ঢাকা, , শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০১৯

গণপরিবহণে ৯৪ ভাগ নারী যৌন হয়রানির শিকার হন

প্রকাশ: ২০১৯-০৩-০৮ ১২:০৪:১৯ || আপডেট: ২০১৯-০৩-০৮ ১২:০৯:১৪

অনলাইন ডেস্ক: গণপরিবহণে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির খবর আমরা প্রায়ই পাই৷ কখনো কখনো এসব ঘটনায় ব্যাপক প্রতিবাদও হয়৷ কিন্তু এর মাত্রাটি কোন পর্যায়ে তা হয়তো আমরা বুঝতে পারিনা৷ সম্প্রতি দু’টি গবেষণায় এর ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে৷

গবেষণা দু’টি করেছে অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ এবং ব্র্যাক৷ এর মধ্যে সবশেষ গবেষণাটি প্রকাশ করেছে অ্যাকশন এইড, যার শিরোনাম ‘সেফ সিটিজ ফর উইমেন’৷ এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের শতকরা ৮৮ জন নারী রাস্তায় চলার পথে যৌন হয়রানিমূলক মন্তব্যের মুখোমুখি হন৷ এদের মধ্যে ৮৬ শতাংশ গণপরিবহণের চালক ও হেলপারদের দ্বারা হয়রানিমূলক মন্তব্যের শিকার হন৷ নারীর ওপর শারীরিক যৌন হয়রানির বিষয়ের বাইরে এইযে মানসিক যৌন হয়রানি, তা তেমন আমলে নেয়া হচ্ছেনা৷ কিন্তু এটা ভয়াবহ আকার ধারণ করছে৷ এর শিকার নারীরাও ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না যে, তারা কোথায় কীভাবে এর প্রতিকার পাবেন৷

অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ইকুয়িটি ম্যানজোর কাশফিয়া ফিরোজ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা সাধারণভাবে পাবলিক পরিবহণে ধর্ষণসহ নানা ধরণের যৌন হয়রানির কথা জানি৷ এবার আমরা যৌন নির্যাতনে শব্দের ব্যবহারকে তুলে আনার চেষ্টা করেছি৷ এতে দেখা যায়, ঘরের বাইরে নারী যে যৌন হয়রানির শিকার হয়, তা প্রধানত চলাচলের পথে এবং পরিবহণে৷ এটা বাড়ছে কারণ এর প্রতিকার পাওয়া যায়না৷ পথে ট্রাফিক পুলিশ বা পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ করলে তারা এটা আমলে নেয়না৷ উলটো খারাপ মন্তব্য করে৷ আর বাসের মধ্যে বা বাস মালিকদের কাছে অভিযোগ করার কোনো পদ্ধতি আমাদের এখানে নেই৷”

২০১৮ সালে ব্র্যাক গণপরিবহণে যৌন হয়রানি নিয়ে আরেকটি গবেষণা করে৷ এতে দেখা যায়, গণপরিবহণে যাতায়াতকালে ৯৪ ভাগ নারী যৌন হয়রানির শিকার হন৷ এই যৌন হয়রানির জন্য যারা দায়ী তাদের বড় অংশ ৪১ থেকে ৬০ বছর বয়সি পুরুষ, শতকরা হিসেবে তারা ৬৬ ভাগ৷