ঢাকা, , রোববার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী কবিতা

প্রকাশ: ২০১৬-০৭-২৪ ২২:৫৭:২৫ || আপডেট: ২০১৬-০৭-২৪ ২২:৫৭:২৫

12647029_224226894579242_7517387639561942387_n
১) স্বর্গলাভ
কে বলে সভ্য মোরে
বিবর্তন ক্রন্দনরোল ঘরে ঘরে।
কে বলে মানুষ তারে
ধর্ম কর্মে অপমৃত্যু স্বর্গলাভ করে।
যুগান্তর আজি দন্ডয়ামান কঠিন প্রান্তর
হয়ত হারাবে মানবীয় নামান্তর।
ওহে মানব,
কোথা হারিয়েছ তোমার মানবীয় অন্তর।

বড় ভয় বড় দুঃসময় আগামী অবক্ষয়
আসিবে না বিশ্বময় পয়গাম কোন জাতিকুল লয়ে
কোন পণ্ডিত বলিবে না বাহু বাধি, সত্যযুগ নয় হে।

কামনা লালসা ক্রোধ, আজি মসজিদ মন্দিরদ্বারে
ধর্ম প্রাচীর ভাঙ্গা সংসার, আজ তিলেতিলে মরে
মরুঝড়ে লণ্ডভণ্ড বেদুইন,মরু কাফেলায় রক্ত ঝরে।

আমি কার সৃষ্টিকরণ, তুমি কার বল ভাই
আমার আহার যার, তোমারি রিজিক তার
বল ওহে, আমি কার তুমি কার ভাই।

আমি ডাকি যারে, তুমি স্বর্গলাভ কর তার ঘরে
আমি যদি না ডাকি তারে, তবু সে আমার ঘরে
বল ভাই, উত্তম স্বর্গ কার ঘরে।

তিনি যারে দয়া করে, তুমি করিবে না কেন?
তবে আমি হাঁসি!
তুমি কোন ধর্মীয় পণ্ডিত মশাই!
যে তার কথা না মান।

হে মৌলানা, পুরোহিত, তুমি থাক তোমার ঘরে
কামনা লালসা ক্রোধ তোমার দেহ রক্ত ঝরে,
আমি বাধিব নতুন ঘর মনবতা র তরে
তিনি অন্তর্যামী আমি থাকিব মানব অন্তরে।।

——————————
২) বুর্জোয়া তলেতলে জঙ্গিবাদ
—————————–
জাতক লালন হইবে কি হাল
ক্রীড়নক জনতাকাতর বেসামাল
রাষ্ট্রতন্ত্র জাঁতিকলে জনগোষ্ঠী বেহাল
কে ধরিবি হাল!
নিপতিত জাতিকুল মরিতে আকুল
জাঁতাকল ভাঙ্গিয়া করিতে জয়ন্তী
জালিম নিধনে জনযুদ্ধে ঢাল।

কই গো কবিয়াল
গণসঙ্গীত বাধ জাগিতে গণমুখী
আরশ কাঁপিতে খোদার,
চাষাভুষা দিনমজুরের রক্ত চুষেছে চারিধার
বুর্জোয়াতন্ত্র ফুলিয়া আজি বেসামাল,
জোঁক ধরেছে গো সর্বাঙ্গ
নিপাত করিতেছে জাতিকুল অঙ্গ,
মহাজনী প্রথা আসিয়াছে ঘুরি ফিরি
মরিয়া আবার মানুষ হইতে হবে আবার।

কই গো রাখালিয়া বাঁশি
প্রতিবাদী সুরতরঙ্গ ডাকাতিয়া মনমাঝি
কামাই রুজিরোজগার কাড়িল কায়েমি স্বার্থান্ধ কাজি।

ও রে রে রে ডাকো লাঠিয়াল রাখাল মাঝি
আষাঢ়ে গল্পবাজ আসিয়াছে আষাঢ় নয় আজি,
ওরা ঘুরেফিরে সব যত সব জঙ্গিবাদী
ওরা গণতন্ত্রের তলেতলে মৌলবাদী।

কাঁদিতেছে মানবতা হাসিতেছে মৌলবাদের জাঁতাকল
গিলিতেছে রাষ্ট্র ডুবিতেছে সমাজ
চল আন্দোলিত করি রাজপথ
চল চাষাভুষা দিনমজুর দল
বুর্জুয়া তলেতলে গজে উঠা জঙ্গিবাদ করিতে বিকল।

————–
৩)জঙ্গিবাদী র ক্রান্তি
————————–
ওরে ও জগৎ ভীরু,
শশ্মান তাড়া, করব ছাড়া,ধুরু ধুরু
তরুনের ডাল তলোয়ার,
বিজয়ের বইবে জোয়ার
ভীরুর কারা বন্ধ নিলয়।
ভগবাণ হাসঁবে তাতে, ইলাহীর জয় রতে
প্রভাত ফেরী আনবে কান্তি
বসুধায় চির শান্তি, জঙ্গিবাদীর আসবে ক্রান্তি,
সবিতা’র কন্ঠে বাজে, ক্ষয় ভীরুদের ক্ষয়
নরপতির সিংহাসন প্রগতিকামী র জয়।

ওরে ও তরুন নবাব,
ভীরুদের দেরে জবাব, নীরবতা ভীরুর স্বভাব
অক্টেনের দহন দেখে, নরকূল হাসঁছে দেখে
নত মাথায় সমযোতায়, বসতে ঠেকাঁয়
ভীরুদের দেব ফাঁসি,
হউক সে স্বজন, হউক সে জ্ঞাণী, হউক সে গুণী।
তরুনের নয়া মন্ত্র- ছুড়ে ফেল গনতন্ত্র
বুর্জুয়াদের দখল নেয়ার আদিমন্ত্র
ক্ষুদিরাম হাঁসবে দেখে, মুজিবর কাঁদবে শোকে।

ওরে ও সভ্য যুগের সভ্য তরুণ,
অগ্নিশিখার ক্ষত করুণ,তবু নাহি করছে বারণ।
ভীরুদের চোখের ধুলি, সততার বচন গুলি,
অগ্নি দহন পন্থা কেন?
সততার জয়ের জন্য।
এ বিজয় নয়কো বিজয়, নয় জনতার
যত সব মিথ্যা বুলি ভোটাধিকার,
ওরা সব ভীরুর বংশ, রাষ্ট্র গিলে করছে ধংস।

জাগ গো সভ্য সমাজ,
জঙ্গিবাদ মুক্ত গড় সমাজ
চাও কি তবে ভীরুর বংশ মুক্ত সমাজ?
ফাসিঁ রশি ঝুলছে দেখ, ভীরুর দল কাঁপছে দেখ
বীর বাঙ্গালীর বিজয় কেতন উড়ছে দেখ।।

সাইফুদ্দিন শিমুল, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা, জেলা পার্বত্য বান্দরবন।
Sayfuddinshemol@gmail.com.