ঢাকা, , শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০১৯

কক্সবাজারে মাস ব্যাপী শিল্প ও বাণিজ্য মেলার পর্দা উঠছে বৃহস্পতিবার

প্রকাশ: ২০১৯-০১-০৯ ২০:২২:১২ || আপডেট: ২০১৯-০১-০৯ ২০:২২:১২

নিজস্ব প্রতিবেদক::
জমকালো নানা আয়োজনে কক্সবাজার শিল্প ও বাণিজ্য মেলার পর্দা উঠছে বৃহস্পতিবার (১০ জানুয়ারী)। কক্সবাজার সৈকতের পাশে ঝাউবাগান ঘেরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম সংলগ্ন পর্যটন গলফ মাঠে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মেলার উদ্বোধন করবেন জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন। এতে অতিথি থাকবেন সদর আসনের সাংসদ  সাইমুম সরওয়ার কমল, কক্সবাজার-২ আসনের সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক,  কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্ণেল (অব.) ফোরকান আহমদ। অতিথি হিসেবে পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এড. সিরাজুল মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান ও মেলা পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান মাসেদুল হক রাসেদও থাকার কথা রয়েছে।
মেলা আয়োজক কমিটির কো-চেয়ারম্যান সাহেদ আলী সাহেদ বলেন, এবারের মেলা হবে অন্যবারের চেয়ে ব্যতিক্রমী ও জাঁকজমকপূর্ণ। থাকবে বিনোদনের বিভিন্ন ব্যবস্থা।  উদ্বোধনীতে গান গাইবেন দেশের বিখ্যাত শিল্পী শিমুল শীল, আঞ্চলিক গানের খ্যাতনামা শিল্পী মিম ও জোনাকি।
তিনি আরো জানান, মেলায় বসানো শতাধিক স্টল ও ২টি মুখরোচক খাবারের স্টলের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। মেলায় অংশ নেয়া প্যাভিলিয়ন ও সাধারণ স্টলে প্রসিদ্ধ গার্মেন্টস, হোমটেক্স, ফেব্রিকস পণ্য, হস্তশিল্পজাত, পাটজাত, গৃহস্থালি ও উপহারসামগ্রী, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, তৈজসপত্র, সিরামিক, প্লাস্টক, পলিমার পণ্য, কসমেটিকস হারবাল ও প্রসাধনী সামগ্রী, খাদ্য ও খাদ্যজাত পণ্য, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিকস সামগ্রী, ইমিটেশন ও জুয়েলারি ও ফার্নিচার থাকবে।
এছাড়াও শিশুদের বিনোদনের জন্য মেট্রো রেল, নৌকা দোলনা, নাগরদোলা, ওয়াটার স্পীড বোট, জাম্পিং বেলুন, ওয়াটার বল, ফাইভার ইলেকট্রিক চর্কি ও মিনি হাতি ঘোড়া। মেলার অপর পার্শে মৃত্যু কূপ, যাদু প্রদর্শনী রয়েছে।
মেলায় স্বনামধন্য দেশীয় ব্র্যান্ড প্রাণ- আরএফএল, এসিআই, দেশী-বিদেশী কার্পেট, জামদানি ও রাজশাহী সিল্ক শাড়ির প্যাভেলিয়নও রয়েছে। প্রতিদিন মেলা প্রাঙ্গণে খ্যাতনামা শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
মেলা আয়োজক কমিটির জানায়, মেলায় সার্বক্ষণিক নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পোশাকধারী পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকের গোয়েন্দা পুলিশ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। নিরাপত্তার স্বার্থে মেলাস্থলে সব ধরনের হকার ও ভিক্ষুক নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফুডকোটে অনিয়ম রুখতে বাধ্যতামূলক রাখতে হবে মূল্য তালিকা। এছাড়া, ইভটিজিং রোধে মেলায় পুলিশের বিশেষ টিম দায়িত্ব পালন করবে। বাণিজ্যমেলায় দেশী ছাড়াও বেশি বেশি বিদেশি ক্রেতা ও পর্যটক অংশ নেবেন এটাই প্রত্যাশা আয়োজকদের। এরজন্য যা কিছু করণীয় বাণিজ্য মেলা আয়োজক কমিটি সব করছে।
নিরাপত্তার বিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন বলেন, বাণিজ্য মেলাকে নিচ্ছিন্দ্র নিরাপত্তার আওতায় আনতে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ থাকবে সিসি ক্যামরার আওতায়। মেলায় ইভটিজিংসহ যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে থাকবে পুলিশের বিশেষ টিম।
কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাষ্ট্রী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়ন যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত মেলা প্রাঙ্গণে বুধবার সন্ধ্যায় গিয়ে দেখা যায়, মেলার প্রধান ফটক নির্মিত হয়েছে রাজকীয় ফটকের আদলে। মেলাকে সফল করতে ইতোমধ্যই সব ধরনের প্রস্ততি নেয়া হয়েছে। মেলায় বসানো হয়েছে  ফায়ার ইউনিটি ও মেডিকেল টিম। ধূলো বালি কমাতে পুরো মাঠে বিছানো হয়েছে ইট। পরিবেশ মেলাময় রাখতে আলোকসজ্জায় ঝলমলে করা হয়েছে চারপাশ। গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায়। ১০ জানুয়ারি হতে মেলা চলবে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।