ঢাকা, , শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯

রোহিঙ্গাদের ফেরাতে শক্ত অবস্থানে যাবে বাংলাদেশ : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ২০১৯-০৮-২৩ ২০:০৭:৪০ || আপডেট: ২০১৯-০৮-২৩ ২০:০৭:৪৪

সিএসবি ২৪ ডটকম ॥ মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর দমন-নির্যাতনে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরাতে বাংলাদেশ শক্ত অবস্থানে যাবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একেএম আবদুল মোমেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের আস্থা অর্জন করা মিয়ানমারের দায়িত্ব। আর এই সংকটের দায় এড়াতে পারে না জাতিসংঘও।

আজ শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শোক দিবসের এক আলোচনা সভা শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে সবকিছু করেছে। আঞ্চলিক শান্তি ও উন্নয়নের জন্য রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়া দরকার, এটা মিয়ানমারকে বুঝতে হবে। রোহিঙ্গাদের আস্থা অর্জন করা মিয়ানমারের দায়িত্ব। মিয়ানমারকে তাদের দাবির বিষয়ে সংবেদনশীল হতে হবে।

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে জাতিসংঘের ভূমিকার সমালোচনা করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের প্রতি মিয়ানমার সরকারের নির্যাতন ও বিদ্বেষের বিষয়ে জানার পরও জাতিসংঘ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তাই এর দায়ভার জাতিসংঘও এড়াতে পারে না।’

মন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আমাদের অবস্থান, আমরা একটু শক্ত হবো। চিন্তা-ভাবনা করছি আমরা একটা ইন্টারন্যাশনাল কমিশন জোগাড় করব, যারা রাখাইনে নট ইন বাংলাদেশ। ইউএনএইচসিআর, আইওএম যারা আছে তাদেরও আমরা বলছি তোমরা আমাদের এখানে থেকে লাভ নাই। তোমরা বরং রাখাইনে যাও, মিয়ানমারে যাও ওদের (রোহিঙ্গা) জন্য কনডিউসিভ (উপযোগী) এনভায়রনমেন্ট তৈরি করো। তোমাদের বড় দায়িত্ব ওখানে।’

বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয়রত রোহিঙ্গারা কেউ শর্তহীনভাবে মিয়ানমারে ফিরতে রাজি না হওয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার দ্বিতীয়বারের মতো কার্যত ভেস্তে যায় বহুল প্রত্যাশিত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া। সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষার পরও কোনো রোহিঙ্গা স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফিরে যেতে ট্রানজিট ক্যাম্পে আসেনি। ফলে হতাশার মধ্যেই দিনটি পার করতে হয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন না হওয়াকে দুঃখজনক উল্লেখ করে গতকাল পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত না যাওয়ার জন্য যারা প্ররোচনা দিয়েছে, যারা ইংরেজিতে পোস্টার, প্ল্যাকার্ড লিখে সাপ্লাই দিয়েছে এবং যেসব এনজিও না যাওয়ার জন্য তাদের আহ্বান জানিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।