প্রকাশিত: ০৬/১১/২০১৪ ৮:৪৬ অপরাহ্ণ
টেকনাফের শীর্ষ ইয়াবা ডিলার আটক

Arrest..
শামশুল আলম, টেকনাফ।
টেকনাফের শীর্ষ ইয়াবা ডিলার শাহ আজমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ সুত্র জানায়, ৬ নভেম্বর বিকাল ৪টা ১৫ মিনিটের দিকে টেকনাফ থানা পুলিশ হ্নীলার আলীখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবা ডিলার শাহ আজমকে গ্রেপ্তার করে। তার আটকের খবরে এলাকার শিক্ষিত মানুষ মিষ্টি বিতরণ করেছে বলে সুত্র জানায়। আজম ইউনিয়নের আলীখালী এলাকার মাদক স¤্রাট জামালের পুত্র ও র‌্যাবের সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত নুর মোহাম্মদের মেয়ের জামাই বলে জানাগেছে। চলতি সনের মার্চ মাসের শেষের দিকে মাদক ব্যবসায়ীদের উপর সাড়াশি অভিযান শুরু হলে আজম এলাকা ছেড়ে চট্টগ্রামে অবস্থান করে। দীর্ঘদিন ধরে সে ঢাকা-চট্টগ্রাম ভিত্তিক ইয়াবা ব্যবসার সিন্ডিকেট গড়ে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। চলতি মাসের ২ তারিখ চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় র‌্যাবের অভিযানে ৭লক্ষাধিক টাকা ও ২৩হাজার ইয়াবা সহ আটকের ঘটনায় ইয়াবা আজম জড়িত বলে জানা গেছে। র‌্যাবের অভিযানে ইয়াবা আজম কৌশলে পালিয়ে গেলেও তার সহযোগী টেকনাফ পুরান পল্লান পাড়া এলাকার আবুল কাসিমের পুত্র আবুল কালাম ও রঙ্গিখালী এলাকার মকবুল আহমদের পুত্র আব্দুর রহমানকে হাতে নাতে আটক করে। সেপ্টেম্বর মাসের ১১ তারিখ টেকনাফ থানা পুলিশের এস.আই.আশিকের নেতৃত্বে ৫হাজার ইয়াবা সহ কলেজ ছাত্র আব্দুর রহমান আটকের ঘটনায় শাহ আজমকে পলাতক আসামী করা হয়। ২০১৩ সনের অক্টোবর মাসে হ্নীলা রসুলাবাদ মাদ্রাসার সামনে বিজিবির অভিযানে রিক্্রা থেকে ১০হাজার ইয়াবা আটক করা হয়। ঐসময় ইয়াবার মালিক আজম পালিয়ে যায়। পরে বিভিন্ন তোড়জোড়ের পরেও উক্ত মামলায় আজমকে পলাতক আসামী হতে হয়েছে। বিজিবির হাতে আটক উক্ত ইয়াবা মামলায় তাদের ভাড়ায় চালিত রিক্্রাওয়ালার মাধ্যমে মিথ্যা ঠিকানা দেখিয়ে রঙ্গিখালী লামারপাড়া এলাকার আব্দুশ শুক্কুর মেম্বারের পুত্র সৌদি প্রবাসী জালাল উদ্দিনকে উক্ত মামলায় আসামী হতে হয়। অথচ সে সময়ে জালাল উদ্দিন সৌদি আরবে অবস্থান করছিল বলে পরিবার সুত্র জানায়। অত্যান্ত পরিতাপের বিষয় যে, আলীখালী এলাকার জামাল ও পুত্র শাহ আজম, শাহ নেওয়াজ এবং শাহ জালাল এভাবে মিথ্যা ঠিকানা ব্যবহার করে রিক্্রা, টমটম, সিএনজি গাড়ী দিয়ে ইয়াবা পাচার করে। সিএনজি চালক ও স্কুল-কলেজ এবং মাদ্রাসার শত শত ছাত্রদের ব্যবহার করে ঢাকা-চট্টগ্রামে ইয়াবা পাচার করতে গিয়ে একাধিক ছাত্র ও সিএনজি চালক পুলিশের হাতে আজমের মালিকানাধীন ইয়াবা সহ আটক হলেও আজম কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল। স্থানীয় সচেতন মহল জানান, এই আজম বর্তমানে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীক ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে। স্থানীয় শত শত রিক্্রা চালক ও উঠতি যুবকদের ব্যবহার করে ইয়াবা পাচারের মাধ্যমে সে কোটি কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় গড়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানান, এদের কারণে পুরো ইউনিয়নের উঠতি যুবক ধ্বংস হচ্ছে। ছাত্র সমাজকে প্রলোভন দেখিয়ে বর্তমানে কৌশলে ইয়াবা পাচারে ব্যবহার করছে। সর্বস্তরের মানুষ ছাত্র সমাজ ও আগামী প্রজন্মকে বাঁচাতে এদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্ত শাস্তির দাবী জানিয়েছেন। টেকনাফ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কবির হোসেন আজমকে আটকের সত্যতা স্বীকার করেন।

পাঠকের মতামত

রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত 

রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত 

পলাশ বড়ুয়া:: কক্সবাজারে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। ভাষা দিবসের কর্মসূচিতে রোহিঙ্গা ...