ঢাকা, , রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯

জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়া ৬০ শতাংশই সাধারণ ও ইংরেজি মাধ্যমের

প্রকাশ: ২০১৯-০৬-২২ ১৯:৩৪:৫৪ || আপডেট: ২০১৯-০৬-২২ ১৯:৩৫:২৫

অনলাইন ডেস্ক:: জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়া ৫৬ শতাংই মূল ধারার অর্থাৎ সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে এসেছেন। যেখানে ২২ শতাংশ মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার ও ইংরেজি মাধ্যম ও অশিক্ষিত রয়েছেন বাকি ২২ শতাংশ। সে হিসেবে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়াদের প্রায় ৬০ শতাংশই সাধারণ ও ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষাব্যবস্থার। এদের মধ্যে প্রায় ৮২ শতাংশই ইন্টারনেট জগতের কোনো মাধ্যম হয়ে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন।

শনিবার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে নাগরিকদের অংশগ্রহণ’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালায় এমন তথ্য জানিয়েছে পুলিশের এন্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ)।

হলি আর্টিজান হামলা পরবর্তী সময়ে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বিভিন্ন সময় গ্রেফতার ২৫০ জনের মধ্যে করা জরিপ থেকে এমন তথ্য বেরিয়ে এসেছে বলে জানান তারা।

এটিইউ জানায়, তারদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দেখা গেছে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়া যুবকদের অধিকাংশই ইন্টারনেট তথা ভার্চুয়াল দুনিয়া থেকে উদ্বুদ্ধ।

এন্টি টেরোরিজম ইউনিটের উদ্যোগে কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ফর পিসের (সিডিপি) সহায়তায় এ কর্মশালায় বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসার শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।

এটিইউ’র অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে তিনটি জঙ্গি সংগঠন সক্রিয় রয়েছে- জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি), আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এবিটি) ও হিজবুত তাহরির- এই তিনটি সংগঠন বর্তমানে সক্রিয় থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করার চেষ্টা করছে। এদের কেউ কেউ আবার আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল কায়েদা, আল কায়েদা ইন ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্টস (একিউআইএস) এবং ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড সিরিয়া (আইএসআইএস) থেকে অনুপ্রাণিত। বাংলাদেশের জঙ্গিদের সবাই হোমগ্রোন ও কেউ কেউ আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

জঙ্গিবাদ রুখতে সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি মন্তব্য করে তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে আমরা সবার, বিশেষ করে যুব সমাজের আরো বেশি অংশগ্রহণ চাই। জঙ্গিদের একটি বড় অংশ ভার্চুয়াল জগতের মাধ্যমে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। ইন্টারনেট দুনিয়ায় এ ধরনের কার্যক্রম রুখে দেওয়া প্রায় অসম্ভব। তবে আমাদের বিশেষায়িত টিমের সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা ভার্চুয়াল জগত মনিটরিং করে যাচ্ছেন। এটি রুখে দিতে তরুণ সমাজের সচেতনতা সবচেয়ে জরুরি।

কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ২০১৮ এর তথ্য অনুযায়ী জঙ্গি সংগঠন আইএসআইএস প্রতিদিন প্রায় ৭০ হাজার টুইট করে। এছাড়া, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিদিন অন্তত ৯০ হাজার পোস্ট করে। আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনসহ দেশীয় সংগঠনগুলোর প্রধান টার্গেট থাকে মিডিয়া কাভারেজ। তারা কি করতে পারলো তার চেয়ে জরুরি কতোটা প্রচার পেলো। তাই জঙ্গি বিষয়ক সংবাদ পরিবেশনায় গণমাধ্যমকে আরো সতর্ক হতে হবে।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ফুয়াদ হাসান মল্লিক বলেন, সন্ত্রাসবাদ যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের চেয়ে বিপজ্জনক। আমাদের দেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ভূমিকম্পের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, যে কোনো সময় ভূমিকম্প হতে পারে। তেমনিভাবে সন্ত্রাসবাদের আঘাতও যে কোনো সময় হতে পারে। তাই অবশ্যই জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে আমাদের নজর দিতে হবে। এজন্য সব পর্যায়ের নাগরিকদের অংশগ্রহণে জোর দিতে হবে।

ইসিটাপের সিনিয়র ল এনফোর্সমেন্ট অ্যাডভাইজার ও প্রোগ্রাম ডিরেক্টর কার্ল ক্লার্ক তরুণদের কাছ থেকে জঙ্গিবাদের বিষয়ে বিভিন্ন মতামত শোনেন এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি লুসি ডেলি তার নিজ দেশে সব ক্ষেত্রে তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকারের নানা পদক্ষেপ তুলে ধরেন।