
চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ
সময়টা ২০১৫ সালের ২ নভেম্বর। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) তখন মুখরিত ছিলো ভর্তিচ্ছু পরীক্ষার্থীদের পদচারণায়। তাঁদের শুভেচ্ছাও জানাতে ব্যস্ত ছিলেন বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। আর এ শুভেচ্ছা জানানোকে কেন্দ্র করে শাখা ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি আলমগীর টিপু ও সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বীর পক্ষের নেতা-কর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষের সময় তোলা একটি ছবি ৩ নভেম্বর প্রথম আলোয় প্রকাশিত হয়। ছবিতে শাহজালাল হলের তৃতীয় তলার বারান্দায় রামদায় শাণ দিতে দেখা যায় দুই কর্মীকে।
ওই দুই ছাত্রলীগ কর্মীর একজন ছিলেন মোফাজ্জল হায়দার ইবনে হোসাইন। তিনি ক্যাম্পাসে টাইগার মোফা নামে পরিচিত। আরেকজন ছিলেন মিজানুর রহমান খাঁন। তিনি শ্রাবণ মিজান নামে পরিচিত। তাঁরা দুজনই এবারের কমিটিতে সহ-সভাপতির পদ পেয়েছেন।
শাণ দেওয়ার ছবিটি প্রথম আলোয় প্রকাশিত হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে। তিন দিন পর দুজনকেই সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কারের পর পরীক্ষা দিতে না পেরে এর পরের বছরের ৫ এপ্রিল চারুকলা ইনস্টিটিউটের পরীক্ষার হলে তালা ঝুলিয়ে দেন মোফাজ্জল হায়দার। এ কারণে ওই দিনের পরীক্ষা স্থগিত রাখতে হয়েছিলো।
শ্রাবণ মিজান ও টাইগার মোফা—দুজনই শাখা ছাত্রলীগের উপপক্ষ ‘সিক্সটি নাইন’–এর কর্মী হিসেবে ক্যাম্পাসে সমধিক পরিচিত। উপপক্ষটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন।
মোফাজ্জল ও মিজানুরের পদ পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক কোনো কথাই বলতে রাজি হননি। তিনি উল্টো সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেনের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
পরে ইকবাল হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। গেলো রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনটির কেন্দ্রীয় দপ্তর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ৩৭৬ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে।
এর পরই পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৪টি হলের প্রায় ৩০টি কক্ষ ভাঙচুর করেন। এদিন রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক আটকে দিয়ে অবরোধের ডাক দেন তাঁরা। বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা নতুন শাখা কমিটি গঠনের দাবি জানান।
অবরোধ চলাকালে গতকাল সোমবার সকালে ক্যাম্পাসগামী শাটল ট্রেনের চালককে অপহরণ করা হয়। এ কারণে বন্ধ থাকে শাটল ট্রেন। এদিন চলেনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বহনকারী বাস। তাই গতকাল চবিতে কোনো ক্লাস-পরীক্ষা হয়নি। এ অচলাবস্থা আজও অব্যাহত থাকে। এ অবস্থায় আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়।
চবি শাখা ছাত্রলীগের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষে বিভক্ত। একটি পক্ষে আছেন সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারীরা। আরেকটি পক্ষে আছেন সাবেক সিটি মেয়র ও চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারীরা।
সিএসবি-টুয়েন্টিফোর; ২/৮;অ-৭৭৩(০৩/স;+০০২২২)
পাঠকের মতামত