ঢাকা, , সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮

বর্ষার আগে ঘরের চাল মেরামত করুন !

প্রকাশ: ২০১৮-১২-০২ ২০:৪৮:৩৪ || আপডেট: ২০১৮-১২-০২ ২১:৩৩:৪৮

আলমগীর মাহমুদ::

কমরুদ্দিন মুকূল। উখিয়া জনপদে হাজার হৃদয়ে ভালবাসার পাঁচতলা বানানো জন। গেলকাল গভীর রাতে ফোন। বেশ কায়দা করে কয়, আপনারে না জানিয়ে একটা গোস্তাকী করে ফেলেছি স্যার।আপনার নামটা U.N.D.P পরিচালিত মেডিয়েশন(বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ADR) বিষয়ে ট্রেনিং এ মাদারীপুর ভেন্যুতে দিয়েছিলাম।

U.N.D.P এর জিন্নাহ ভাই বেশ আগ্রহভরে আপনারে পাবার আগ্রহ দেখিয়ে এন্ট্রি দিয়ে রেখেছে। কারন একটি আপনি সমাজবিজ্ঞানের মানুষ।সমাজের বিষয়ে পড়ুয়াদের সর্দার। বিভাগীয় প্রধান। আইলা,সিডরের মতো সামাজিক বিপর্যয় ধেঁয়ে আসছে আমাদের দিকে।

আমরা যদি সেদিনে দাঁড়ানোর মতো কৌশল রপ্ত না করি গরম পানিতে ঘর পোঁড়া যাবার সম্ভাবনা। নিচিহ্ন হয়ে পড়বে আমাদের জনপদের মানুষ গুলো।বেশ আবেগঘনভাবে চাটগাঁইয়া দরদের অফেরতযোগ্য শব্দটি করে ব্যবহার।”আঁজ্জু লারদে আপনার সাথে মাদারীপুর যাওয়ার।

আগামীকাল দুপুর তিনটায় প্রবাল থেকে গাড়ি ছেড়ে যাবে।যাচ্ছে যারা সবাই আপনার ভালবাসার মানুষ। ভাল লাগবে স্যার।আপনার কোন কথাই আমি শুনবো না।কলেজে অফিসিয়াল কর্ম সারতে আপনারে ১২টা পর্যন্ত সময়দিলাম।আমি স্টেশনে বসেই রইবো অপেক্ষায়। ঘড়ির কাঁটা তখন রাতের দশটা ছূঁই ছূঁই।

বুঝাতে চাইলাম যাবার মতো সাঁজ কাছে নেই।এবার তার আবদারে আসে ভিন্নতা।আমার জন্য এক কাপড়েই যেতে হবে স্যার।সকাল থেকে ১২টা পর্যন্ত মুহু মূহু তাগাদা। আমাদের সময় এর উখিয়া প্রতিনিধি পলাশ বড়ুয়া মূকুলের সহযাত্রী।

সেও এককথা শরীর অকেজো হবার আগেই দুনিয়াটারে দেখা,কে কি বলে শুনা, দায়িত্ব কর্তব্যের মতই ভাবি।আপনিওতো আমাদের দলের একজন। আপনার ভাবনায় কেন থাকবে আমাদের থেকে ভিন্নতা?

অবশেষে মূকূলের সফরসঙ্গী হতে উখিয়ায়।সে দলবল নিয়ে সি,এন,জি কক্সবাজার মুখী হবার অপেক্ষায়। পলাশ,রতন দে র সাথে সি,এন,জি তে চলমান করে। কক্সবাজার প্রবাল হোটেলে পৌঁছাতে পৌঁছাতে যাত্রীর মনের ভাবনা। এতদূর, জামাই আদরে আদরে নেবার কি কারন?

হোটেল প্রবালে মুকূল পরিচয় করিয়ে ” স্যার ইনিই জিন্নাহ ভাই”।কথা বলার আগেই তিনি বলতে রইলেন,এই স্যারকে আমরা কোন অবস্থাতেই দূরে থাকতে দিব না।উনারে আমাদের দরকার । ডিজিটাল যুগে এমন দরদী আবহ কলিজা চিকূর মারে।জিন্নাহ ভাইয়ের টান বোধ করতে রই।

ইনানী রেস্তোঁরায় নাস্তার বিরতিতে জিন্নাহ ভাইয়ের কাছে কম বেশী সবাই কিছু না কিছু জিজ্ঞাসচ্ছে।পলাশ প্রশ্ন ছূঁড়ে মারে, মাদারীপুর নিয়ে ট্রেনিং করানোর কি কারন? উনি বেশ গুছিয়ে.. “মাদারীপুর লিগেল এইড” ত্রিশবছর মেডিয়েশনে (বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ” ADR) কাজ করে।তারাই দেশে প্রথম এবং পাইওনিয়ার।

আপনাদের এলাকায় রোয়াইঙ্গার প্রভাবে বিষাক্ত হয়ে উঠছে,উঠবে,।নিপতিত হবে সামাজিক বিবাদ,বিসম্বাদে।সামালে আপনারা যদি তৈরি হতে ব্যর্থ হন উখিয়া, টেকনাফ,তথা কক্সবাজারবাসীর জীবনে কোন শুভ সংবাদ অপেক্ষায় আছে ভাবার কারন নেই।

এদেশে যারা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিতে শ্রেষ্ঠ কৌসূলী,শ্রেষ্ট শিক্ষক। “মাদারীপুর লিগ্যাল এইড”। তারাই তাঁদের সহায়তায় শপথে,সম্পদে তৈরি হবার লব্দ জ্ঞান বিলিয়ে যাবে।সেই শিখনে, বর্ষার আগেই আপনার ঘরের চাল মেরামত করুন।”এইই আমাদের প্রত্যাশা”।”এইই আমাদের অঙ্গীকার ”

লেখকঃ–বিভাগীয় প্রধান।সমাজবিজ্ঞান বিভাগ।উখিয়া কলেজ কক্সবাজার।
alamgir83cox@gmail.com