ঢাকা, , রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

উখিয়া কলেজের ইতিকথা : পর্ব-১২

প্রকাশ: ২০২০-০৭-২৭ ১২:২১:১৮ || আপডেট: ২০২০-০৭-২৭ ১২:২২:০৪

এম. ফজলুল করিম ॥
কক্সবাজার জেলা পরিষদের সম্মানিত সদস্য প্রফেসর হুমায়ুন কবির চৌধুরী মন্টু আমার সাস্পেন্ড কালীন সময়ে আমাকে বেশ উপকার করেছেন। হঠাৎ একদিন রাত দশটায় আমার বাড়ীতে দরজায় টুকা দিলে দরজা খুলে দিলে দেখি যে, হুমায়ুন কবির চৌধুরী (মন্টু) উনি না বসে আমাকে বললেন, এমপি বদি আমাকে আপনার নিকট পাঠিছেন, এমপি আব্দুর রহমান বদি আমাকে বলেছে উখিয়া কলেজর অধ্যক্ষ বর্তমানে সাস্পেন্ড অবস্থায় আছেন, উনার হতাশাগ্রস্থ মুহুর্তে দেখা করলে সহযোগিতা করলে তার সব সময় মনে থাকবে। মন্টু চৌধুরী আমাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, যে রকম সহযোগিতা করার দরকার সে রকম সহযোগিতা করব। আপনি কোন চিন্তা করবেন না।

হুমায়ুন কবির এর ছোট ভাই চেয়ারম্যান রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী সাস্পেন্ড অবস্থায় ঢাকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়, হাইকোর্ট ইত্যাদি জায়গায় দৌড়াদৌড়ি করার জন্য টাকাও দিয়েছিল। সে সময়ে সাহায্যটা খুব একটা বড় না হলেও মনে রাখার মতো, যারা ছোটখাট বিরোধিতা করেছে সেগুলো অনেক বড় বড় বিরোধিতা মনে হয়েছে।

আমি ফজলুল করিম, অধ্যক্ষ, উখিয়া কলেজ এত বেশী স্ট্রাগল করেছি, অন্য আর কেহ আছে কিনা সন্দেহ। কলেজ শুরুর দিন থেকে কলেজের বয়স ১৯ বৎসর পর্যন্ত শুধু স্ট্রাগল করেছি। আমার সহযোদ্ধা তিনজন প্রফেসর আমার মনে বেশী আঘাত করেছেন এবং আমার মনে থাকবে তারা কি মনে করে এরকম সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ? আল্লাহ এবং তারা তিনজনই বিষয়টি জানে।

তাঁরা শফিউল আলম মন্ত্রীপরিষদ সচিব থাকাকালে আমি ১৫ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করার মতো ভূয়া কথা বলেছেন। তখন থেকে শফিউল আলম সাহেব আমাকে ভালো চোখে দেখে না। তাঁর আগ পর্যন্ত শফিউল আলম ভাই আমাকে বেশ ¯েœহ করতেন। তাঁর মনে খারাপ ধারণা সৃষ্টি করে দিয়েছেন। এডভোকেট খোরশেদ আলম আমার উখিয়া কলেজের লিগ্যাল এডভাইজার, আলী চান মেম্বার ভূমি সংক্রান্ত যে সব মামলা করেছিল, সে মামলা সমূহ পরিচালনা করতেন এডভোকেট খোরশেদ সাহেব। এডভোকেট খোরশেদ আমার সাস্পেন্ড অবস্থায় আর্থিক ভাবেও সাহায্য করেছেন।

বর্তমানে উখিয়া কলেজ প্রবেশ হওয়ার এবং বিল্ডিং সামনে যে পিচ ডালাই রাস্তা আছে সেগুলি মোকতার কন্ট্রাকটরের অবদান বলা যায়। আমি একদিন দাপ্তরিক কাজে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়, গাজীপুর গিয়েছি। আমি যখন গাজীপুর থেকে ঢাকা শহরে ফিরছিলাম ঠিক তখন মোবাইলে ফোন আসলে রিসিভ করে দেখি যে মোক্তার ভাই। উনি বললেন, আপনি কোথায় ? উত্তরে আমি বললাম, গাজীপুর জাতীয় বিশ^বিদ্যালয় থেকে ঢাকা ফিরছি, মহাখালী পর্যন্ত এসেছি। তিনি ফোনে বললেন, আপনি পান্থপথে নেমে আগারগাঁও আবহাওয়া ভবনে চলে আসুন। একসাথে ভাত খাব।

আমি যখন আবহাওয়া অফিসে আসলাম মোকতার ভাই তখন এলজিইডি ইঞ্জিনিয়ার একজনের সাথে কি জানি আলাপ করছিল। আমাকেও পরিচয় করিয়ে দিল। উনি আমাদের উখিয়া কলেজের অধ্যক্ষ, আমি যে আপনাকে পূর্বেও একবার বলে ছিলাম। উখিয়া কলেজে প্রবেশেদ্বার এবং বিভিন্ন বিল্ডিং এ যাওয়ার জন্য একটি সড়ক দরকার, যে কোন উপায়ে একটি সড়কের ব্যবস্থা করে দিতে হবে। এটা হবে আমার জন্য বিরাট উপকার।

ইঞ্জিনিয়ার সাহেব প্রশ্ন করলেন, উখিয়াতে গুচ্ছগ্রাম আছে কিনা? আমি বললাম, কলেজ থেকে অর্ধ কিলোমিটারের মধ্যে গুচ্ছগ্রাম আশ্রায়ন অবস্থিত। বেশ ভালো কথা গুচ্ছগ্রাম থেকে রাস্তা শুরু করে কলেজে আসবে, কলেজ থেকে বাজারে, উপজেলা, মসজিদ, মন্দির ইত্যাদি স্থানে যাওয়ার জন্য একটি রাস্তা প্রয়োজন। আমি বলাম কলেজ থেকে মন্দির ৫০০ গজের মধ্যে, মেইন রোড আরকান সড়ক ২০০ গজের মধ্যে বেশ ভাল কথা, গুচ্ছ গ্রাম থেকে রাস্তা শুরু হয়ে উখিয়া কলেজে আসবে, কলেজের সামনে ঘুরে মেইন রোডে গিয়ে উঠবে এবং আর একটি মসজিদ, মন্দির ও বাজারের দিকে চলে যাবে। সে সুবাদে ২ কিলোমিটার আপাতত: করা যেতে পারে। ২ কিলোমিটার হিসাব নিকাশ করে দেখলো ৫৮ লক্ষ টাকা প্রয়োজন হবে।

বাংলাদেশে গুচ্ছ গ্রাম নামে একটি ফান্ড আছে। ঐ ফান্ড থেকে ১ থেকে ২ কিলোমিটার রাস্তা বরাদ্দ পাওয়া যায়। নিয়মাবলী অনুযায়ী আবশ্যক হলো স্থানীয় এমপি মহোদয়ের ডিও লেটার, উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারের চাহিদা ও যাচাই বাছাই রিপোর্ট, ইউএনও সাহেবের প্রত্যয়ন পত্র এগুলো ঠিকঠাক করে এনে দিন। চেষ্টা করব আপনার উখিয়া কলেজের জন্য কিছু করে দিতে পারি কিনা?

মুক্তার ভাই ইঞ্জিনিয়ার কে বললেন উখিয়া কলেজের প্রতিষ্ঠাতা জনাব শাহজাহান চৌধুরী, এমপি। তিনি আমার আপন মামাতো ভাই। তাহলে তো ফাইল তৈরি করতে খুব কষ্ট হবে না। অতপর: আমি আমার যা করার জায়গায় চলে গেলাম। মুক্তার ভাই এক্সসিয়েন এর সাথে ছিল। আরো কি কি দরকারী কাজ আছে নাকি। আমরা তিন জনের কথা বলার এক মাসের মধ্যে উক্ত রাস্তার টেন্ডার হয়েছিল। ঠিকাদার হলেন মোকতার ভাই।

শৈলেরঢেবা এলাকা রিফিউজি ক্যাম্প থাকতে ইউএনএইচসিআর প্রায় ১ কিলোমিটার ইটের রাস্তা করে দিয়েছিল। মুক্তার ভাই পূর্বের রাস্তা করা এক কিলোমিটার রাস্তার ইট সমূহতে বেশ লাভবান হয়েছিল। চলবে…

লেখক : প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ (অব:), উখিয়া কলেজ।