ঢাকা, , বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০

মানুষকে ভয়-ভীতি দেখানোর জন্য এটা করা : ছাড়া পাওয়ার পর নুর

প্রকাশ: ২০২০-০৯-২২ ০৩:৪৫:২৪ || আপডেট: ২০২০-০৯-২২ ০৩:৪৫:২৪

সিএসবি২৪ ডেস্ক:

অবশেষে রাত পৌনে ১টার সময় ডিবি পুলিশের কার্যালয় থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে ডাকসু’র সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরকে। ছাড়া পাওয়ার পর সোমবার ডিবি কার্যালয়ের সামনে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন নুরুল হক নুর।

তিনি বলেন, ‘আমরা বুঝিনি কী কারণে আমাদের ধরে আনা হলো আর কী কারণে ছেড়ে দেওয়া হলো। যেটা মনে হচ্ছে মানুষকে ভয়-ভীতি দেখানোর জন্য এটা করা।’

এর আগে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) চিকিৎসা শেষে রাত পৌনে ১২টার দিকে দ্বিতীয় দফায় নুর ও তার সহযোগী সোহরাবকে ডিবির গাড়িতে করে কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে ডিবির যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, ‘নুরকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছে। তাকে অফিসিয়ালি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। যেহেতু সে অসুস্থ তাই চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়েছিল। অসুস্থতার কারণে তাকে পৌঁছে দেওয়ার জন্যে ডিবির গাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।’

ঘটনার শুরু আজ সোমবার সন্ধ্যায়। নুরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার প্রতিবাদে নুর ও তার সহযোগীরা শাহবাগ থেকে মৎস্য ভবনের দিকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে যাচ্ছিলেন। এসময় নুর ও তার ছয় সহযোগীকে রাজধানীর মৎস্য ভবনের সামনে থেকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ।

নুরকে ধরার কয়েক ঘণ্টা পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

এরপর রাত ১০টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, শ্বাসকষ্ট হওয়ায় নুর চিকিৎসা নিতে ঢাকা মেডিকেলে গিয়েছিলেন।

পরে ঢামেক হাসপাতাল থেকে রাত পৌনে ১২টার দিকে দ্বিতীয় দফায় নুর ও তার সহযোগী সোহরাবকে ডিবির কার্যালয়ে নেওয়া হয়। এসময় নুরের বিরুদ্ধে মামলা এবং আটকের প্রতিবাদে ঢামেক হাসপাতাল এলাকায় বিক্ষোভ করেন সাধারণ ছাত্র পরিষদের সমর্থক ও কর্মীরা।

দ্বিতীয় দফায় নুরকে নিয়ে যাওয়ার সময় ছাত্র অধিকারের নেতাকর্মীরা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে গাড়ির সামনে বসে স্লোগান দেন। নুরের স্ত্রী তার ছোট বাচ্চাকে নিয়ে গাড়ির সাথে ঝুলে পড়েন। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদেরকে সরিয়ে দিয়ে নুরকে নিয়ে যায়।

ডিএমপির একটি সূত্র রাত ১২টার দিকে গণমাধ্যমকে জানায়, ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্যে নূরকে আবার ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, গতকাল রোববার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থী লালবাগ থানায় এ মামলাটি করেন। মামলায় মোট ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ধর্ষণে সহযোগিতাকারী হিসেবে নুরুল হক নুরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৭ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত। সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম ইয়াসমিন আরা মামলার এজাহার গ্রহণ করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এ দিন ধার্য করেন।- আমাদের সময়