প্রকাশিত: ১৪/১০/২০১৪ ১০:৩২ অপরাহ্ণ , আপডেট: ১১/০৮/২০১৫ ৭:০৮ অপরাহ্ণ
মহাসড়কে ট্রাফিক পুলিশের বেপরোয়া চাঁদাবাজি

1397640827Cox-bazar1
নিজস্ব প্রতিবেদক. চকরিয়া:
চট্রগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া পৌর সদরের চিরিংগা বাসষ্টেশনে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট টি.এস.আই আবুল কালাম এর যোগসাজসে পুলিশের বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে যানবাহন মালিক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা।

চকরিয়া সদরের ট্রাফিক পুলিশের পাতানো ফাঁদে না পড়ে এ সড়কে গাড়ী চালানোর যেন মহাবিপদ হয়ে দাড়িয়েছে। গাড়ীর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকুক বা না থাকুক গাড়ি রোড়ে গাড়ি চালালেই টাকা দিতে হবে ট্রাপিক পুলিশকে। চকরিয়া বাসষ্টেশনের যানজট নিরসনের পরিবর্তে রাস্তার উপর গাড়ি আটকিয়ে টাকা আদায় করা অনিয়ম যেন নিয়মে পরিনত হয়েছে। ট্রাপিক পুলিশেরা রাজারহালে সড়কের মাঝখানে দাড়িয়ে গাড়ি আটকিয়ে বেপরোয়া চাদাঁবাজির কারণে অনেক সময় দীর্ঘ যানজট লেগে গেলেও চাদাঁবাজিতে মগ্ন যানজটের দিকে খেয়াল থাকেনা তাদের। বিভিন্ন অজুহাতে ট্রাপিক পুলিশেরা যানবাহনে চাঁদাবাজি করে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিলেও দেখার কেউ নেই বললেও চলে। একাধিক গাড়ির মালিক ও শ্রমিকের অভিযোগ, ট্রাপিক পুলিশেরা যানবাহন ফিটনেস কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স চেকিংয়ের নামে নানা ভাবে হয়রানী করে আসছে। তাদের চাহিদা মতো টাকা দিতে ব্যর্থ হলেই মারধর, গাড়ির চাবি কেড়ে নেওয়া ও বিভিন্ন অজুহাতে মামলা দিয়ে হয়রানী করা নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে।

চকরিয়ার চিরিংগা বাসষ্টেশনে ট্রাফিক পুলিশের অপতৎপরতা চোখে পড়ার মত। প্রতিটি গাড়ি থেকে প্রকাশ্যে দিবালোকে সড়কে দাড়িয়ে চাঁদাবাজি করায় সাধারণ যাত্রীদের প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। চকরিয়া পৌর সদরের চিরিঙ্গা পুরাতন বাসষ্টেশনের অবস্থিত বিভিন্ন বাস কাউন্টারের সামনে, এনসিসি ব্যাংকের নীচে, বনফুলের সামনে, পুরাতন এস আলম কাউন্টারে দাঁড়িয়ে সড়কে চাদাঁবাজি করা অনিয়ম যেন নিয়মে পরিনত হওয়ায় জন দুর্ভোগ চরমে পৌছেছে। চট্রগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ও চকরিয়ার বিভিন্ন অভ্যান্তরিণ সড়কে চলাচলকারী পর্যটক বাহী গাড়ী, মালবাহি ট্রাক, বাস, মাইক্রোবাস, চাদেঁর গাড়ি জীপ, সি.এন.জি, মাহিন্দ্রা, টমটম, ম্যাজিক গাড়ী ও মোটর সাইকেল থামিয়ে প্রয়োজনীয় গাড়ির কাগজপত্র পরীক্ষা করার নামে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা জোরপূর্বক আদায় করে নিয়ে নিচ্ছে বলে একাধিক গাড়ী মালিক, শ্রমিক ও ড্রাইভাররা অভিযোগ করেছেন। ট্রাপিক সার্জেন্ট আবুল কালামের নেতৃত্বে ৩/৪ জন পুলিশ মিলে রাস্তার দু‘পাশে দাঁড়িয়ে অপরাপর পুলিশ সদস্যের সগযোগিতায় প্রতিটি সিএনজি থেকে ২শত, টমটম থেকে ১শত, মটর সাইকেল থেকে ৫শত থেকে ১হাজার, মাহিন্দ্র থেকে ৩শত, মাইক্রোবাস ও নোহা থেকে ৫শ থেকে ১হাজার, বালি ভর্তি ট্রাক থেকে ১শত, কাঠ ভর্তি ট্রাক থেকে ২হাজার টাকা, নাসিমন-করিমন-ভটভটি ১শত থেকে ২শত ও বাস থেকে ১শত টাকা করে আদায় করে থাকে। স্থানীয় কয়েকজন কাউন্টার মালিকেরা অভিযোগ করেছে প্রতিটি কাউন্টার থেকে প্রতিমাসে সর্বনি¤œ ১হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫হাজার টাকা পর্যন্ত পুলিশকে দিতে হয়। এ ভাবে চকরিয়া সদরের ট্রাপিক পুলিশের প্রতিদিনের আয় দাঁড়ায় প্রায় অর্ধ লাখ টাকার উপরে। এ ছাড়াও অধিকাংশ যানবাহনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ড্রাইভার লাইসেন্স ঠিক থাকার পর ও নানা অজুহাত ও মামলার ভয় দেখিয়ে তাদের ইচ্ছে মতো হাতিয়ে নিচ্ছে অজ¯্র টাকা। চকরিয়া সদরের ট্রাপিক পুলিশের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বিহীন গাড়ী থামিয়ে মোটা অংকের টাকা আদায় করার মাধ্যমে ওইসব গাড়ী পুনরায় ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠছে। আবার সার্জেন্ট টি,এস,আই আবুল কালাম অভিযোগ করে বলেন, ট্রাপিক পুলিশেরা অনেক সময় তার নাম ভাঙ্গিয়ে এবং অজান্তে তার সাথে থাকা পুলিশ কর্মকর্তারা গাড়ীর কাগজ পত্র দেখার নামে মোটা অংকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলেও এমন কথা শুনা যাচ্ছে।
জানা গেছে, একপাশে বিআরটিসি বাস কাউন্টারের সামনে দাড়িঁয়ে ট্রাফিক পুলিশের টি.এস.আই আবুল কালাম চিরিংগা বাসর্টামিনাল এলাকায় মোহাম্মদ দিদার, বদরখালীর আবুল হোসেন, বেতুয়াবাজারের সাইফুল আলম ও ছিকলঘাটার সোহেল নামে কয়েক যুবকের মোটর সাইকেল আটক করে প্রতিটি মটর সাইকেল মালিকের কাছ যথাক্রমে ২শ. ৫শ. ১হাজার ও ৪শত টাকা করে আদায় ছেড়ে দিয়েছে। অপরদিকে পুরাতন এস আলম কাউন্টারের সামনে দাঁিড়য়ে আরেক পুলিশ বিভিন্ন গাড়ি আটক করে চেকিংয়ের নামে টাকা নিয়ে ছেড়ে দিচ্ছে বলে একাধিক সুত্রে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এভাবে প্রতিদিন যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী বিভিন্ন প্রকারের গাড়ী থেকে কৌশলে টাকা আদায় করে নিচ্ছে। চকরিয়া-কক্সবাজার সড়কে গাড়ী চলাচল করতে হলে চিরিংগা ট্রাপিক পুলিশের টি.এস.আই আবুল কালাম এর সাথে দৈনিক বা মাসিক চুক্তি করে টোকেন নিতে হবে। পুলিশের সাথে মাসিক চুক্তিতে না আসলে এ সড়কে ড্রাইভারদের গাড়ি চলানো দুর্বিসহ এবং চাদাঁবাজ পলিশ যত্রেতত্রে গাড়ী আটক করে হয়রানী করে থাকে।

কয়েকজন যানবাহন শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিভিন্ন সড়কে যাতায়তকারী সিএনজিকে প্রতিমাসে ১ থেকে দেড় শ” টাকা, মাহিন্দ্রা থেকে দেড়শ থেকে ২শ টাকা ও টমটম থেকে ১শত টাকাসহ গাড়ির প্রকার ভেদে বিভিন্ন গাড়ীকে তাদের চাহিদা মতো নিদিষ্ট অংকের মাসোহারা দিতে হয়। এছাড়াও জ্বালানী কাঠসহ বিভিন্ন মালামাল ও ফার্ণিচার ভর্তি গাড়ি থেকে মোটা অংকের টাকা দিতে হয় সার্জেন্টকে। ট্রাপিক পুলিশকে মাসিক টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলেই মামলায় জড়িয়ে হয়রাণী করা হয়। এ দিকে গাড়ীর মালিক ও শ্রমিকের সাথে টাকা লেনদেনের জন্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ট্রাপিক পুলিশের কিছু বিশ্বস্থ দালালও রয়েছে। ট্রাপিক পুলিশের টি.এস.আই আবুল কালামের কাছে মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনি আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন।

পাঠকের মতামত

রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত 

রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত 

পলাশ বড়ুয়া:: কক্সবাজারে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। ভাষা দিবসের কর্মসূচিতে রোহিঙ্গা ...