
সিএসবি২৪ ডটকম ॥
সংবাদ প্রকাশের জেরে- অবশেষে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী সাথীর বাল্য বিবাহ ভেঙ্গে দিলেন চকরিয়া থানার ওসি প্রভাষ চন্দ্র ধর। আজ ২নভেম্বর বিকাল ২টায় কনের বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে এই বিয়ে ভেঙ্গে দেন তিনি। সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী সাথীর বিয়ে নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকা ও ফেইসবুকে সংবাদ প্রকাশিত হলে সচেতনমহলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
পুলিশ জানায়, আজ ২ নভেম্বর খুটাখালী কিশলয় বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ও পূর্ববড়ভেওলা ইউনিয়নের ঈদমনি গ্রামের আবদুল মন্নানের কন্যা আফসানা ছিদ্দিকা সাথীর সাথে মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি ইউনিয়নের উত্তর মাইজপাড়া গ্রামের মৃত মনুর আলীর পুত্র সৌদি প্রবাসী আলহাজ্ব আবদুল গফুরের মধ্যে বিয়ের দিন ধার্য্য ছিলো। গতকাল স্কুল ছাত্রী সাথীর বিয়ে নিয়ে একাধিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল‘সহ কয়েকটি পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে সংবাদ প্রকাশিত হলে কক্সবাজারসহ সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এসময় সংবাদটি চকরিয়া থানার ওসির নজরে আসে। বিয়ের আগের রাতে ১লা নভেম্বার চকরিয়া থানার ওসি পুলিশ পাঠিয়ে মেহেদী অনুষ্ঠান পন্ড করে দেয় । এরপরও মেয়ের বাবা-মা বিয়ের অনুষ্ঠান চালিয়ে যাচ্ছে, এইরকম খবর পেয়ে ওসি প্রভাষ চন্দ্র ধরের নেতৃত্বে কনের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠান ভেঙ্গে দেয়। এ দিন সাথীর বিবাহ অনুষ্ঠান নিয়ে বর-কনের বাড়িতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিলো। তিন’শ বরযাত্রীর জন্য খাবারের আয়োজনও করে। বরযাত্রী আসার পূর্বে মূহুর্তে আলোচিত এই বাল্য বিবাহ ভেঙ্গে দেয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান, বাল্য বিবাহ ভেঙ্গে দেয়ার খবর বরের স্বজনদের কাছে পৌছলে তারা মহেশখালী থেকে কনের বাড়িতে আসেননি। এদিকে চকরিয়া থানার ওসি প্রভাষ চন্দ্র ধর জানান, কনের পিতা-মাতাকে থানায় ডেকে এনে তাদের মেয়ে সাথীকে বাল্য বিবাহ না দেয়ার মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। এইরকম অন্যায় কাজ করবে না বলে জানান পিতা-মাতা। আফসানা ছিদ্দিকা সাথী সপ্তম শ্রেণির নিয়মিত একজন ছাত্রী। তবে চকরিয়ার সচেতন মহল দাবী জানিয়েছেন সাথীর বিয়ে ভেঙ্গে গেলেও তার পড়ালেখা চালিয়ে যাবে কিনা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
পাঠকের মতামত