মাহমুদুল হক বাবুল, উখিয়া::
উখিয়ার উপকূল দিয়ে পুলিশ-বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে চলছে অবৈধ মানবপাচার। স্থানীয় মানব পাচারকারীরা রাতের আধাঁরে এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় দালালরা এলাকার সহজ সরল লোকজনদের প্রলোভনে ফেলে এবং জোর করে সাগর পথে মালয়েশিয়ায় পাচার করে থাকে। যার ফলে এলাকার সাধারণ মানুষ আতঙ্কে দিনাতিপাত করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। মালয়েশিয়া মানব পাচারকারী দালাল বেলাল আহমদ, মনখালী গ্রামের কামাল হোসেন, পশ্চিম সোনাইছড়ি গ্রামের আবুল কালাম, রুস্তম আলী, ফরিদ মাঝি, আবু ছিদ্দিক, মুজিবুল হক, আলী আকবর, জুম্মা পাড়া গ্রামের নুরুল আলম, সালাম, ভোতাইয়া, নলবনিয়া গ্রামের সোনালী দীর্ঘদিন ধরে মানব পাচার চালিয়ে যাচ্ছে। মানব পাচার করে তারা রাতারাতি কোটিপতির তালিকায় নাম লিখিয়েছে। উক্ত দালালরা উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের জুম্মা পাড়া গ্রামের বদি আলমের ছেলে আবদুল্লাহ আল মামুন (১৫)কে জোর পূর্বক ধরে নিয়ে সাগর পথে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা করে দেয়। সাগর পথে মালয়েশিয়া পাচারের সময় আবদুল্লাহ আলম মামুন নিহত হয়েছে বলে তার মা ছকিনা খাতুন অভিযোগ করে জানিয়েছেন। ছকিনা বলেন, উক্ত দালালরা আমার ছেলের মতো অনেককে জোর পূর্বক মালয়েশিয়া পাঠানোর নামে সাগরে ফেলে দিয়েছে আবার অনেককে থাইল্যান্ডে আটকে রেখে নির্যাতন চালাচ্ছে। এ ব্যাপারে থানায় দালালদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে ছকিনা বেগম জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, মালয়েশিয়া মানব পাচারকারী দালালরা পুলিশের চোখকে ফাঁকি দিয়ে এ ধরনের জঘন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ ও বিজিবি দিবারাত্রি সাগর পাড়ে টহল দিয়ে যাচ্ছে এবং পুলিশ চিহ্নিত মানব পাচারকারীদের আটক করে জেল হাজতেও পাঠাচ্ছে। আর কত মানুষ লাশ হলে মালয়েশিয়ায় মানব পাচার বন্ধ হবে।
উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ অংসা থোয়াই বলেন, মানব পাচার প্রতিরোধে পুলিশ সবসময় প্রস্তুত রয়েছে এবং মানব পাচারকারীকে আটক করে জেল হাজতেও পাঠানো হচ্ছে। মালয়েশিয়ায় পাচারের সময় নিহতের ব্যাপারে আমার কাছে কোন লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাঠকের মতামত