http://csb24.com/id/85820/

ঢাকা, , শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২০

ফলোআপ : ফার্মেসী ব্যবসায়ী জামালের অঢেল সম্পদের নেপথ্যে ইয়াবা!

প্রকাশ: ২০২০-০৬-২৭ ২০:৫২:৪৪ || আপডেট: ২০২০-০৬-২৮ ১২:২৬:৪৩

বিশেষ প্রতিবেদক ॥
কক্সবাজারের উখিয়া কোটবাজারে অন্যের ফার্মেসীতে দীর্ঘদিন চাকরি করা এক ব্যক্তি পরবর্তীতে ফার্মেসী ব্যবসার আড়ালে ইয়াবার টাকায় অঢেল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ তুলেছে ব্যবসায়ী মহল।

অভিযুক্ত জামাল উদ্দিন ফার্মেসী ব্যবসায় আলাদীনের চেরাগ পেয়েছে কিনা এমন প্রশ্ন তার আগে থেকে প্রতিষ্ঠিত ফার্মেসী ব্যবসায়ীদের।

ফার্মেসী ব্যবসায় বেশি লাভ নাকি এমন প্রশ্নের জবাবে উখিয়া উপজেলা কেমিষ্ট এন্ড ড্রাগ সমিতির সভাপতি ও কোটবাজারের শীর্ষ ফার্মেসীএই ব্যাপারে ফরিদ মেডিকোর মালিক ফরিদ আহমদ বলেন, ১৯৮২ সাল থেকে ফার্মেসী ব্যবসা করে কোন রকম কষ্ট করে সংসার চালাচ্ছি। একটি ঘর পর্যন্ত করতে পারিনি। তবে জামালের অঢেল সম্পদ ও লোকমুখে ইয়াবাকারবারে জড়িত থাকার খবর একাধিক মানুষের মুখে একাধিক বার শুনেছি। কিন্তু সুনির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ আমার কাছে নেই।

এদিকে সম্প্রতি এক অডিও বার্তায় তার নামটি মুখোশধারী ইয়াবাকারবারী হিসেবে তার নাম প্রকাশিত হলে প্রশাসন সহ সর্বত্রে আলোচনার ঝড় উঠে।

সূত্রে জানা গেছে, রত্নাপালং তেলীপাড়া গ্রামের নাছু মিয়ার ছেলে জামাল উদ্দিন (৩৮) দীর্ঘ চার বছরের অধিক কোটবাজারের ছাবের মেডিসিন হাউসে চাকরি করে। এরপরে ২০০১ সালের দিকে নিজে একটি ফার্মেসী ব্যবসা চালিয়ে আসলেও বর্তমানে নামে-বেনামে শত কোটির বেশি সহায় সম্পদের মালিক বনে গেছে।

সূত্রে আরো জানা গেছে, কয়েক বছর পূর্বে পল্লী চিকিৎসক জামাল উদ্দিন তার মামা একই এলাকার বাসিন্দা আব্দু শুক্কুরের পুত্র শাহ আলম সাথে অংশীদারে ১১-৩০৬ নাম্বারের একটি ট্রাকের মালিক হয়। প্রথমদিকে ওই ট্রাকে জোগান তৈরি করে নিয়মিত ইয়াবার চালান নিয়ে যেত। গাড়ীটি একাধিকবার আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ইয়াবাসহ আটকের বিষয়টি বহুল প্রচারের আগে ট্রাকটি বিক্রি করে দেয় এবং ইয়াবা কারবারের কৌশল পরির্বতন করে।

সম্প্রতি রত্নাপালং ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ইয়াবাকারবারী ও অস্বাভাবিক সম্পদের মালিক বনে যাওয়া ১৩ জনের তালিকায় তার নাম একাধিক তদন্তে উঠে আসে বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য ও ফার্মেসী ব্যবসায়ী সেলিম উদ্দিন।

এ ব্যাপারে রত্নাপালং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খাইরুল আলম চৌধুরীর নিকট মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরিষদের আইন-শৃঙ্খলা মিটিংয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চৌকিদার ও দফাদারের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই করে একটা তালিকা প্রশাসনকে জমা দেয়া হয়েছে। তবে সে তালিকায় কার কার নাম রয়েছে তাৎক্ষণিক সে তথ্য জানাতে পারেনি।

এর আগে এক অডিও বার্তায় টেকনাফের হ্নীলা থেকে ঔষধ কার্টুনভর্তি ইয়াবার চালানের তথ্যও উঠে আসে। তবে ফার্মেসী ব্যবসা ও চিকিৎসা সেবার নেপথ্যে ইয়াবা কারবারের বিষয়টি আগে থেকে লোকমূখে চাওর হলেও কেউ ভয়ে মুখ খুলেনি। কারণ সে অবৈধ টাকায় ম্যানেজ করে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় থেকে তার ইয়াবা সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

অপরদিকে কয়েক বছরে তার স্থাবর-অস্থাবর অঢেল সম্পদের পাহাড় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে এলাকাবাসী।

সূত্রে জানা গেছে, পল্লী চিকিৎসক জামাল উদ্দিন তেলীপাড়ার জাফর উল্লাহ চৌধুরীর ছেলে জসিম উদ্দিন চৌধুরী কাছ থেকে ২০ শতক, রুহুল্লারডেবা সংলগ্ন তার আপন চাচা নাজু মিয়ার কাছ থেকে ১০ শতক, আকবর আহমদ চৌধুরীর কাছ থেকে ৪০ শতক, তেলীপাড়ার মৃত ফকির আহমদ খলিবার ছেলে শফিউল আলমের কাছ থেকে ২০ শতক, ঝাউতলা সড়ক সংলগ্ন কামাল উদ্দিনের কাছ থেকে ৮০ লক্ষ টাকায় ২০ শতক, পুরাতন ইউনিয়ন পরিষদের পাশে মৃত শমশের আলম চৌধুরীর ছেলে আসহাব উদ্দিন চৌধুরী দুলাল ও সাইফুল্লাহ চৌধুরীর কাছ থেকে ১ একর, কোর্টবাজারের পশ্চিম পাশে বৌদ্ধ বিহার সংলগ্ন মধু সুধন বড়ুয়া মেম্বারের কাছ থেকে ২ কোটি ৩২ লক্ষ টাকায় ৬০ শতক, ভালুকিয়া রোড় সংলগ্ন ২০ শতক, পালং স্কুলের পাশে মৃত মির কাশেম চৌধুরীর ছেলে মাস্টার মোজাফ্ফর আহমদ চৌধুরীর কাছ থেকে ১২০ শতক, হলদিয়ার পাগলির বিল রোড়ে আমিন মেম্বারের পাশে ৪০ শতক, উত্তর বড়বিল শশুর বাড়ি সংলগ্ন ৪ একর, রামুতে ১শ একরের বেশি রাবার বাগান, জালিয়াপালং ফুফুর বাড়ি সংলগ্ন ৪০ শতক, লিংক রোড় আল বয়ানের পাশে ১০শতক এবং কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের সামনে ও গোল দীঘির পাড়ে জায়গার মালিক বনে যায়।

রত্নাপালং তেলীপাড়া এলাকায় ৪টি দোকানসহ বসত ঘর। কোর্টবাজার ডিজিটাল ল্যাবের অন্যতম অংশীদার।

এছাড়াও কোটবাজার স্টেশনে ৩টি ফার্মেসী (যথাক্রমে জামাল ফার্মেসী, দুলাল ফার্মেসী, মরিয়ম ফার্মেসী) ও দুটি গোডাউনের অগ্রীম জামানতসহ মূলধন প্রায় আড়াই কোটি টাকা। হাজী নাছু মিয়া হার্ডওয়্যারের ৬ টি গোডাউনসহ অগ্রীম জামানত ও মূলধন ৫ কোটি টাকার বেশি বলে ধারণা করছেন কোটবাজারের ব্যবসায়ীমহল।

শুধু তাই নয় সফল ফার্মেসী ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন হয়েছে ৫টি গাড়ির মালিক। তৎমধ্যে কার গাড়ী নাম্বার- চট্টমেট্রো ১২৮৩২৬, নোহা গাড়ী নাম্বার- চট্টমেট্রো ১১৭১৪৫, মাইক্রো হাইয়েচ গাড়ী নাম্বার- চট্টমেট্রো ১১৪৭৩৭, অন্য দুটি গাড়ি আছে টেকনাফে চলাচল করে বলে খবর পাওয়া গেছে।

ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক বিভিন্ন ব্যাংকে রয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকার ডিপিএস। এছাড়াও কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত ঘরসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ।

পল্লী চিকিৎসক জামাল উদ্দিনের সাফল্যের রহস্য ও ইয়াবা কারবারে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে জানতে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এলাকার একটি মহল তার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে। কারণ তিনি আগামী ইউপি নির্বাচনে সদস্য পদে নির্বাচন করবে তাই বর্তমান ইউপি সদস্য মো: সেলিম উদ্দিন গং তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

এ সময় তিনি আরও বলেন, তিনি ২০০১ সাল থেকে ফার্মেসী ব্যবসা করে আসছেন। তার আয়ের উপর নিয়ম অনুযায়ী আয়কর দিচ্ছে এবং এতো বেশি সহায়-সম্পদের মালিক হওয়ার বিষয়টি সত্য নয় বলে জানান তিনি।

শুধুমাত্র জামাল উদ্দিন নয় যারা গত কয়েক বছরে অস্বাভাবিক সহায়-সম্পদ ও অর্থ-বিত্তের মালিক হয়েছে তাদের বৈধ আয় সম্পর্কে দুদকসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরদারি এবং আইনের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছে সচেতন মহল।

এ প্রসঙ্গে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: ইকবাল হোসাইনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, শুধুমাত্র মাদক নয় সব ধরণের অপরাধ দমণে সোচ্চার রয়েছে পুলিশ। মুখোশধারী মাদককারবারিদের ব্যাপারেও একাধিক ভাবে ছায়া তদন্ত এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।