ঢাকা, , শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯

রোহিঙ্গাদের নিয়ে বাড়ছে স্থানীয়দের আস্থাহীনতা

প্রকাশ: ২০১৯-০৮-২৪ ১৯:৪৫:১১ || আপডেট: ২০১৯-০৮-২৪ ১৯:৪৫:১৬


হামিদ উল্লাহ ও পলাশ বড়ুয়া, উখিয়া থেকে
দুইবছর আগে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে আসা লাখ লাখ নির্যাতিত রোহিঙ্গা উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলদেশে প্রবেশ করার সময় স্থানীয় মানুষ দল বেধে তাদের এগিয়ে নিয়ে এসেছিল। কিন্তু এরইমধ্যে এই স্থানীয় লোকজনই রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কারণে নিজেদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও অস্তিত্ব নিয়ে উদ্বিগ্ন। অন্যদিকে দুইবছর পর বিভিন্ন ক্যাম্পে অবস্থানকারী রোহিঙ্গা শরণার্থীরা আরো মারমুখি। আজ রবিবার তারা উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩ টি ক্যাম্পে বাংলাদেশে আশ্রয়ের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আলাদাভাবে সমাবেশ করছে। এ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনেও চলছে অস্থিরতা।

এরমধ্যে গত বৃহস্পতিবার রাতে টেকনাফে যুবলীগ নেতা খুনের ঘটনায় উভয়পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ সরকারের যেকোনো সম্ভাব্য ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রস্তুতি রয়েছে রোহিঙ্গাদের। গতকাল শনিবার উখিয়া কুতুপালং ট্রানজিট ক্যাম্পের একাধিক রোহিঙ্গা যুবক আমাদের সময়কে বলেন, তারা কোনোভাবেই পিছু হঁটবেন না। এজন্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে তারা প্রস্তুত।

রোহিঙ্গাদের এমন আচরণ প্রসঙ্গে উখিয়া ক্যাম্প-১৩ এর হেড মাঝি মুজিব উল্লাহ আমাদের সময়কে বলেন, বিভিন্ন ক্যাম্পে কিছু রোহিঙ্গা নেতা সক্রিয় আছেন। তাদের নানা ধরনের ষড়যন্ত্রের কারণে রোহিঙ্গাদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। তবে আমরা বাংলাদেশের প্রশাসনকে কথা দিয়েছি আমাদের ক্যাম্পে এসব করতে দেব না। আমরা ২৫ আগস্টের গণহত্যার প্রতিবাদেও কোনো কর্মসূচী পালন করব না যদিও অন্য ক্যাম্পগুলো তা পালন করবে।

জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেদেশের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের উপর যে গণহত্যা চালিয়েছিল তার প্রতিবাদে আজ উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে প্রতিবাদ সমাবেশের উদ্যোগ নিয়েছে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা। এ নিয়েও স্থানীয় লোকজন এবং প্রশাসনের মধ্যে সতর্কতা রয়েছে। আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিচ এন্ড হিউম্যান রাইটস (এআরএসপিএইচ), ভয়েস অব আরাকান (ভোয়া) ও ফ্রি রোহিঙ্গা কলিশনের (এফআরসি) নেতৃত্বে বিভিন্ন ক্যাম্পে রোহিঙ্গারা সমাবেশ করবে বলে নিশ্চিত করেছেন এআরএসপিএইচ এর সেক্রেটারি নুরুল মাসুদ ভূঁইয়া।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল মনসুর বলেন, রোহিঙ্গারা সমাবেশ করবে কিনা তা কর্তৃপক্ষ দেখবে। তবে সেটা ক্যাম্পের বাইরে তাদের জমায়েত হবার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের আচরণের কারণে তাদের বিরুদ্ধে এলাকার মানুষের ক্ষোভ রয়েছে। টেকনাফে যুবলীগ নেতা খুনের পর তা আরো বেড়েছে। তবে আমরা স্থানীয় লোকজনকে নিয়ন্ত্রনে রেখেছি যাতে তারা কোনোভাবেই বিক্ষুব্ধ হয়ে না উঠে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুই বছর আগে রাখাইনের নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে যে মনোভাব স্থানীয়রা পোষণ করেছিল, এখন তা আর নেই। বিশেষ করে তারা নিজ দেশে ফিরে না যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় অনেকেরই মোহভঙ্গ ঘটেছে। যারা নিজ জমি ও বাড়িতে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছিলেন, তারা নিজেদের জমিজমা হারানোর শঙ্কায় আছেন।

টেকনাফ উপজেলার জাদিমুড়া এলাকার মুদি দোকানদার জসিম উদ্দিন নিজের ১৪ একর পাহাড়ি জায়গা শরণার্থীদের থাকার জন্য সানন্দে দিয়ে দেন। কিন্তু দুই বছর পর আক্ষেপ করে তিনি বলেন, এখন আর আমার কিছু নেই। আমার জমি ও ব্যবসাসহ সবকিছু রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রনে।

তবে উখিয়া কুতুপালং ওয়ান ইস্ট, ওয়ান ওয়েস্ট, থ্রি, ফোর ও ফোর এক্সটেনশন ক্যাম্প এর ইনচার্জ শামীমুল হক পাবেল আমাদের সময়কে বলেন, টেকনাফে যুবলীগ নেতা খুনের ঘটনায় ক্যাম্পের রোহিঙ্গাদের দোষ দেওয়ার সুযোগ নেই। এ ঘটনার পেছনে রাজনীতি থাকতে পারে। ঘটনাটি গভীরভাবে তদন্তের সুযোগ রয়েছে।