।’
একাধিক মাদ্রাসায় অর্থ আসে হুন্ডির মাধ্যমে
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১২টি মাদ্রাসা ও ১৫টি মসজিদ রয়েছে হাফেজ সালাউলের নিয়ন্ত্রণে। মসজিদগুলোর বেশির ভাগের অবস্থান রোহিঙ্গাদের জন্য জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ইউএনএইচসিআর-পরিচালিত নিবন্ধিত ক্যাম্প উখিয়ার কুতুপালং ও অনিবন্ধিত ক্যাম্প টেকনাফের শামলাপুরে।
জানা গেছে, ইমাম মুসলিম (রা.) ইসলামিক সেন্টার নামের মাদ্রাসাটি একটি টিনশেড ও ছোট একটি মসজিদ দিয়ে শুরু হয়েছিল। এখন রয়েছে একটি একতলা ভবন, দুটি তিনতলা ভবন, দুটি অত্যাধুনিক চারতলা ভবন, একটি টিনশেড ভবন ও একটি দোতলা অত্যাধুনিক মসজিদ। মাদ্রাসা কম্পাউন্ডেই সালাউলের জন্য একটি অত্যাধুনিক বাসভবন নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি নিজের চলাফেরার জন্য একটি মাইক্রোবাস ব্যবহার করেন। বর্তমানে মাদ্রাসায় ৬০০-রও বেশি ছাত্রছাত্রী এবং ৬০ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন।
ওই মাদ্রাসা এবং আরো ১২টি মাদ্রাসায় প্রতি মাসের খরচ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে হুন্ডির মাধ্যমে। এসব মাদ্রাসা ও মসজিদের জন্য আয়-ব্যয়ের বিষয়ে সরকারি কোনো সংস্থার তদারকি নেই। ইমাম মুসলিম ইসলামিক সেন্টারের নামে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের কক্সবাজার শাখায় (হিসাব নম্বর-১০৬৮) ও একই প্রতিষ্ঠানের আওতাধীন ওমাইর এতিমখানার নামে ঢাকা ব্যাংকের কক্সবাজার শাখায় (হিসাব নম্বর-৮১.২০০.৭১০৩) হিসাব রয়েছে। অথচ ওই দুই ব্যাংক হিসাবে কোনো লেনদেন হয় না বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, ইমাম মুসলিম (রা.) ইসলামিক সেন্টার মাদ্রাসার বেশির ভাগ শিক্ষক আহলে হাদিস মতাদর্শী। মাদ্রাসায় মাঝেমধ্যেই দেশ-বিদেশের আহলে হাদিস মতাদর্শী লোকজন গিয়ে সভা-সেমিনার ও বৈঠক করে। মাদ্রাসাটির উত্তর-পশ্চিম পাশে রয়েছে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম হাইওয়ের লিংক রোডের কাছে কক্সবাজার সরকারি কলেজ ও কক্সবাজার কলেজিয়েট স্কুল। শিবির-ক্যাডার ভিপি বাহাদুরের প্রতিষ্ঠিত একটি জুনিয়র হাই স্কুলও রয়েছে সেখানে।
পাঠকের মতামত