ঢাকা, , শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯

রিহ্যাব মেলায় সাড়ে তিন লাখ টাকায় কবরের জমি

প্রকাশ: ২০১৯-০২-০৯ ২১:৩০:৩০ || আপডেট: ২০১৯-০২-০৯ ২১:৩৫:০৭

অনলাইন ডেস্ক: মরদেহ দাফনের জন্য সাড়ে তিন লাখ টাকায় কবরের জমি পাওয়া যাচ্ছে রিহ্যাব মেলায়। গতানুগতিক জমি ও ফ্ল্যাটের বাইরে কবরের জন্য জমি বুকিংয়ের সুযোগ করে দিয়েছে এমআইএস হোল্ডিংস।

রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে চলছে পাঁচ দিনব্যাপী রিহ্যাব ফেয়ার-২০১৯। শনিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, ৩১ নম্বর স্টলে কবরের জমি বিক্রির উদ্দেশ্যে বুকিং নিচ্ছে এমআইএস হোল্ডিংস।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পূর্বাচল রাওজাতুল জান্নাত প্রকল্পের আওতায় বুকিং নেওয়া হচ্ছে কবরের জমির। প্রায় ২০০ বিঘা জমির উপর ৮ হাজার কবরের সংকুলান হবে এখানে। ইতিমধ্যে দুই হাজার কবরের জমি তৈরি করা হয়েছে।

৭ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ৩.৫ ফুট প্রস্থের (২৪.৫ বর্গফুট) এসব জমির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা। আর এককালীন সার্ভিস চার্জ ১৫ হাজার টাকা। মোট ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকায় পাওয়া যাবে একটি কবর।

ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগ সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানটির জনসংযোগ কর্মকর্তা আফরোজা সুলতানা বাংলানিউজকে বলেন, ঢাকা শহরে এখন আর কোথাও স্থায়ী কবর বরাদ্দ পাওয়া যায় না। তবে আমরা এখানে স্থায়ী কবর দিচ্ছি। যিনি জমি কিনবেন তাকে সাব-কাবলা রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হবে। এই জমি আর কাউকে দেওয়া হবে না। আমাদের এখানে শুধু কবরস্থান করা হবে, তা নয়। এখানে মসজিদ, মাদ্রাসা এবং এতিমখানাও করা হচ্ছে। যারা এখানে জমি কিনবেন তাদের টাকার একটি অংশ থেকে এগুলো করা হবে।

আফরোজা সুলতানা আরো বলেন, কবর বুকিং দেওয়া কোনো ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর তার স্বজনরা আমাদের জানানো মাত্রই মরদেহ সম্পর্কিত সকল আনুষ্ঠানিকতা আমরাই করবো। মরদেহের গোসল করানো, জানাজা ও দোয়াসহ দাফনও আমাদের লোক দিয়েই করে দেবো। আর সবসময় ২৪ ঘণ্টা কবরের নিরাপত্তা আমরা নিশ্চিত করবো। এই সবকিছু ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকার মধ্যেই।

যেখানে সাড়ে ৩ লাখ টাকায় ১ কাঠা জমি পাওয়া যায় সেখানে মাত্র ২৪ ফুট জায়গার জন্য দাম অনেক বেশি কি না এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিষ্ঠানটির এই কর্মকর্তা বলেন, দেখেন, ঢাকা শহরে এমনিতেই কোথাও আর কবরের জমি স্থায়ীভাবে পাওয়া যায় না। একজনের মরদেহের কবরেই কিছুদিন পর আরেকজনের মরদেহ কবর দেওয়া হয়। প্রিয়জনের মরদেহের সাথে এমনটা যারা হতে দিতে চান না তারা এখানে জমি কিনতে পারেন। এটা চিরস্থায়ী। এছাড়াও কেউ কোথাও এক কাঠা জমি কিনেও চাইলে কবর করতে পারবেন না। প্রতিবেশীরা আপত্তি করতে পারেন। কিন্তু এখানে মসজিদ, মাদ্রাসা এবং এতিমখানার মতো একটা পরিবেশে চিরস্থায়ী কবর পাওয়া যাচ্ছে। একটা ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়। আর কবর রক্ষণাবেক্ষণে চিরস্থায়ী যে খরচটি হবে তা আমরা একবারেই নিয়ে নিচ্ছি। তাই দাম বেশি বলা যাবে না।

মেলায় বাড়তি আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে স্টলটি। কবরের জমি কেনা যায় শুনে অনেকে অবাকও হচ্ছেন। আবার কেউ কেউ বিজ্ঞাপন দেখে বিস্তারিত জানতে এসেছেন এ স্টলে। তেমনি একজন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা আবদুর রশীদ বলেন, আমার এক আত্মীয় গতকাল বলছিলেন যে, এমন কবরের জমি কেনা যায়। বেশ ইন্টারেস্টিং মনে হলো। পত্র-পত্রিকায় খবর দেখি যে, অনেক কবরস্থানের পুরনো কবর উঠিয়ে নতুনদের দেওয়া হয়। আজিমপুর কবরস্থান থেকে লাশের হাড়গোড় চুরি হয়। তাই ভাবলাম এখানে একটু দেখে যাই। এমনিতেও আমার মতো বুড়োদের অনেকেই আছেন যাদের দেখাশোনার মানুষ কম। সন্তানেরা বিদেশে থাকে। তাই মৃত্যুর পর কবরটা যদি নিরাপদ থাকে সেই ব্যবস্থা করা যায় কি না সেটাই ভেবে দেখছি।