ঢাকা, , মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ত্যাগের মহিমা ও আনন্দের বার্তায় পালিত হবে ঈদুল আযহা

প্রকাশ: ২০১৯-০৮-১১ ২৩:০৩:১২ || আপডেট: ২০১৯-০৮-১১ ২৩:০৩:১৬


অনলাইন ডেস্ক: ত্যাগের মহিমা ও আনন্দের বার্তা নিয়ে বছর ঘুরে আবার এসেছে পবিত্র ঈদুল আযহা। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে সারা দেশের মুসলমান উদযাপন করবেন ঈদ। সামর্থ্যবানদের অনেকেই কোরবানির পশু কেনার কাজ সেরে ফেলেছেন। যারা এখনো কেনেননি, তারা আজ শেষ সময়ে তা সেরে নেবেন। ঈদের মূল প্রস্তুতি কার্যত কোরবানির পশু কেনা এবং যত্ন ও পরিচর্যায়।

চলতি বছর বন্যা ও ডেঙ্গুর কারণে ঈদ উপযাপনের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। ডেঙ্গুর প্রকোপে রাজধানী তো বটেই, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাদের মৃত্যু হয়েছে, তাদের পরিবারে এবারের ঈদ ভীষণ শোকাবহ হয়ে পড়বে হারিয়ে যাওয়া প্রিয় মানুষটিকে ছাড়াই এ উৎসব উদযাপন করতে হচ্ছে বলে। এছাড়া বন্যাদুর্গত জেলাগুলোতে দুর্গত মানুষ খাবার ও সুপেয় পানির সংকটে আছেন। এমন দুর্দশার মধ্যেই তারা ঈদ উদযাপন করবেন।

ঈদের আনন্দ প্রিয়জনের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে পথের দুর্ভোগ মেনে নিয়েই কয়েকদিন ধরে রাজধানী ছেড়েছেন ঘরমুখো মানুষ। গত রোজার ঈদে বাড়ি যাওয়া স্বস্তিদায়ক হলেও এবার উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে বাসে শিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে। ট্রেনও ছেড়েছে দেরিতে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

সারা বিশ্বের মুসলমানরা ১০ জিলহজ কোরবানি দিয়ে থাকেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নির্দেশে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার বছর পূর্বে হজরত ইবরাহিম (আ) তার প্রাণপ্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইলকে (আ) কোরবানি করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। পুত্র কোরবানির পরীক্ষায় হজরত ইবরাহিম (আ) উত্তীর্ণ হয়েছিলেন এবং করুণাময়ের অপার কুদরতে ইসমাইলের (আ) পরিবর্তে দুম্বা কোরবানি হয়ে যায়। ইবরাহিম (আ) সেই ত্যাগের মহিমার কথা স্মরণ করে আল্লাহর নির্দেশে মুসলমানরা পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন। আর্থিক ভাবে সামর্থ্যবানদের কোরবানি দেওয়া ওয়াজিব।

সারা দেশের মুসলমানরা খুব সকালে মসজিদে ঈদের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় করবেন। এর পর একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। এর পর বাড়ি ফিরে পশু কোরবানি দেবেন। জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা উদযাপিত হলেও এর পর দুদিনও কোরবানি দেওয়া যায়। ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ভাগাভাগি করে নিতে দরিদ্র ও দুস্থদের মাঝে কোরবানির পশুর মাংস বিতরণ ইসলামে বিধান রয়েছে।

ঈদে প্রতিবারের মতোই হাসপাতাল, এতিমখানা, শিশুসদন, ছোটমণি নিবাস, বৃদ্ধাশ্রম, ভবঘুরে আশ্রয় কেন্দ্রে থাকবে বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা। রাজধানীও সাজবে নবসাজে। রাজধানীর প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপ সাজানো হয়েছে জাতীয় পতাকা এবং বাংলা ও আরবিতে ঈদ মোবারক খচিত ব্যানার দিয়ে। চিড়িয়াখানা, শিশুপার্ক দর্শনার্থীদের জন্য সাজানো হয়েছে নতুনরূপে।

শুক্র ও শনি এবং ১৫ আগস্ট শোক দিবস মিলিয়ে ৮ দিনের ছুটি থাকবে ঈদে। ঈদে সংবাদপত্রগুলো বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করছে। টেলিভিশন চ্যানেল ও বেতারে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে।

রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ঈদের জামাতের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সাড়ে ৮টায় সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহে। ঈদগাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‌্যাব ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রাখবেন। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় মহানগরীর সব ওয়ার্ডে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খেলার মাঠে এবং জাতীয় সংসদ ভবনে দক্ষিণ প্লাজায় আরও দুটি পৃথক ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রতি বছরের মতো এবারও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

দেশবাসীকে ঈদ শুভেচ্ছা : পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।