ঢাকা, , শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯

টেকনাফে রোহিঙ্গাদের হাতেই যুবলীগ নেতা খুন, বিক্ষুদ্ধ জনতা

প্রকাশ: ২০১৯-০৮-২৩ ১৯:৩৪:৩২ || আপডেট: ২০১৯-০৮-২৩ ১৯:৩৪:৩৭


নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

মিয়ানমার থেকে লাখ লাখ রোহিঙ্গা যখন আশ্রয়ের জন্য বাংলাদেশে আসে, তখন অন্যান্য মানবতাকামি মানুষের মত মোহাম্মদ ওমর ফারুক (২৯) নামের এক যুবক রোহিঙ্গাদের মুখে খাবার তুলে দিতে ব্যস্থ ছিলেন। ঠিক এই ঘটনার দুই বছর পর এসে আজ সেই রোহিঙ্গারাই তাকে গুলি করে হত্যা করে। শুধু তাই নয়, নিহতের পরিবারের সদস্যরা ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ আনতে গেলেও বাঁধা দেন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা।

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুরা এলাকায় তাকে গুলি করে হত্যা করে একদল রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী।

নিহত যুবক ওই এলাকার মোহাম্মদ মোনাফ কোম্পানির ছেলে এবং হ্নীলা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড যুবলীগ ও জাদিমুরা এম আর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ‘ওইদিন রাতে নিহত যুবকের বাড়ির সামনে থেকে তাকে ফিল্ম স্টাইলে তুলে নিয়ে যান রোহিঙ্গা ডাকাত সর্দার সেলিমের নেতৃত্বে একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। পরে তাকে পাহাড়ে নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। খবর পেয়ে ফারুকের ভাই আমির হামজা ও উসমানসহ স্বজনেরা সেখানে গেলে সন্ত্রাসীরা তার মরদেহ আনতেও বাধা দেয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।

নিহতের ভাই আমির হামজা জানান, ‘রাখাইনে রোহিঙ্গাদের দমন নিপীড়ন শুরু হলে সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা অসহায় রোহিঙ্গাদের পাশে অন্যান্যদের মত আমার পরিবারও সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে আসছিল। এসব রোহিঙ্গাদের বিভিন্নভাবে সাহায্যের পাশাপাশি অসংখ্য মানুষের মুখে খাবার তুলে দেয়া হয়। বিশেষ করে আমার ভাই নিহত ওমর ফারুক রাতদিন পরিশ্রম করে অনেক রোহিঙ্গাদের সাহায্য সহযোগিতা করেছেন। অথচ, আজ সেই রোহিঙ্গারা আমার ভাইকে গুলি করে হত্যা করেছে। খবর পেয়ে আমরা জাদিমুরা পাহাড়ের পাশে পড়ে থাকা লাশের জন্য গেলে উগ্রবাদি একদল রোহিঙ্গা আমাদের লাশ আনতে বাঁধা দেয়। পরে পুলিশের সহায়তায় লাশ নিয়ে আসা হয়’।

টেকনাফ থানার ওসি তদন্ত এবিএম এস দোহা জানিয়েছেন, খবর পেয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। রাতেই ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা করা হয়েছে। তবে কী কারণে এই হত্যাকান্ড ঘটলো তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

হত্যার প্রতিবাদে স্থানীয়দের সড়ক অবরোধ:

শুক্রবার (২৩ আগষ্ট) সকাল থেকে টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কের জাদিমুরা এলাকায় যুবলীগ নেতা ওমর ফারুককে হত্যার প্রতিবাদে সড়কে নেমে আসে স্থানীয় শত শত জনতা। এসময় তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে প্রতিবাদ জানায়। তারা হত্যাকারী রোহিঙ্গা স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার দাবী জানাতে থাকে।

খবর পেয়ে টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগ সভাপতি নুরুল আলম, ইউএনও মো. রবিউল হাসান, সহকারী কমিশনার ভূমি আবুল মনসুর, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাশ সহ র‌্যাব-পুলিশ ও অন্যান্য আইন শৃংখলা বাহিনী ঘটনাস্থলে এসে বিক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।

গ্রেপ্তারের আশ্বাসে সড়ক অবরোধ তুলে নেয় বিক্ষুদ্ধ জনতা:

হত্যাকারী রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাসে স্থানীয় বিক্ষুদ্ধ জনতা তিন ঘন্টা পর সড়ক অবরোধ তুলে নেয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরির্দশন শেষে স্থানীয়দের সাথে কথা বলেন।

এসময় তিনি বলেন, ওমর ফারুকের হত্যাকারীসহ সকল সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে পাশাপাশি স্থানীয়দের নিরাপত্তায় উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হবে। পরে স্থায়ীয় ওসির কথায় আশ্বাস্ত হয়ে বিক্ষুদ্ধ জনতা অবরোধ তুলে নেয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা যুবলীগের সভাপতি সোহেল আহমদ বাহাদুর, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল আলম, হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলীসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।