ঢাকা, , বৃহস্পতিবার, ৬ জুন ২০১৯

অস্ত্র মামলায় পেকুয়া উপজেলা চেয়ারম্যানের ১৪ বছর কারাদন্ড

প্রকাশ: ২০১৯-০৫-০৯ ১৮:১১:৩৬ || আপডেট: ২০১৯-০৫-০৯ ১৮:১১:৪১

নিজস্ব প্রতিবেদক: কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা যুবলীগ সভাপতি ও নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমকে অস্ত্র মামলায় অভিযুক্ত করে এক ধারায় ১৪ বছর ও আরেক ধারায় ৭ বছর কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ খোন্দকার হাসান মো. ফিরোজের আদালত এ রায় ঘোষণা দিয়েছেন। মামলার অপর আসামীদের বেখসুর খালাস দেয়া হয়েছে। 


র‌্যাব-৭ কক্সবাজারের তৎকালীন কর্মকর্তা পিএডি মিজান বাদি হয়ে ২০১৭ সালের ১৩ আগস্ট অস্ত্র আইনে মামলাটি দায়ের করেছিলেন (এসপিটি ১৫৮/১৭, থানা মামলা নং-০৪/১৭, জিআর ১২৩/১৭) সাজাপ্রাপ্ত জাহাঙ্গীর আলম (৪৫) পেকুয়া সদর ইউনিয়নের আন্নরআলী মাতবরপাড়ার রমিজ আহমদের ছেলে ও সদ্য নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান। তিনি উপজেলা যুবলীগের সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন। মামলা হওয়াকালীন সময়ে তিনি কক্সবাজার জেলা পরিষদ সদস্য হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।


মামলায় খালাস পাওয়ারা হলেন, যুবলীগ পেকুয়া উপজেলা শাখার ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মদ আজম,  ছাত্রলীগ পেকুয়া উপজেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক ওসমান ছরওয়ার বাপ্পী, মোহাম্মদ কাইয়ুম ও মোহাম্মদ আলমগীর। তারা সকলেই সাজাপ্রাপ্ত জাহাঙ্গীরের সহোদর। 


জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা এম এম আব্বাস উদ্দিন তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, র‌্যাবের দায়ের করা একটি অস্ত্র মামলায় স্বাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে বৃহস্পতিবার রায় দিয়েছেন জেলা জজ আদালত। এতে অভিযুক্তকে  অস্ত্র আইনের ১৯ (এ) ধারায় ১৪ বছর ও ১৯ (এফ) ধারায় ৭ বছর কারাদন্ডের রায় দেয়া হয়েছে। অপর আসামীদের বেখসুর খালাস দেয়া হয়। এসময় আসামীরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বিকেলে সাজাপ্রাপ্ত আসামীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মমতাজ আহমদ। 


জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মমতাজ আহমদ জানান, র‌্যাব-৭ কক্সবাজারের কোম্পানী তৎকালীন কমান্ডার মেজর রুহুল আমিনের নেতৃত্বে ২০১৭ সালের ১৩ আগস্ট ভোর ৫টায় কক্সবাজারের পেকুয়া সদর ইউনিয়নের কলেজ গেইট চৌমহনীস্থ আন্নরআলী মাতবরপাড়ার জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে অভিযান চালায় র‌্যাব। এ সময় দুটি এলজি, একটি দেশীয় তৈরী লম্বাবন্দুক, দশ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও নগদ সতের লাখ টাকাও জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় জাহাঙ্গীরসহ তার অপর চার সহোদরকে আটক র‌্যাব।

এ ঘটনায় র‌্যাব কর্মকর্তা পিএডি মিজান বাদি হয়ে অস্ত্র আইনে পেকুয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ স্বাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে দীর্ঘ এক বছর ৯ মাসের মাথায় মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। 

 
সাজাপ্রাপ্ত জাহাঙ্গীর আলমের পরিবার দাবী করেছেন, অস্ত্র উদ্ধার ঘটনাটিই পুরো একটি চক্রান্ত। সেসময় জব্দ করা টাকাগুলো ব্যবসায়ীক। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার স্বীকার হয়েছেন যুবনেতা জাহাঙ্গীর আলম।  এ রায়ের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতের আশ্রয় নিবেন। তখন ন্যায় বিচার পাবেন বলে বিশ্বাস তাদের।