ঢাকা, , শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০১৯

মাদারীপুরে ক’দিন

প্রকাশ: ২০১৮-১২-০৬ ২২:৫১:১৩ || আপডেট: ২০১৮-১২-০৭ ১৫:১৫:০৯

 

পলাশ বড়ুয়া:
তড়িগড়ি করে কর্মস্থল ত্যাগ করে উখিয়া সদর থেকে সিএনজি যোগে যাত্রা দিই। ৩ টার আগে লাবনী পয়েন্টে ইউএনডিপি অফিসে রিপোর্টিং করি। সময় প্রতিকুলে। কিন্তু সফরসঙ্গী আলমগীর স্যারকে যে বাসায় যেতেই হয় কাপড়ের ব্যাগ আনতে। তিনি যাওয়ার পথে গাড়ী ধরবে বলে গেলেও সঠিক সময়ে আসতে পারছে কিনা বিষয়টি নিয়ে স্নায়ুচাপে ভুগছিলাম বেশ। সময়ের কথা ভেবে শেষ পর্যন্ত ব্যাগ ছাড়াই ফিরলেন তিনি। ইউএনডিপি কর্মকর্তা মো: দেওয়ান জিন্নাহ এবং মো: শাহ আলম’র তত্ত্বাবধানে দু’টি বাসে অর্ধশত মিডিয়েশন প্রশিক্ষণার্থী রওনা শুরু করে।।

ইনানী রিসোর্টে বিরতি দিলে মাদারীপুর নিয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে জিন্নাহ ভাই বলেন, সালিশ বা বিরোধ নিষ্পত্তিতে গত ৩০ বৎসর ধরে “মাদারীপুর লিগাল এইড এসোসিয়েশন” রুল মডেল হিসেবে ভুমিকা রাখছে।

দীর্ঘ ১৮ঘন্টা পর ভোরে রাতে মাওয়া শিমুলীয়া ঘাটে পৌছে বাস। ঘাটে ফেরি আসতে দেড় ঘন্টা বাকী তখনো। হাতে সময় আছে দেখে স্যারসহ ঘুরতে গেলাম। দোকানীরা আকর্ষণ বাড়িয়ে পদ্মার ইলিশের লোভনীয় অফার দিচ্ছিল । তাদের হাঁকডাক দেখে পুরনো স্মৃতি মনে পড়ে গেল নতুন করে। একবার মিরপুর চিড়িয়াখানার সামনে “প্রাসাদ প্যারাডাইস” নামে রেস্টুরেন্টে ৩ বন্ধু দুপুরে খেতে গিয়ে যে প্যাকেজের নামে গলাকাটার মতোর ভীতিকর এবং তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে ঝুলিতে। স্যারকে তা শেয়ার করছিলাম। বলতে বলতে মাথায় ঘুরফাঁক খাচ্ছিল পদ্মা পাড়ে এসে ইলিশ খেয়ে যাবো না এমনটা কি করে হয়। অনেকে ডাকাডাকি করলেও কিছু দূরে দাঁড়িওয়ালা দেখে এক ব্যবসায়ী লক্ষ্য করে এগিয়ে গেলাম দু’জন। ইলিশ খাবো ঠিক করলাম।

 

পূর্ব অভিজ্ঞতা সম্পন্ন অসীম দাকে ফোন করে ধারণা নিলাম ইলিশের দাম সম্পর্কে। জিজ্ঞেস করতেই পিস প্রতি দাম হাঁকালো ১শ টাকা। ৫০টাকা মুলাইলে অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী জবাবে কয়- “আমার মাছের মূল্য যে ৫০টাকা আছে সে টা অন্তত: জানা গেল”। কথা শোনে জেদ চেপে অভিনব পন্থায় দেখানো মাছ ৬০টাকা দরে অর্ডার দিলাম। খেতে গিয়ে দেখি আবারও সেই প্যাকেজ ! মনে করেছিলাম শুধুমাত্র একপিচ করে মাছ দিবে। ভোর বেলায় রুচি না থাকা স্বত্ত্বে ভাত, ভর্তা, তিতঁ করলা নিয়ে আসলো।

ইলিশের স্বাদ, গন্ধ নেই কিছুই পেলাম না। ইলিশ ভাঁজা পুড়া তেল জুল মনে করে আলমগীর স্যার নিজে খেয়ে কিছু বুঝতে না দিয়ে কৌশলে আমার পাঁতেও ঢেলে দিলো। উদ্দেশ্য হচ্ছে আমি তো পুড়া তেল খেয়ে ফেললাম, অসুখ হলে আমার একার কেন হবে। পলাশের হোক। তবে শেষ পর্যন্ত কারো কিছু হয়নি। ভাগ্যিস দু’জনের ইঞ্জিন ভালো ছিল বলে।

ফেরী ঘাট পাড়ি দেওয়ার সময় পদ্মা সেতু নির্মাণের দৃশ্য দেখে উন্নয়ন কর্মকান্ড প্রত্যক্ষ করলাম। পদ্মা পাড়ের সারি সারি টিনের মাচাং ঘর গুলো দেখার মতো। একটু হলেও ধারণা পেলাম পদ্মা পাড়ের মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে।

দীর্ঘ অচেনা পথ পাড়ি দিয়ে শেষ পর্যন্ত পৌঁছলাম মাদারীপুর লিগাল এইড এসোসিয়েশনে। প্রশিক্ষণ কর্মসূচী ৩-৮ ডিসেম্বর স্বল্প দিনের হলেও যাঁদের সাথে নুতন করে ভালোবাসার সূতিকাবদ্ধ হলাম রুমমেট নুরুল ইসলাম স্যার, সাইফুল ইসলাম।

মিডিয়েশন ট্রেণিংয়ের সহায়ক এবং প্রিয় কিছু ব্যক্তিদের কথা না বললে নয় এ্যাড মশিউর রহমান, এ্যাড খাঁন মো: শহীদ, সমন্বয়কারী মাহবুব হাসান, এ্যাড মো: ইব্রাহীম মিয়া, এ্যাড হুমায়ুন লষ্কর, এ্যাড মুনির হাসান, এ্যাড মুনির হাসান, এ্যাড সুব্রত কুমার দাশ, এ্যাড মশিউর রহমান, নাজমুন নাহার সায়রা পারভীন, আসাদ, ইউএনডিপির ওয়াহিদ হোসাইন, উখিয়া প্রেস ক্লাব সম্পাদক কমরুদ্দিন মুকুল, উখিয়া প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রতন কান্তি দে, সাংবাদিক এস.এম আনোয়ার হোসাইন, মোহনা টিভির কক্সবাজার প্রতিনিধি আমানুল হক বাবুল, ফেমাস সংসদের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ বাবু, এম.ইউ.পি মোকতার আহমদ, এমইউপি মাহবুব আলম প্রমুখ।

মাদারিপুর পঞ্চদশ শতাব্দীর সুফি সাধক হযরত বদিউদ্দীন জিন্দা শাহ মাদার (রঃ) এর নাম অনুসারে মাদারিপুর জেলার নামকরণ করা হয়।

মাদারিপুর দেশের অন্য এলাকার চেয়ে অনেক পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। সড়ক গুলোও যানজট মুক্ত। ক’দিনের সফরে মানুষ গুলোকে সৎ এবং সভ্য মনে হয়েছে। মাদারীপুরের মিষ্টি জাতীয় খাবার গুলো বেশ সুস্বাদু।

দর্শনীয় স্থান গুলোর মধ্যে শকুনীলেক অন্যতম। এটি মাদারীপুর শহরে অবস্থিত সুবিশাল জলাধার। এটি ১৯৪৩ সালে লেকটি খনন করা হয়। আয়তন প্রায় ২০ একর। লেকের উত্তর পাড়ে রয়েছে পুরাতন কালেক্টরেট ভবন, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, শহীদ মিনার।

দক্ষিণ পাড়ে সার্কিট হাউস, মুক্তিযোদ্ধা মিলনায়তন। পূর্ব পাড়ে রয়েছে জেলা কারাগার, সদর হাসপাতাল। পশ্চিম পাড়ে ডিসি একাডেমী ও জেলা সদর জামে মসজিদ। তথ্যসূত্র : উইকিপিডিয়া ও বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজ।

‘পালং’ শুধু কক্সবাজারে নয়। ৩৬০ পালংয়ের কথা লোকমুখে শুনেছি। ধারণা ছিল সব ‘পালং’ কক্সবাজার কেন্দ্রিক।

৬ ডিসেম্বর ইউএনডিপি’র আয়োজনে মাদারীপুর লিগাল এইড এসোসিয়েশন থেকে মিডিয়েশন প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে মাঠ প্রতিবেদন করে রুদ্রকর ইউনিয়ন থেকে ফেরার পথে চোখে পড়ে শরীয়তপুরে মনোহর মোড়েও ‘পালং’ নামে একটি উপজেলা আছে।

লেখক : সম্পাদক, সিএসবি ২৪ ডটকম # ০১৮১৭ ৩৫০ ১৩৫