ঢাকা, , বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

কক্সবাজারে জন্মনিবন্ধন সার্ভার উন্মুক্ত হচ্ছে : জেলা প্রশাসক

প্রকাশ: ২০১৯-০৯-১২ ১৯:৩৭:৪২ || আপডেট: ২০১৯-০৯-১২ ১৯:৩৭:৪৭

সিএসবি ২৪ রিপোর্ট ॥

রোহিঙ্গা ঢলের পর হতে বন্ধ থাকা জন্মনিবন্ধন সার্ভার শীঘ্রই খুলে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন। সার্ভার বন্ধ থাকায় স্থানীয়দের নানামূখী দূর্ভোগের কথা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও উখিয়া-টেকনাফের শৃংখলা এবং বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে বৃহস্পতিবার(১২ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত সভায় জেলা প্রশাসক এ তথ্য জানিয়েছেন।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের শহীদ এটিএম জাফর আলম সিএসপি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, জন্মনিবন্ধন সনদ সব বয়সের মানুষের জন্য জরুরী একটি উপকরণ। জমি রেজিস্ট্রি, পাসপোর্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ও ভোটার হওয়াসহ নানা প্রয়োজনীয় কাজে জন্মনিবন্ধন অত্যাবশ্যকীয়। কিন্তু ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা ঢলের পর রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়া ঠেকাতে জন্মনিবন্ধন সার্ভার বন্ধ করা হয়। এরপর থেকে স্থানীয়রা চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছিল। এনিয়ে স্থানীয়রা বার বার প্রশাসনের কাছে ধর্না দিয়ে আসছেন। এসব দূর্ভোগের কথা চিন্তা করে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে নিয়মতান্ত্রিক ভাবে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। স্থানীয় জনগোষ্ঠির সমস্যা ও দূর্ভোগের কথা সবিস্তারে উল্লেখ থাকায় আশা করছি শীগগিরই সার্ভার খুলে দেয়া হবে।

জেলা প্রশাসক আরো বলেন, এভাবে সার্ভার বন্ধ করে ভিনদেশীদের ভোটার হওয়া বা পাসপোর্ট পাওয়া বন্ধ করা সম্ভব নয়। এসব জন্মনিন্ধন আসে জনপ্রতিনিধি ও জনসম্পৃক্ত স্থানীয় সরকার শাখাগুলো থেকে। এখানে দায়িত্বরত মানুষগুলো বাংলাদেশেরই নাগরিক। তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হয়ে দেশপ্রেমের সাথে কাজ করতে হবে। কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ ও যাচাইয়ের পরই জন্মনিবন্ধন সরবরাহ করতে জনপ্রতিনিধিদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

সভায় ক্যাম্প ও উখিয়া-টেকনাফের চলমান নানা সমস্যা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা। এতে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তার পাশাপাশি স্থানীয়দের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার বিষয়ে ঐকমত্য হয়।

সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শ্রাবস্তী রায়, পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন, অতিরিক্ত আরআরআরসি মো. সামশুদ্দোহা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাহজাহান আলী, ডিজিএফআইয়ের লে. কর্ণেল রুবাইয়াত, কক্সবাজার পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান, উখিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হামিদুল হক চৌধুরী, টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আলম, ইউএনও উখিয়া নিকারুজ্জামান চৌধুরী, টেকনাফের ইউএনও রবিউল হাসান, টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও উখিয়া থানার ওসি আবুল মনসুরসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে মিয়ানমার হতে রোহিঙ্গারা ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে মানবিক আশ্রয় নেয়ার পর কক্সবাজার জেলাসহ তিন পার্বত্য জেলায় জন্মনিবন্ধন সার্ভাও কেন্দ্রীয়ভাবে বন্ধ করে দেয় সরকার। রোহিঙ্গাদের গণহারে জন্মনিবন্ধন পাওয়ার ভয়ে এমনটি সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়া ও জন্মনিবন্ধন নিয়ে পাসপোর্ট পাওয়া কোনভাবেই থেমে থাকেনি। আমাদেরও দেশীয় অসাধু কিছু জনপ্রতিনিধি ও লোভী আইটি বিশেষজ্ঞ টাকার বিনিমিয়ে জন্মনিবন্ধন সরবরাহ করে আসছে। মাঝখানে দূর্ভোগ পুহিয়েছে স্থানীয়রা। এখন সার্ভার খূলে দিয়ে জনপ্রতিনিধিরা সচেতন ও লোভ ত্যাগ করলেই কেবল রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশী হওয়ার পথ রূদ্ধ হবে।

Skip to toolbar Log Out