নিজস্ব প্রতিবেদক।
আজ সকালে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিষদের উদ্যোগে “গণঅভ্যুত্থান – গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র : নাগরিক বিতর্ক ” শীর্ষক আলোচনা সভায় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বলেন, জুলাই – আগস্ট ছাত্র শ্রমিক জনতার গণ অভ্যুত্থানের প্রধান বার্তা হচ্ছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।তারা বলেন , নতুন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ধর্ম, বর্ণ, লিংগ, সম্প্রদায় নির্বিশেষে নাগরিকদের মধ্যে অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। তারা বলেন, রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রুপান্তরের জনা রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহেরও গণতান্ত্রিক সংস্কার প্রয়োজন।
সভায় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের রুপান্তরের জন্য গণঅভ্যুত্থান শক্তির মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করা যাবেনা। বিভাজন ও অনৈক্য দেখা দিলে তাতে কেবল পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তিই লাভবান হবে।তিনি বলেন, কোন কিছু চাপিয়ে দেয়ার সুযোগ নেই।জোর করে কোন এজেন্ডা ঢুকাতে গেলে তাতে অন্তর্বর্তী সরকার অপ্রয়োজনীয় বিতর্কের মধ্যে পড়বে। তিনি বলেন , অনেকের মধ্যে পতিত ফ্যাসিবাদী সরকারের ছায়া দেখা যাচ্ছে। তিনি সরকারকে ঐক্যমতের ভিত্তিতে তাদের পদক্ষেপ নেবার আহবান জানান। তিনি বলেন, এই সরকারের এসিড টেষ্ট হচ্ছে প্রয়োজনীয় সংস্কার করে ২০২৫ এর মধ্য নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে সম্মানের সাথে বিদায় নেয়া।
বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখক আবু সাঈদ খান বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে আমাদের গৌরবজনক উত্তরাধিকার ধারন করতে হবে।মুক্তিযুদ্ধসহ স্বাধীন জাতিরাষ্ট্র হিসাবে আমাদের অর্জনসমূহ সাথে নিয়েই আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে।হঠাৎ করে আমাদের যাত্রা শুরু হয়নি।অতীত মুছে ফেলার যে কোন তৎপরতা আত্মঘাতী হয়ে উঠতে পারে।তিনি গণঅভ্যুত্থানের বিজয়কে সংহত করে গণতান্ত্রিক রুপান্তরের বর্তমান সম্ভাবনা কাজে লাগানোর আহবান জানান।
সভার সভাপতি শেখ আবদুন নূর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিষদের লক্ষ্য উদ্দেশ্য তুলে ধরেন এবং বলেন, গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য রাজনৈতিক দলেরও সংস্কার প্রয়োজন। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার এই সুযোগ নষ্ট হতে দেয়া যাবেনা।জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিষদের আহবায়ক শেখ আব্দুন নূরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখক আবু সাঈদ খান, বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, বিশিষ্ট লেখক – বিশ্লেষক ডাঃ জাহেদ উর রহমান,প্রাক্তন এমপি এডভোকেট তাসমিন রানা, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য নারীনেত্রী বহ্নিশিখা জামালী। মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন তুষার রেহমান,মীর রেজাউল আলম প্রমুখ।সভা সঞ্চালনা করেন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিষদের সদস্য সচিব বাবর চৌধুরী।
ডা: জাহেদ উর রহমান বলেন, আমাদের চিন্তা মননে স্বৈরাচার বাসা বেঁধেছে।সবার মধ্যে কেমন করে যেন এক এক জন ছোট ছোট ফ্যাসিস্ট হাসিনা যায়গা করে নিয়েছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য এই ফ্যাসিবাদী চিন্তা মনোভাবের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, আওয়ামী লীগ তার ১৬ বছরের দুঃশাসনে দেশের অর্থনীতি ও রাজনীতি ধ্বংস করে গেছে। ক্ষমতা কে তারা লুটপাটের সুযোগ হিসাবে গ্রহন করেছে।তিনি বলেন,এখন গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে রাষ্ট্র ও সমাজের গণতান্ত্রিক উত্তরণ ঘটাতে হবে। নারী নেত্রী বহ্নিশিখা জামালী বলেন, আমাদের সমাজে নারীরা শ্রেণী ও পুরুষতান্ত্রিক দ্বিবিধ শোষনের শিকার।নারী মুক্তির প্রশ্ন এখনও সংস্কারের আলোচনায় বড় ভাবে নেই।তিনি বলেন নারীবান্ধব গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণে নারীর অধিকার ও সম্মান নিশ্চিত করতে হবে।
এডভোকেট তাসমিন রানা বলেন, রাষ্ট্র প্রশাসনের ক্ষেত্রে আমরা এখনও ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার বহন করছি।স্বাধীন দেশের উপযোগী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক সংস্কার সাধন করতে হবে।
পাঠকের মতামত