
ইমাম খাইর:
মানবপাচারে জেলার প্রসিদ্ধ দালাল ও উখিয়া উপজেলার সোনারপাড়া এলাকার গডফাদার রেজিয়া আক্তার রেবি ওরফে ম্যাডামের দৌরাত্ন বেড়ে গেছে। এককালে বীমা কোম্পানী চাকরী করে কোন রকম দিন কাটালেও মানবপাচারে ‘ম্যাডাম’ খ্যাত এই নারীটি এখন পুলিশের খাতায় ‘মোষ্ট ওয়ান্টেড’ আসামী। তিনি শুধু একা মানবপাচারকারী নন। স্বপরিবারে মানবপাচারকারী কুখ্যাত এই ‘ম্যাডাম’ এখন নব্য এরশাদ সিকদার। তিনি ও তার স্বামী নুরুল কবিরের নেতৃত্বে রয়েছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। অসংখ্য গোপন আস্তান থাকায় তাকে সহজেই খোঁজে পাওয়া যায়না। তার খপ্পরে অনেক নিরীহ মানুষের সুখের ঘরে দুঃখের আগুন ধরেছে। প্রশাসনের ধার ধারেননা ম্যাডাম! শক্তিশালী সিন্ডিকেট থাকায় তিনি বরাবরই রয়ে যান চোখের আড়ালে। তিনি স্বাধীনভাবে দিন কাটালেও তার আদরের স্বামী মানবপাচার মামলায় কারাগারের চার দেয়ালে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। তাকে ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য একটি শক্ত জোর তদবির চালিয়ে যাচ্ছে।
তার শক্তির উৎস এতই যে, তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে ছাড় নেই। প্রতিবাদকারীকে যে কোন মূল্যে তিনি মামলার আসামী বানিয়ে ছাড়েন। ‘রেবি ম্যাডাম’ ক্ষমতার দম্ভ করে করে বলেন, ‘কোন ওসি আমার গায়ের কেশও নড়াতে পারবেনা। ওসি-টুসি (দম্ভ বাক্য) আমার ভ্যানিটি ব্যাগেই থাকে।’
এ দিকে যৌনপীড়ন ও শ্লিলতাহানির অভিযোগ এনে গত ২৩ জুলাই কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করে রেবি ম্যাডামের স্কুল পড়–য়া মেয়ে শারমিন নুরী পাপিয়া। মামলা নং- ৬৯৪/২০১৪ ইং। এতে উখিয়া উপজেলা মানবপাচার প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব আব্দুল হামিদকে একমাত্র আসামী বানানো হয়েছে। মামলাটি এজাহারভুক্ত করে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিতে উখিয়া থানার ওসিকে নির্দেশ দেয় আদালত। এ মামলায় থানার ওসির আগামী ২৩নভেম্বর স্বশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশও দিয়েছে আদালত।
এলাকাবাসীর সাথে কথা হলে তারা জানান, রেবি ম্যাডাম জেনে শুনে নিজের নিষ্পাপ স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে নারী নির্যাতন মামলার ভিকটিম বানিয়েছেন। মিথ্যা মামলায় পুলিশকে ম্যানেজ করতে না পেরে উল্টো আদালতের নির্দেশে মিথ্যা মামলা এন্ট্রি করিয়েছে দালাল রেবি। এতে আসামী করেছে উখিয়া উপজেলা মানবপাচার প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব আব্দুল হামিদকে। তবে মানবপাচার বিরোধী অবস্থান নিয়ে মামলার আসামী হওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। ঘটনাটি সরেজমিন তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী এলাকাবাসীর।
সচেতন মানুষের দাবী, রেজিয়া আক্তার রেবি প্রকাশ ম্যাডাম আদমপাচারের মূল নায়ক। সে প্রশাসনের তালিকায় শীর্ষ মানবপাচারকারী ও ডজনাধিক মামলার আসামী। তার বিরুদ্ধে এলাকার সর্বস্থরের মানুষ তীব্র প্রতিবাদ মূখর। শুধু তাই নয়, তার স্বামী নুরুল কবিরও মানবপাচার মামলার অন্যতম গডফাদার। বর্তমানে সে মানবপাচার মামলায় কারান্তরীন। শুধু এ দুই জনকে গ্রেফতার করা হলে পুরো এলাকা নিরাপদে থাকবে এবং মানবপাচার চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।
মামলায় অভিযুক্ত আব্দুল হামিদ বলেন, মানবপাচার আশঙ্কাজনকহারে বেড়ে যাওয়ায় সর্বশ্রেনী পেশার লোকজন নিয়ে ‘উখিয়া উপজেলা মানবপাচার প্রতিরোধ কমিটি’ নামে আমরা একটি সামাজিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করি। আমাদের সহায়তায় অর্ধশতাধিক ভিকটিম উদ্ধার হয়। যে কারণে এলাকার মানুষ স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলেছে।’
তিনি আরো জানান, ‘আমাদের আপোষহীন তৎপরতায় মানবপাচার অনেকগুন কমে গেছে। একারণে দালালরা আমাদেরকে মামলায় জড়ানোসহ বিভিন্ন রকম হুমকি ধমকি দিতে থাকে। এরপরও আমাদের তৎপরতা কমেনি। মানবপাচারে প্রতিবাদ করা থেকে সরে আসার জন্য গডফাদার রেবি ও তার স্বামী আমাদের বিভিন্ন সময় অনৈতিক প্রস্তাবও দেয়। কিন্তু তাতে আমরা রাজি না হওয়ায় তার মেয়েকে ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা করিয়েছে। বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করলে আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে।’ এ ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেলে যে কোন ধরণের শাস্তি মেনে নিবেন বলেও জানান তিনি।
জালিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, রেবি ম্যাডাম আমাদের এলাকার জন্য অভিশাপ। তাকে গ্রেফতার করা হলে এলাকা শান্ত হয়ে যাবে। তার কারণে সাধারন মানুষ অতীষ্ট। মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, আব্দুল হামিদ খুব ভাল ছেলে। মানবপাচারের প্রতিরোধ করতে গিয়ে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।
উখিয়া থানার ওসি অংসা থোয়াই জানান, ‘মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ ‘জিরো টরারেন্স’ ভূমিকায় রয়েছে। ইতিমধ্যে অনেক গডফাদারকে জেলে পাঠিয়েছি। পাচারকারীদের কোন ছাড় নেই।’ মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, মানবপাচার প্রতিরোধ কমিটির লোকজন পুলিশকে সর্বদা সক্রিয়া সহায়তা করেছে। ওসিসহ প্রতিরোধ কমিটির লোকজনকে কোনঠাসা করার জন্য এ মামলা হয়েছে।
পাঠকের মতামত