ঢাকা, , শুক্রবার, ১০ মে ২০১৯

ভাত-কাপড়ের যোগান দিতে পারছি না বিনিয়োগ করি কীভাবে ?

প্রকাশ: ২০১৯-০৫-১০ ২০:৩৭:১৬ || আপডেট: ২০১৯-০৫-১০ ২০:৩৭:২১

মাহবুব আলম:
বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত কিংবা উৎস তৈরি পোশাকশিল্প হলেও এ খাতের মেহেনতি শ্রমিকদের আমরা মালিকপক্ষ ঠিকমতো বেতন, ভাতা দিতে পারছি না। আমরা অনেক সময় অপারগ হয়ে যায় । এমন উৎকন্ঠিত পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ করবে কীভাবে বাড়বেই কি ভাবে ? আমরা যদি সাময়িক বাজারের দিকে থাকায় তাহলে দেখতে পাই বিশ্ববাজারে পন্যের চাহিদা কমছে অনেক গুন। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাজার ধরার অসম প্রতিযোগিতা তো আছেই যে কে কতো কম মূল্যে কাজগুলো হাতিয়ে নিতে পারবে ।

আমাদের এখনো হাজারো সমস্যা, ব্যাংকগুলো মনে করে আমরা বড়লোক হয়ে গেছি। এত কাল্পনিক সমস্যা আর অসহযোগিতা থাকলে বিনিয়োগ আশা করা যায়না ?

আমি বিগত ২০১৪ থেকে ২০১৯ এই পর্যন্ত গার্মেন্টস ব্যবসার সাথে জড়িত আছি, আমার ছোট অভিঙ্গতা থেকে দেখেছি এই পাঁচটি অর্থবছরের পোশাকশিল্পের গড় প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৭০ শতাংশের কাছাকাছি । অথচ যদি একটু পিছনে তাকাই এর আগের ২০০৩ থেকে ২০১৩ এই ১০ অর্থবছরে গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ১৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ। ( সংগৃহিত রিসার্চ বুক থেকে)

ঘোটা বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানিতে ভিয়েতনাম, শ্রীলংকা ও কম্বোডিয়ার প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের চেয়ে অনেক বেশি । এদের সাথে আমাদের অসম প্রতিযোগিতা। আমি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চলমান কিছু সংকটের কথা যদি তুলে ধরি তাহলে দেখবো ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন হচ্ছে প্রতিনিয়ত। বাড়ছে বিভিন্ন উৎপাদন খরচ। আমরা রপ্তানী করি কিন্ত আমাদের ভ্যাট দিতে হয়। এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে ভ্যাট প্রত্যাহারের ব্যবস্হা করতে হবে। বিগত ৫ বছরে এই উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির পরিমান দাঁড়িয়েছে ২৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ। ব্যাংকের সুদ ও কমিশন বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ। যেখানে আমাদের দাবি সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নিয়ে আসা।

মজুরি বেড়েছে ৪৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ। বিদ্যুতের খরচ বেড়েছে ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। গ্যাসের খরচ বেড়েছে ৫ শতাংশ। তার পরেও মালিকদের গ্যাস সংযোগ পেতে জামেলা। পরিবহন খরচ বেড়েছে ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ।

এর পর আমাদের নিজেদের দক্ষতা ও ত্রুটি প্রসঙ্গে বলি, কিছু ত্রুটি হয়তো সবারই আছে আমাদের কারণ আমরা যারা হাই পেইড সেলারি দিয়ে বড় বড় পোস্ট গুলিতে লোক নিয়োগ করি তাদের উপর অনেক সময় বেশি নির্ভরশীল হয়ে উঠি । যা উচিৎ নয়।

আমরা মালিকরা সবাই এখন অনেক কষ্ট করছি। ছোট ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের অনেক পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে । প্রতিদিন অন্তত: ৬টি করে। অনেকেই আমরা লজ্জায় বলতে পারতেছিনা। ২/৩ কোটি টাকাও নাই অনেক মালিকের। যারা বেতন দিতে পারছেন না। ব্যবসা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার একটা Exit Plan লাগবে। যে যেসব মালিক ভাইয়েরা ব্যবসা করতে পারছে না মূলধনের কারনে, তাকে ব্যবসা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার Exit Plan করে দিতে হবে।

বিজিএমইএ একজন কনিষ্ঠ মেম্বার হিসেবে মনে করি পোশাক পণ্যের ক্রেতাদের পছন্দ বদলে গেছে আগের চেয়ে অনেক। ছোট ছোট ফ্যাক্টরি গুলিকে অসম প্রতিযোগিতা থেকে বের করে একএিত করতে হবে না হলে কম মূল্যের প্রতিযোগিতায় নামবে এবং অন্য ছোট ফ্যাক্টরি গুলি বন্ধ হয়ে যাবে । তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য ইনফ্রাস্ট্রাকচার সমস্যা বড় চ্যালেঞ্জ। নৌ, সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দরের মান উন্নয়ন করা অতি জরুরি যা প্রতিযোগী দেশ গুলি থেকে পিছিয়ে আছি। পোল্যান্ডের, নেদারল্যান্ডসের যেখানে পণ্য খালাসে ৭/৮ ঘণ্টা লাগে, সেখানে বাংলাদেশে লাগছে ১০ দিন। এ ক্ষেত্রে তিক্ত হলেও কথা সত্য আমলাতন্ত্রের ভিতর অনেক মারপ্যাঁচ আছে। যা আমাদেরকেই খুঁজে বের করতে হবে।

তৈরি পোশাক শিল্পের প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যে সদিচ্ছা তাতে আমরা সামনে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রাখতেই পারি।

লেখক : ব্যবস্থাপনা পরিচালক, লিউ ফ্যাশন লি:, মোবাইল- ০১৭১১৩৬৭৮৭৯

Skip to toolbar Log Out