ঢাকা, , রোববার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮

উখিয়ায় জামাই শাশুড়ির পরকিয়া প্রেমে বিচারের রায় !

প্রকাশ: ২০১৪-০৯-০২ ২২:৪১:৪৭ || আপডেট: ২০১৪-০৯-০২ ২২:৪১:৪৭

images
মাহমুদুল হক বাবুল,উখিয়া::
উখিয়ায় জামাই শাশুড়ির অনৈতিক কর্মকান্ডে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় পরকিয়া প্রেমে আসক্ত নুর জাহান ও তার স্বামী হাজী শামশুল আলম দু’জনই থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে উখিয়া থানার উপ-পরিদর্শক হারুনুর রশিদ সালিশে বসলে পরকিয়া প্রেমিক মহিব উল্লাহ বিচার না মানায় বিষয়টি নিস্পত্তি করা হয়নি। পরবর্তীতে খয়রাতি পাড়া গ্রামের সাবেক ইউপি মেম্বার সিরাজ ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বিষয়টি নিস্পত্তির জন্য গত সোমবার একটি বৈঠকে বসেন। বৈঠকে জামাই-শ্বাশুড়ির পরকিয়া প্রেম ও টাকা, স্বর্ণালংকার, মালামাল লুট ও মেয়ের জামাইর হাত ধরে চলে যাওয়ার ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হয়। উক্ত বৈঠকের রায় আজ বুধবার সকালে দেওয়া হবে বলে বিচারক সিরাজ মেম্বার জানিয়েছেন।

জানা যায়, উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের খয়রাতি পাড়া গ্রামের হাজী শামশুল আলমের ২য় স্ত্রী নুর জাহান বেগম (৪৫) দীর্ঘদিন ধরে খোদ ছোট মেয়ের জামাইর সাথে পরকিয়া প্রেম করে আসছিল। তার ছোট মেয়ের জামাই জালিয়াপালং ইউনিয়নের রূপপতি গ্রামের ফরিদ আলমের ছেলে লম্পট ও অসংখ্য নারী ধর্ষক মুহিব উল্লাহ তার শাশুড়ি নুর জাহানের এর সাথে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকান্ড ও অবাধ মেলামেশা চালিয়ে আসছে। এ অনৈতিক কর্মকান্ডে ও পরকিয়া প্রেমে কেউ বাঁধা প্রদান করলে মোটা অংকের টাকা দিয়ে এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসীদেরকে ভাড়া করে তাদেরকে বেধড়ক মারধর সহ অপহরণ করে শাররীক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে মুক্তিপণ নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এভাবেই চালিয়ে যাচ্ছে তার এই অপকর্ম। হাজী শামশুল আলম সাংবাদিকদের অভিযোগ করে বলেন, আমার ২য় স্ত্রীর সাথে আমার ছোট জামাতা মুহিব উল্লাহর পরকিয়া প্রেমে বাধা দেওয়ায় সে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে কক্সবাজারের একটি হোটেলে নিয়ে যায়।

তার এই অনৈতিক কর্মকান্ডের কারণে আমার বড় মেয়ে ফাতেমা বেগমের সংসার বিচ্ছেদ ঘটে। তাদের অনৈতিক কর্মকান্ডে আমি বাধা দেওয়ায় গত ১৯/০৮/২০১৪ ইং আমার ঘর থেকে আসবাব পত্র ও মালামাল ও টাকা পয়সা লুট করে সন্ধ্যা ৭ টার দিকে জামাই মুহিব উল্লাহ চলে যায়। এর বিরুদ্ধে ৩ জনকে আসামী করে আমি উখিয়া থানায় একটি এজাহার দায়ের করি। থানায় এজাহার দায়ের করার পর থেকে প্রতি মুহুর্তে সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে আমি এবং আমার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরকে মোবাইল ফোনে প্রাণ নাশের হুমকি ধমকি অব্যাহত রেখেছে। এমনকি তার প্রবাসী ছেলে ওমর ফারুক বিষয়টি জানলে সে তাৎক্ষনিক সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে এসে তার মাকে এ জঘন্যতম অনৈতিক কাজ থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করে। সৌদি প্রবাসী ছেলে ওমর ফারুক সাংবাদিকদের অভিযোগ করে জানান, অনৈতিক কাজে সে বাধা দেওয়ায় মা নুর জাহান বেগম ও বোনের লম্পট জামাতা মুহিব উল্লাহ ক্ষিপ্ত হয়ে স্থানীয় ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী এনে গত ৪ জুলাই গভীর রাতে তাকে সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দেয়।

ওই সময় সন্ত্রাসীরা তাকে পাশ্ববর্তী একটি ছরায় নিয়ে গিয়ে হত্যার চেষ্টা করে, এ সময় ১১ হাজার টাকা মুক্তিপন দিয়ে জীবনে রক্ষা পায়। তিনি আরও বলেন, আমার দীর্ঘ ১০ বছর প্রবাস জীবনের কষ্টার্জিত সমস্ত টাকা এবং ১০ ভরি স্বর্ণালংকার আমি মায়ের কাছে রেখেছিলাম। আমাকে হত্যার পরিকল্পনায় ব্যর্থ হয়ে আমি ও আমার পিতা হাজী শামশুল আলমের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করে আমার অপরাধী মা গত ১৯ আগষ্ট গভীর রাতে বাড়ীতে রক্ষিত ১০ ভরি স্বর্ণালংকার, আমার সমস্ত টাকা পয়সা ও বাড়ীর মূল্যবান জিনিসপত্র সহ ২টি সিএনজি যোগে ওই লম্পট জামাতা মুহিব উল্লাহর হাত ধরে চলে গিয়ে কক্সবাজারস্থ আলির জাহাল এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছে। বর্তমানে তাদের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের অব্যাহত হুমকির মূখে জীবন রক্ষার তাগিদে নিজ বাড়ী ছেড়ে উখিয়া সদরে একটি ভাড়া বাসায় মানবেতর জীবন যাপন করছি।