ঢাকা, , সোমবার, ১৫ জুলাই ২০১৯

শিল্পের বুনন শুধু পোশাকের নয়,সম্পর্কেরও

প্রকাশ: ২০১৯-০৫-১৩ ২১:২৮:০৮ || আপডেট: ২০১৯-০৫-১৩ ২১:৩৪:৪০

মোঃ মাহাবুব আলম:

উদ্যোক্তা-সরকার, উদ্যোক্তা- ক্রেতা, উদ্যোক্তা-শ্রমিক ভাই, বোনেরা এসকল সম্পর্কের ভিত্তিতে গড়ে উঠা এই শিল্পের বয়স এখন এসে দাঁড়িয়েছে ৪৪ বছরেরও বেশি। ৪৪০০ টি কারখানা ১৯৫৫ জন উদ্যোক্তা। ২ হাজার ৮১২ কোটি ৮৫ লাখ মার্কিন ডলারের বাজার। এরি মধ্যে ৪০ লাখের অধিক মানুষের কর্মসংস্হান, যার মোট সংখ্যার ৮০ শতাংশ নারী আর এই নিয়েই আমাদের দেশের বৃহত্তম রপ্তানি শিল্প খাত।

দেশে বিদেশে গার্মেন্টস শিল্পকে আজকের এ পর্যায়ে দাঁড় করাতে উদ্যোক্তা মালিকদের নিতে হয়েছে অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জ। মোকাবিলা করতে হয়েছে রানা প্লাজা,তারিন ফ্যাশননের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত অনেক ট্র্যাজেডি।

এর পর নেমে আসে বিদেশি সংস্হা Accord, Alliance And ILO এর খড়গ ফ্যাক্টরির ফিটনেস এবং পরিদর্শনের নামে,Compliance ইস্যু নিয়ে বিভিন্ন নিয়ম নীতি নিয়ে আসে তারা, নিয়ে আসে বিল্ডিং সেফটি, ফায়ার সেফটি ইস্যু, আমরা যারা উদ্যোক্তা আমাদের নতুন করে বিল্ডিং সেফটির জন্য বিনিয়োগ করতে হয়েছে কোটি কোটি টাকা। ফায়ার সেফটির জন্যও বিনিয়োগ করতে হয় কোটি কোটি টাকা।

কিন্ত Accord, Alliance এর এই দাপট কোটি কোটি টাকা নতুন করে ইনভেস্টমেন্ট একবারও কি ঋন দাতা কারি প্রতিষ্ঠান,ব্যাংক অথবা বায়ার বন্ধুগনরা কি ভেবে দেখেছেন কোথায় থেকে এই অর্থের যোগান এসেছে? তারা যদি সহায়তা না করে তাহলে উদ্যোক্তরা নতুন করে অর্থের যোগান কোথায় থেকে পাবে?

এই লিখাটির মাধ্যমে সরকার এবং দ্বায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের কাছে দাবী থাকবে Accord, Alliance আমাদের যদি বিল্ডিং সেফটি, ফায়ার সেফটি ইস্যুতে কাজ করতে বলে তাহলে তাদেরকে ৫০% বিনিয়োগ করতে হবে এসব ইমপ্রোভমেন্টের জন্য। শত প্রতিকূলতার মাঝেও যেহেতু এই প্রধান রপ্তানি শিল্পটি দাঁড়াতে কষ্ট হচ্ছে আর অন্য দিকে হলামর্কস এর মতো এবং ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠা শত শত কোম্পানি হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এবং বিদেশেও প্রাচার করছে সে দৃষ্টিতে ব্যাংক এবং অন্যান্য ঋন দাতাকারী প্রতিষ্ঠান গুলি কেন ২/৪ কোটি টাকা প্রণোদনা দিতে পারবেনা যেইসব উদ্যোক্তা ভাইয়েরা অনেক কষ্টের মধ্যে এবং টানাটানির মধ্যে আছে।

এই বিষয়টিতে অর্থ মন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

আমাদের উদ্যেক্তাদের করণীয়ঃ আন্তর্জাতিকভাবে শিল্প ও দেশের ভাবমূর্তির উন্নয়ন। নেতিবাচক পরিবর্তনে একইসাথে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করা। বিশ্বায়নের প্রভাবে বাজার বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন বাজার খুঁজার সন্ধান। ক্রেতার সাথে ন্যায্য দরকষাকষির জন্য নিজেদের সার্বিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা। প্রকৌশল বিভাগের মাধ্যমে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে মজুরি সমন্বয় এবং শ্রমবান্ধব কর্মপরিবেশ তৈরি।

শিল্প উন্নয়নে ব্যবস্হাপনা অভিজ্ঞতা, পন্য উৎপাদন খরচ ও অন্যান্য বিষয়ের উপর উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ। ছোট কারখানাগুলোতে নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করা। সর্বোপরি বলবো আসছে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব! যুগের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে নিজেদের প্রস্তুত করে তোলা।। অটোমেশনের মাধ্যমে শ্রমিকের অভিজ্ঞতা বাড়িয়ে নতুন কর্মসংস্হান তৈরি করা।

লেখকঃ ম্যানেজিং ডাইরেক্টর,লিউঃফ্যাশন লিমিটেড, ০১৭১১৩৬৭৮৭৯