ঢাকা, , শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯

চলাচলের যোগ্যতা হারিয়েছে উখিয়া-টেকনাফ সড়ক (ভিডিও)

প্রকাশ: ২০১৯-০৮-০১ ১৮:১২:০৮ || আপডেট: ২০১৯-০৮-০১ ২১:৩০:২৩

সড়কে ধানের চারা রোপন



পলাশ বড়ুয়া:
কক্সবাজারের শহীদ এটিএম জাফর আলম (উখিয়া-টেকনাফ) সড়কের কোটবাজার স্টেশনে প্রতিবাদ স্বরূপ ধানের চারা রোপন করেছে ভুক্তভোগীরা। সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে স্কুল, কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি পেশা মানুষের দূর্ভোগ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এদিকে বৃহস্পতিবার (১ আগষ্ট) বিকেল ৫ টার দিকে উপজেলার জনবহুল কোটবাজার স্টেশনে ধানের চারা রোপনের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সড়ক ও জনপদ বিভাগের (সওজ) কর্মকর্তা বলছেন, টানা বৃষ্টির কারণে সড়কে থাকা বিটুমিনের আস্তরণ তোলা সম্ভব হয়নি। এ কারণে সড়কের মূল কার্পেটিংয়ের কাজও শুরু করা যাচ্ছে না। তিনটি প্রকল্পের আওতায় ৭৯ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার ও উনয়ন কাজে ৪৫৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এই কাজের তত্ত্বাবধান করছে।


গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে দু’টি প্রকল্পের অধীনে ৫০ কিলোমিটারের সংস্কার কাজ শুরু হয়। তৎমধ্যে প্রথম প্যাকেজের উখিয়া পর্যন্ত প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১২২ কোটি টাকা। দ্বিতীয় প্যাকেজে উনচিপ্রাং পর্যন্ত ১৫৫ কোটি টাকা। যার বেসিক কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। পাঁচ মাসের কাজে অগ্রগতি হয়েছে ৩০ শতাংশ জানান সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় ভুক্তভোগী এম. কলিম উল্লাহ বলেন, রোহিঙ্গা সংস্কার কাজ ধীরগতি হওয়ার কারণে প্রতিনিয়ত যানজট লেগে থাকে। রোহিঙ্গা আসার পর থেকে অতিরিক্ত যানবাহন বেড়ে যাওয়ায় মরিচ্যা থেকে পালংখালী পর্যন্ত অন্তত: ৪৫ কিলোমিটার সড়ক জুড়ে ৫ শতাধিক খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। যার দরুণ প্রায় সময়ই সড়ক দূর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে আজ সড়কে ধানের চারা রোপন করা হচ্ছে।

সিএনজি চালক মোহাম্মদ জহির জানান, সড়কের বেহাল দশার কারণে প্রতিনিয়ত যানজট লেগে থাকে। গাড়ীর যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কয়েক টাকা ভাড়া বেশি দাবী করলেও যাত্রীদের সাথে প্রতিনিয়ত বাকবিতন্ডা করতে হয়।

উখিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, সড়কে ধানের চারা রোপন এটি একটি ক্ষোভের বহি:প্রকাশ মাত্র। এখন সমস্ত ক্ষমতা আমলাদের হাতে, নেতাদের হাতে নেই। রোহিঙ্গাদের কারণে কক্সবাজার তথা উখিয়া-টেকনাফ সড়ক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেদিকে কারো লক্ষ্য নেই। অথচ প্রতিদিন হাজার হাজার এনজিও’র গাড়ী চলাচল করছে এই সড়ক দিয়ে। প্রশাসন এবং এনজিও’র সখ্যতার কারণে তারা ক্ষমতাধর বনে গেছে। সে কারণে ন্যায্য কোন দাবী আদায় করা যাচ্ছে না। রাস্তাও সংস্কার হচ্ছে না। ইতিপূর্বে সড়কের বেহাল অবস্থা বিষয়ক জেলা সমন্বয় সভায়ও ব্যাপক আলোচনার কথা তিনি জানান।

উখিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ও অধ্যাপক আদিল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ১১ লাখের অধিক রোহিঙ্গা আশ্রিত এলাকা হিসেবে যেভাবে গুরুত্ব পাওয়ার কথা সেভাবে পায়নি। তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত ২ হাজার বিদেশিসহ অন্তত হাজার হাজার চাকরিজীবীর যাতায়াত এই রোড দিয়ে। ক্যাম্প কেন্দ্রিক ২ হাজারের বেশি প্রাইভেট গাড়ী এবং মালবাহী অন্তত: ৪ শতাধিক ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কের এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

অপরদিকে টেকনাফ সীমান্ত বাণিজ্যে আমদানি-রপ্তানির ট্রাক, পর্যটকদের গাড়ী, যাত্রীবাহী বাস চলাচল করছে আরও এক হাজারের বেশি। ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক, অটোরিকশা, জিপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলে আরও ৭ হাজার। ফলে সড়কটি করুণ দশা।

সওজ কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, দ্বীর্ঘ মেয়াদী স্থায়ীত্বের জন্য কাজ করলে তো কষ্ট একটু হবে। সম্প্রতি টানা ভারী বর্ষণে সড়কের উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হয়েছে। স্টেশন গুলোতে ১৮ ফুটের জায়গায ৪৫ ফুট আরসিসি করার প্রস্তাব করেছি। সড়কের দুই পাশে নালা খনন, বৈদ্যুতিক খুঁটি, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, ভূ-গর্ভস্থ টিঅ্যান্ডটি ও ইন্টারনেট ব্রডব্যান্ড লাইন অপসারণ ও মাটি ভরাটের কাজ শেষ হয়েছে। তিনি আরো বলেন, পূর্বের বিটুমিন তুলে ফেলার পরই সেখানে পাঁচ ইঞ্চি কার্পেটিং হবে। ২০২০ সালের জুনের মধ্যে অবশিষ্ট ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করা হবে বলেও তিনি জানান।