ঢাকা, , মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০

উখিয়া কলেজের ইতিকথা : পর্ব-১৩

প্রকাশ: ২০২০-০৭-২৮ ১৮:৫৭:০২ || আপডেট: ২০২০-০৭-২৮ ১৮:৫৭:০২

এম. ফজলুল করিম ॥
১৯৯৩ সনের শেষের দিকে অর্থাৎ নভেম্বর/ডিসেম্বর ১ম দিকে হতে পারে। আমি চট্টগ্রাম শহর থেকে এম.পি শাহজাহান চৌধুরী মহোদয়ের সাথে ফোনে আলাপ করার জন্য প্রায় রাত ১০.৩০ টায় টিএন্ডটি অফিসে গিয়ে এম.পি মহোদয়কে টেলিফোন করে দরকারী কথা শেষ করলাম। আলাপের শেষের দিকে শাহজাহান চৌধুরী এম.পি মহোদয় আমাকে বললেন ‘ফজলুল করিম’ এখন কলেজের স্থান নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। স্থানটি পরিবর্তন করে উখিয়া ষ্টেশনের উত্তর পার্শ্বের যে কোন একটি স্থানে করলে ভাল হয়।

আমি বললাম, আমরাতো ১৯৯১, ১৯৯২, ১৯৯৩ মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত প্রাণপণ চেষ্টা করেছিলাম। কলেজটি উখিয়া ষ্টেশনের উত্তরে করার জন্য কিন্তু কোন সুযোগ কিংবা জায়গা না পেয়ে বাধ্য হয়ে শৈলেরঢেবা অঞ্চলে কলেজ করেছি। বিজ্ঞান ভবনের টেন্ডার হয়ে গেছে। কাজ শুরু হয়েছে এবং আমরা কলেজের শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে শহীদ ইলিয়াছ মিয়া গণপাঠাগার থেকে ‘ব্যাগ এন্ড ব্যাগেইচ’ শৈলেরঢেবাস্থ টিনের ছাউনি বাঁশের বেড়ার ঘরে চলে এসেছি। এখানে শিক্ষার্থী প্রতিনিয়ত নিয়মিত ক্লাশ করেছেন। সুতরাং এ মুহুর্তে তাদেরকে নিয়ে টানা হেছড়া করা ঠিক হবে না, সামনে তাদের পরীক্ষা। আমি আপনার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কথা বলতে চাইনা।

উখিয়া কলেজ অন্য কোন স্থানে চলে গেলেও, আমি বাবু বিধু ভূষণ বড়–য়ার ভূমির উপর প্রতিষ্ঠিত কলেজে থেকে যাব, অন্য কোথাও যাব না। অন্য আর একজন অধ্যক্ষ নিয়োগের মাধ্যমে আপনার ইচ্ছে মতো স্থানে কলেজ করা শুরু করেন। উখিয়া আরও কলেজের প্রয়োজন রয়েছে। আপনি চেষ্টা করলে কলেজ দ্রুত এগিয়ে যাবে। আপনার সাথে থাকতে পারব না আর কি। এমপি মহোদয়ে এক নাগাড়ে আমার কথা গুলো শুনে নিয়েছেন। কিন্তু কোন উত্তর দেননি এবং বাক বিতন্ডাও করেননি। যখন টেলিফোন করা শেষ হল, উল্টা রিং আসল আমি টেলিফোন রিসিভ করলাম। উখিয়া কলেজের অধ্যক্ষ সাহেব আছেন? আমি বললাম ‘বলছি’, তিনি নিজের পরিচয় দিলেন বললেন, আমি টিএন্ডটির লোক, আমি খুব ভালো করে এমপি শাহজাহান সাহেবের সাথে যে কথা গুলো বলেছেন, ধীরে আস্তে এত কড়া কড়া কথা বললেন, আপনাকে বোধ হয়, খুব ভালবাসে ? আপনি ঠিকই ধরেছেন, আসলে এমপি সাহেব আমাকে আন্তরিক ভাবে ভালবাসেন মনে হয়। আমি কি কি কথা গুলি বলেছি সেগুলো আপনিও শুনেছেন কিন্তু তিনি আমাকে কোন রাগতস্বরে বাক-বিতন্ডা মোটেও করেনি, আমার কথা গুলো মন দিয়ে শুনে নিয়েছেন শুধু।

পরের দিন বাড়ীতে এসে দরগাহবিলের জালাল আহমদ, কুতুপালং এর বাদশাহ মিয়া সহ আরো কয়েকজনের সাথে এমপি মহোদয়ের কথা গুলি বলেছি। তারা বিষয়টির ব্যাপারে এম.পি শাহজাহান চৌধুরীর কথার সাথে একমত পোষণ করেননি। যদিও আমি এমপি শুন্য হয়ে যাচ্ছি, সে কারণে একটু চেস্টা চালিয়েছি আমার বক্তব্যের পক্ষে। উখিয়াস্থ বি.এ সিরাজ সাহেবকে বিষয়টি বলেছিলাম, উনি বললেন প্রথম পর্যায়ে উনি চেষ্টা করলে হিজলিয়াতে ‘কলেজ’ করার জন্য জমি নিতে পারতেন কলেজ শুরু করে তিন বছর পরে এসে গুরুত্বটা বুঝতে পারলেন নাকি?

১৯৯১ সনের ২৪ ডিসেম্বর আমি সর্ব প্রথম শহীদ মাষ্টার ইলিয়াছ মিয়াগণ পাঠাগারে চারটি চেয়ার তিন পাওয়ালা একটি টেবিল উখয়া কলেজের অস্থায়ী অফিস এর সাইন বোর্ড দিয়ে বসলাম। কলেজের পাঠদান শুরু করার ২০ দিনের মধ্যে উখিয়াস্থ মুজিবুল হক আজাদ এর নেতৃত্বে শেখ মিন্টু, বর্তমান প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হারুণ আরো দুইজন ছিল কলেজ শিক্ষার্থীর সাথে ইভটিজিং এবং কলেজ শিক্ষকের সাথে দু:ব্যবহার করেছেন। যার কারণে থানায় মামলা করতে হয়েছে। সেই আজ অবধি উখিয়া কলেজের বিরোধিতা করতে লেগেই আছেন।

২০১৪ সালে মসজিদের উত্তর পাশের্^র দুই কানি জমি দখল করে নিল। আরো বলেছিল এই ভূমি দখল করার জন্য অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী পাঠিয়েছেন। বিষয়টি সত্যতাও খুজে পেয়েছিলাম। আলী চান মেম্বারকে সাহায্য করার জন্য ঘটনাটি আলী চাঁন মেম্বারকে সাহার্য্য করার জন্য ঘটনাটি ঘটিয়েছিল। সিকান্দর এর ছেলে আনিসুর রহমান ল্যাট্রিনের চাঁকা তৈরি করার জন্য ভাড়া দিয়েছিল তাকে আলহাজ¦ আবদুর রহমান বদি, (সাবেক এমপি) নিষেধ করেছেন এবং আনিস সেখানে আর কোন কাজ করতেছেনা। আনিস উখিয়া কলেজের প্রাক্তন ছাত্র। তার চিন্তা ভাবনায় সন্ত্রাসী মনোভাব দেখিনি। আমার সাথে সম্পর্ক ভালো। তাঁকে মসজিদ থেকে কিছু ভূমিও ভাড়া দিয়েছি। ৫ বৎসরের জন্য। সেখানে টমটমে চার্জ করায়। ল্যাট্রিনের চাকা নির্মাণ করে আর কি? প্রায় তিন বছর চলে যাচ্ছে ভাড়া শেষ হলে সেখানে দোকানগৃহ নির্মাণ করে দিব। ভাড়াটা মসজিদ মাদ্রাসায় খরচ করব।

জনাব মীর কাশেম মেম্বার আমার আর একজন শুভাকাঙ্খী, আত্মীয়তার বন্ধনও আছে। কথায় বার্তায়, চলাফেরায় অনেক সাহায্য করেছেন। আমাকে, উনার সাথে আর একজন আছেন ডালিম সিরাজ, সে বিভিন্ন সময় বুদ্ধি, পরামর্শ ও সাহায্য যুগিয়েছিল। বেচারা অকাল বয়সে প্রয়াত। বি.এ সিরাজ, মীর কাশেম মেম্বারও প্রয়াত। তাঁদেরকে আল্লাহ তালা বেহেস্ত নসিব করুন।

আলী মেম্বার সাহেব ও শৈলেরঢেবাতে কলেজ করার ব্যাপারে আমাকে ব্যক্তিগত ভাবে সাহায্য সহযোগিতা ও সাহস যুগিয়েছেন। প্রাইমারী শিক্ষক মাষ্টার বদিউর রহমান আমার প্রতিবেশী। তিনি সব সময় কি যেন কারণে আমার বিরোধিতা করতেন। বিরোধীপক্ষরা প্রতিবাদ সভা করলে তাদেরকে চাঁদা দিয়ে সহযোগিতা করতেন। আমার বিরুদ্ধে ১৪টি প্রতিবাদ সভা করেছেন। তার স্ত্রী কিন্তু আমার ছাত্রী, খুব ভাল মেয়ে ফকির আহাম্মদ চৌধুরীর মেয়ে। ফকির আহাম্মদ চৌধুরী উখিয়া কলেজ নির্মাণের একজন সহযোদ্ধা ও ভালো মানুষ। প্রভাবশীল সহযোদ্ধা ছিলেন মোজাহের হাজী সাহেব। উনি আমাদের সাথে সব সময় একাত্মতা থাকতেন। আর এক প্রিয় মানুষ নুরুল হক সিকদার। আমার প্রিয় একজন মোজাহের হাজী ও নুরু সিকদার। আল্লাহ তাদেঁরকে বেহস্ত নসীব করুন। চলবে….

লেখক : প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ (অব:), উখিয়া কলেজ।