ঢাকা, , মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০

উখিয়া কলেজের ইতিকথা : পর্ব-১৪

প্রকাশ: ২০২০-০৭-৩১ ১৪:২৯:৫১ || আপডেট: ২০২০-০৭-৩১ ১৪:২৯:৫১

এম. ফজলুল করিম, প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ (অব:), উখিয়া কলেজ ॥
উখিয়া কলেজ গেইটে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি যাত্রী ছাউনির খুব বেশি প্রয়োজন ছিল। জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদ, ইউএনও অফিস সবস্থানে ধর্ণা দিয়েছি, কিন্তু কোন সমাধান পাইনি। হঠাৎ একদিন আমার পুরনো বন্ধু শেখ শাহাব উদ্দিনের সাথে যাত্রী ছাউনি সংক্রান্ত বিষয়টি আলাপ করেছিলাম। আলাপকালে শেখ শাহাব উদ্দিন আমাকে বললেন, উখিয়া উপজেলাতে আর কোন যাত্রী ছাউনি নেই। যা বরাদ্দ দিয়েছিল সব গুলো নির্মাণ হয়ে গেছে।

মরিচ্যা, রাজাপালং মাদ্রাসার গেইট, উখিয়া শহীদ ইলিয়াছ মিয়া পাঠাগারে লাগানো একটি, পালংখালী-থাইংখালী সব জায়গায় হয়ে গেছে। তবে রামু থানা ২/১টি বাকী আছে। হয়ত রামু-কক্সাবাজর আসনের এমপি হয়ত খেয়াল করেননি। বিষয়টি জানার পর রামু-কক্সবাজার আসনের মাননীয় এমপি ছিলেন মোস্তাক আহমদ।

আমি একটি আবেদন এম.পি মোস্তাক আহমদ সাহেব এর বরাবরে তৈরি করে ঢাকা চলে গেলাম। আমি ঢাকা যাচ্ছি অন্য কাজে, সাথে এমপি মোস্তাক বরাবরে লিখিত আবেদন খানাও ব্যাগে নিয়ে ঢাকা গেলাম। দাপ্তরিক প্রয়োজনে মন্ত্রণালয়ে প্রবেশ করেছি। সুভাগ্য বশত: এমপি মোস্তাক আহামদও শাহজাহান চৌধুরী এমপিও সাহেবকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের লিপ্ট থেকে নামতে দেখেছি। আমি দৌড়ে গিয়ে উনারা দু’জনের সামনে গিয়ে হাজির হলাম এবং সালাম দিয়ে বললাম, এমপি মোস্তাক সাহেবকে উদ্দেশ্যে বললাম, আমি উখিয়া থেকে এমপি মোস্তাক আহামদ সাহেবের সাথে দেখা করা ও একটি আবেদন দেয়ার জন্য ঢাকা এসেছি। তারপর এমপি মহোদয়ের বরাবরে লিখিত আবেদন খানা শাহজাহান চৌধুরী এমপি সাহেবকে দিলাম। উনি আবেদন খানা ভাল করে পড়ে মোস্তাক এমপি মহোদয়কে দিলেন এবং বললেন আসলে কলেজ শিক্ষার্থীর জন্য খুব বেশী দরকার একটি যাত্রী ছাউনি। শাহজাহান চৌধুরী এমপি মোস্তাক এমপিকে বললেন- আপনারতো সুযোগ আছে, সম্ভব হলে উখিয়া কলেজ গেইটের জন্য যাত্রী চাউনিটি দিয়ে দেন। আমার সানুনয় অনুরোধ থাকলো। তখন এমপি মোস্তাক সাহেব অনির্মিত যাত্রী ছাউনিটি উখিয়া কলেজ গেইটে করার নির্দেশ দিলেন জেলা পরিষদকে। আমি ফরওয়ার্ড করা আবেদনটি উখিয়া এসে শেখ শাহাব উদ্দিনকে দিলাম, উনি ১৫ দিনের মধ্যে টেন্ডার করিয়ে নিজে কন্ট্রাক নিলেন। শেখ শাহাব উদ্দিন কাজ করার মাস খানিক পরে কে বা কারা এসে যাত্রী ছাউনিতে বসার যে সিট করেছিল ঐ সিট গুলি ভেঙ্গে দিয়েছেন, পরে আমি খবর পেয়েছি কারা ভেঙ্গেছে। এই মুহুর্তে বললাম না। বিষয়টি শেখ শাহাব উদ্দিনকেও বলেছি, উনি দুঃখ প্রকাশ করল, কাজের মানও ভাল ছিল না। শেখ শাহাব উদ্দিন সাহেব বললেন আমার উপর বাটপারী করে কাজের মান খারাপ করে দিয়েছে সত্য, যাকে বিশ্বাস করে কাজটি করার জন্য দায়িত্ব দিয়েছিলাম তিনি সর্বনাশটি করেছে। আমার থেকে ঠিকই টাকা নিয়েছেন, আমার উপর বাটপারী করে কাজের মানটি নিন্মমানের করেছে, আসলে আমি অন্যান্য কাজে ব্যস্ত থাকাতে কাজটি নিজে করতে পারিনি, তারপরও যাত্রী ছাউনি যে করেছেন সে জন্য শেখ শাহাব উদ্দিনকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন। এরপর শেখ শাহাব উদ্দিনের নিজের সন্তানকে উখিয়া কলেজে ভর্তি করিয়েছিল।

শেখ শাহাব উদ্দিনের সন্তানরা কলেজ থেকে চলে যাওয়ার পূর্বে মুহুর্তে উখিয়া কলেজের সকল শিক্ষক-কর্মচারীগণকে খুব ভালো করে এক বেলা খাবার খাওয়াইছিল। সে কারণে আজকের দিনে শেখ শাহাব উদ্দিনকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। তাছাড়াও আমাকে বিভিন্ন কাজে বুদ্ধি পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করতেন এবং বিভিন্ন সাহস যোগিয়েছিলেন।

কলেজের পক্ষ থেকে মুজিব গ্যাং এর বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছিল, সেখানে তার ছোট ভাই গিয়াস উদ্দিন মিন্টুও ছিল। আমার সামনে ছোট ভাইকে গালি দিতে দেখেছি। কেমন শিক্ষিত লোক কলেজ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে অপমান করতে পারে। এ সমস্ত মানুুষের জীবনে উন্নতি কিভাবে হবে। নিজের কপালের দোষ, শিক্ষককে অপমান করতে দ্বিধা বোধ করলো না। যাত্রী ছাউনি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব ছিল জেলা পরিষদের, মসজিদের কিনারায় যাত্রী ছাউনিটি হয়েছে বলে জেলা পরিষদ থেকে নামে মাত্র টাকা দিয়ে মসজিদের নামে লিজ নিয়ে মসজিদকে নিয়ে দিয়েছিল বহুদিন।

ভাইস প্রিন্সিপালসহ তদন্ত দলের সবাই বিভিন্ন জায়গায় বলেছেন যাত্রী ছাউনি ভাড়া দিয়ে টাকাটা অধ্যক্ষের পকেটে নিয়ে নেন। তাহা মিথ্যা কথা বলেছেন মসজিদের নামে লিজ নিয়েছিলাম, অন্য মানুষকে ভাড়া দিয়ে টাকাটা মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিনের বেতন বাবদ খরচ করা হতো। ভাইস প্রিন্সিপাল সাহেবসহ মিলে যাত্রী ছাউনিটি মসজিদ থেকে অনেকটা কেড়ে নিয়ে আনিসুর রহমান, পিতা- সেক্রেটারী সিকান্দরকে দিয়ে দেয় এবং পূর্বের ভাড়াটিয়াকে বের করে দেয়া হয়।

বিশ^স্থ সূত্রে জেনেছি এডভোকেট শাহজালাল চৌধুরীসহ মিলে যাত্রী ছাউনি আনিসুর রহমানকে নিয়ে দিয়েছেন। যাতে অধ্যক্ষ ফজলুল করিমের কর্তৃত্ত্ব খর্ব হয়ে যায়। ভাগ্য ভালো অধ্যক্ষ ফজলুল করিম হাইকোট, সুপ্রিম কোর্ট জয় করে আবার স্বপদে বহাল তবিয়তে ফিরে এসেছিল। কিন্তু যাত্রী ছাউনি আনিসুর রহমান থেকে ফিরিয়ে নেননি। আল্লাহর রহমতে মসজিদতো আল্লাহর রহমতে চলে যাচ্ছে ভালোভাবে। চলবে…