http://csb24.com/id/83960/

ঢাকা, , সোমবার, ২৫ মে ২০২০

তৃতীয় ম্যাচটিও জিতে জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করেছে বাংলাদেশ

প্রকাশ: ২০২০-০৩-০৬ ২৩:০৯:২২ || আপডেট: ২০২০-০৩-০৬ ২৩:০৯:৩১

খেলাধুলা: লিটন দাস ও তামিম ইকবাল অমন রুদ্রমূর্তিধারণ করবেন কে জানত ? অনেক অর্জন এই দুই ওপেনার ঝুলিতে নিয়ে গেছেন। তবে ছোট একটি দীর্ঘশ্বাস হয়তো থাকবে লিটনের। ডাবল সেঞ্চুরির সুযোগ তো প্রতিদিন আসে না! প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে সে রেকর্ডের কাছাকাছি অবশ্য গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পারলেন না এ দফায়!

রেকর্ড বুক অবশ্য ওলট-পালট হয়ে গেছে। ওয়ানডে ক্রিকেটে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ ২৯২ রানের জুটিতে পাহাড়সম রান তুলে ফেলেন দুই ওপেনার। বৃষ্টির জন্য ৪৩ ওভারের ম্যাচে নেমে আসে জিম্বাবুয়ে-বাংলাদেশের লড়াইটি। বাংলাদেশ তামিম ও লিটনের সেঞ্চুরিতে ভর করে ৩ উইকেটে ৩২২ রান তুলে নেয়। জিম্বাবুয়ের মুম্বা ৩টি উইকেট নিলেও খরচ করেছেন ৬৯ রান। ডাক ওয়ার্থ লুইস পদ্ধতি অবলম্বন করে জিম্বাবুয়ের জন্য ৪৩ ওভারে ৩৪২ রান টার্গেট নির্ধারণ করা হয়।

মাশরাফিকে হতাশ করেননি বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। তৃতীয় ম্যাচটিও জিতে জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করেছে বাংলাদেশ (৩-০)। দেশসেরা অধিনায়কের বিদায় হয়েছে চমৎকার। অধিনায়ক মাশরাফি চলে গেলেন। খেলোয়াড় মাশরাফি আবারো জাতীয় দলে ফিরবেন কিনা সেটার জন্য এখন অপেক্ষা।

৩৪২ রানের টার্গেটে যেভাবে ব্যাট করা উচিৎ ছিল জিম্বাবুয়ে সেভাবে পারেনি। নিয়মিত বিরতি দিয়ে উইকেট হারিয়েছে তারা। আক্রমণের সূচনা করেন মাশরাফি নিজেই। জিম্বাবুয়ের ওপেনারকে ফেরত পাঠান তিনি। এরপর ব্যাটসম্যানদের যাওয়া আসার মিছিল। মাধেভিরে (৪২) ও সিকান্দার রাজা জিম্বাবুয়ের ইনিংসকে সম্মানজনক করার চেষ্টা করেছে মাত্র। কখনই মনে হয়নি জিম্বাবুয়ে এই ম্যাচ জেতার জন্য খেলছে। তাইজুল ও সাইফউদ্দিন দারুণ বোলিং করেছেন। বাংলাদেশ ১২৩ রানে জিতেছে ম্যাচটি। সাইফউদ্দিন ৪ উইকেট নিয়ে সবচেয়ে সফল বোলার। ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ‘ফেনী এক্সপ্রেসের’।

অনেক অর্জনের দিনে বিষাদ লেগেছিল মেঘের ভেলায়। অধিনায়ক হিসেবে যে জাতির আবেগ মাশরাফি শেষ বারের মত মাঠে নেমেছিলেন। টস থেকে শুরু করে আবার ফিল্ডিংয়ে যতবার এসেছেন ততবার পুরো সিলেট স্টেডিয়াম গর্জন করে উঠেছে। অধিনায়ক ক্যারিয়ারের ৮৭ ম্যাচের ৪৩টিতে টসে জিতেছেন মাশরাফি। গতকাল অবশ্য টসে হারলেন নড়াইল এক্সপ্রেস। সবাইকে চমকে দিয়ে ফিল্ডিং নিলেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক শন উইলিয়ামস।

বাংলাদেশ দলে ৪টি পরিবর্তন ছিল। মুশফিক, আল-আমিন, শফিউল ও মোহাম্মদ মিথুন ছিলেন না। বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে অভিষেক হয় আফিফ ও মোহাম্মদ নাইম শেখের। ১৩২ ও ১৩৪তম ওয়ানডে খেলোয়াড় হিসেবে লাল-সবুজের জার্সি গায়ে দেন তারা। মাশরাফি বেশ আপ্লুত ছিলেন। দুজনকে নিয়ে ছবিও তোলেন।

তামিম ইকবাল আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি ও ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ১৫৮ করেছিলেন। কালও আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে আসেন তিনি। দ্বিতীয় ম্যাচে লিটন রান আউট হয়ে হতাশ ছিলেন। পরের ম্যাচে একেবারে দুরন্ত শুরু করে বাংলাদেশ লিটন ও তামিমে।

বাংলাদেশের ইনিংসে পুরো গল্পটাই এই দুই ওপেনারের। বেলা ৪টা ৭ মিনিটে বৃষ্টি নেমে আসে সিলেটের লাক্কাতুড়া আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের বুকে। বাংলাদেশের ইনিংস তখন ৩৩.২ ওভারে ১৮২ রান। লিটন তখন ১০২ ও তামিম ৭৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। লিটন ক্যারিয়ারে তৃতীয় ও সিরিজে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করেন।

বৃষ্টির পর হিসাব-নিকাশ বদলে যায়। ৭ ওভার কমে যায়। ৪৩ ওভারের খেলা হবে। ৯ ওভার ৪ বল হাতে ছিল (৫৮ বল) বাংলাদেশের হাতে। সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে আবার খেলা শুরু হয়। তামিম ও লিটন আবার মাঠে আসেন। প্রকৃতির কোনো ঝড় নয়। এবার ব্যাটিং ঝড় ও তাণ্ডব দেখল সিলেটবাসী।

তামিম ক্যারিয়ারের ১৩তম সেঞ্চুরি তুলে নেন। আর লিটন আগে বাড়তে থাকেন। এতদিন বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রান ছিল তামিমের (১৫৮)। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে নিজের ১৫৪ রানের রেকর্ডটি ভেঙে ১৫৮ করেন তিনি। এক ম্যাচও থাকল না রেকর্ড। লিটন সেই রেকর্ড ভেঙে ১৭৬ রানে আউট হলেন। পুরো গ্যালারি চুপ হয়ে যায়। ৪০.৫ ওভারে আউট হন লিটন। তখন ইনিংসে ১৩ বল বাকি। ২০০ হতো কিনা এই প্রশ্ন এখন কালের গর্ভে চলে গেলো।

১৪৩ বলে ১৬টি চার ও ৮টি ছক্কার সৌজন্যে বিশাল স্কোর তুলে নেন ডান হাতি ওপেনার লিটন। এর মাঝে বাংলাদেশের সব উইকেটে ২২৪ রানের জুটির রেকর্ডটিও ভেঙে ফেলেন তারা (২০১৭, কার্ডিফ, চ্যাম্পিয়নস ট্রফি, প্রতিপক্ষ-নিউজিল্যান্ড)। শুধু তাই নয়। বাংলাদেশের যেকোনো উইকেটে এতো রানের জুটি (২৯২) আর নেই। লিটন ওয়ানডেতে ১ হাজার রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেন। এছাড়া ওয়ানডেতে লিটন ও তামিমের জুটি এখন তৃতীয় সর্বোচ্চ। রানের ক্ষেত্রে যেটা কিনা ৬ষ্ঠ সর্বোচ্চ। তামিম ক্যারিয়ারের ১৩তম সেঞ্চুরি পেয়েছেন। টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি সিরিজে। ২০১০ সালে এক সিরিজে দুই ওপেনার ২ ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছিলেন (ডিভিলিয়ার্স-আমলা)। তামিম ও লিটন তিন ম্যাচের সিরিজে সেই কৃতিত্ব আবার দেখালেন। বাংলাদেশ ৪৩ ওভার মানে বৃষ্টির পরে ৫৮ বলে ১৪০ রান তুলে ফেলে। ১২৮ রানে তামিম অপরাজিত ছিলেন। ১০৯ বলে ৭টি চার ও ৬টি ছক্কা হাঁকান তিনি।

লিটনের আরও একটি কৃতিত্ব বলতেই হবে। ১৫০ বা তার চেয়ে বেশি স্কোর করা দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান তিনি। তামিমের পাশে থাকলেন তিনি। তামিমকে নিয়েই পুরো ইনিংসে রাজত্ব করেছেন তিনি। মাশরাফির বিদায়কে রঙিন করতেই যেন পণ করেছিলেন দুজন। মিশন সফল হয়েছে তামিম-লিটনের। আরো একবার মাশরাফি মাঠে ফিরবে খেলোয়াড় হিসেবে। এখন প্রত্যাশা এটাই।