ঢাকা, , সোমবার, ১৫ জুলাই ২০১৯

মাশরাফির অভিযানের পর বদলে গেছে হাসপাতালের পরিবেশ

প্রকাশ: ২০১৯-০৪-২৯ ২২:২৫:১৯ || আপডেট: ২০১৯-০৪-২৯ ২২:২৫:২৪

অনলাইন ডেস্ক: নড়াইল সদর হাসপাতালে মাশরাফির ঝটিকা অভিযানের পর পুরো নড়াইল জুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চলছে সেবা পাওয়ার আনন্দ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চিকিৎসকদের কর্তব্যে অবহেলা বিষয়ে নানা মন্তব্য করছেন সাধারণ মানুষ।

আজ সোমবার দুপরে সদর হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে দালালদের দেখা যায়নি। হাসপাতাল চত্ত্বরে আর্বজনার স্তুপ নেই তেমন একটা। ড্রেনগুলো ও পরিস্কার। বাইরের ব্যক্তিগত অ্যাম্বুলেন্স এর ছোটাছুটি নেই। নিয়মিত উপস্থিত থেকে রোগী দেখছেন চিকিৎসকরা। সাধ্যমতো আন্তরিক সেবা দিচ্ছেন সেবিকারা। রোগীদের সাথে কথা বলে চিকিৎসক ও নার্সদের সেবা পাওয়ার কথা শোনা গেছে। গত কয়েকদিনে অন্য এক হাসপাতালে পরিণত হয়েছে নড়াইল আধুনিক সদর হাসপাতাল।

ঢাকায় ফিরে গিয়েও সদর হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা, চিকিৎসকদের উপস্থিতি ইত্যাদি বিষয়ে পৌর মেয়র, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে খোঁজ নেন নড়াইল ২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি। ইতিমধ্যে এলাকার মানুষের আশা জাগাতে শুরু করেছেন দেশসেরা এই ক্রিকেটার।

হাসপাতালে হার্টের চিকিৎসা নিতে আসা রঘুনাথপুরের আব্দুল্লাহ জানান, ডাক্তার এসে দেখে গেছেন। অসুস্থ থাকায় দুদিন পর হাসপাতাল ছাড়তে বলেছেন।

প্রবীণ আকবর আলী বলেন, একি পরিবর্তন হাসপাতালের? ডাক্তার নার্স সব ছুটাছুটি করছে। আমি আউটডোরে টিকিট কেটে ডাক্তারের সেবা নিলাম তিনি চিকিৎসা দিলেন। এতদিন ধরে হাসপাতালে আসতেছি জীবনে এরকম ভালো ব্যবহার দেখিনি হাসপাতালের লোকদের।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে একজন নারী বলেন, সদর হাসপাতালের আজকের পরিবশে সত্যিকার অর্থে সেবার উপযোগী। তবে এখানকার বিনামূল্যের ঔষধ যেন সত্যিকারের গরীব লোক পায়। আমাদের মতো লোকদের বিনাপয়সার ওষুধ দরকার নেই।

সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মশিউর রহমান বাবু জানান, হাসপাতালের বাইরের আবর্জনা সরাতে ইতিমধ্যে নড়াইল পৌরসভা খুবই তড়িৎ কাজ করেছে। অন্যান্য অনিয়ম দূর করার চেষ্টা করছি। তবে চরম চিকিৎসক সংকটে আমাদের কয়েকজন চিকিৎসককে প্রতিদিন ইনডোর, আউটডোর, জরুরি বিভাগে ৪/৫’শ রোগী সামাল দিতে হচ্ছে। একশ শয্যার সুবিধায় দু’শ রোগীর খাবার জোগান দেওয়া অনেকটা কষ্টকর।

মাশরাফির পরিদর্শন পরবর্তী চিকিৎসাসেবা বিষয়ে নড়াইর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবদুস শাকুর বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকরা সঠিকভাবে সেবা দিচ্ছেন।

এদিকে ভিন্ন সূত্রে খবর পাওয়া গেছে, সদর হাসপাতালের চিকিৎসক সংকট বিবেচনা করে ওসডি হওয়া চিকিৎসকদের পুনরায় কর্মস্থলে বহালের জন্য অনুরোধে করেছেন এমপি মাশরাফি। বিষয়টি দুপুরে স্বীকার করেন নড়াইল সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক।

ওএসডি হওয়া ৪ চিকিৎসককে সাময়িক বরখাস্ত বিষয়ে তিনি বলেন, সকালে আমাকে ফোন করে ওএসডি প্রত্যাহারের খবর দিলেও বিকেলে মেইল আসে। সেখানে থেকে জানতে পারি ৪ চিকিৎসককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।